০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

উপাচার্যকে ডাকসু নেতার ৬ প্রস্তাব

গণরুম সমস্যার সমাধানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বরাবর ছয়টি প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর)  স্মারকলিপি জমা দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ব্যর্থ। প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশাসন এ কাজে ব্যর্থ হয়েছে। গণরুমের মত কৃত্রিম সমস্যা তৈরীর পুরো দায়ভার প্রশাসনের। গণরুম যতটা না রাজনৈতিক কারনে তার চেয়েও বেশি প্রশাসনিক কারনে।

স্মারকলিপিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৮-১০ জনের রুমে যখন পর্যাপ্ত সিটের অভাবে ৩০-৪০ থাকে তখন সেখানে যেমন ঘুমানো যায় না, তেমনি পড়ালেখাও হয়না। গণরুমে পঁচতে থাকা এ প্রজন্ম যখন দেশের হাল ধরবে তখন দেশ যে ভুল পথে এগোবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অন্যদিকে রাজনীতিও বিষিয়ে উঠবে অযোগ্য লোকদের ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্বে।

তাই আপদকালীন সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ছয়টি প্রস্থাবনা তুলে ধরেন। তার প্রস্তাবগুলো হলো :

১. গণরুমে পর্যাপ্ত বাংক বেডের ব্যবস্থা করতে হবে। দোতলা এই বেডগুলো স্থাপনের মাধ্যমে চারটি বেডে শিক্ষার্থী অপেক্ষাকৃত সুন্দরভাবে অবস্থান করতে পারবে। এবং সেখানে তাঁদের পড়াশোনা করার পরিবেশ বজায় থাকবে।

২. এছাড়া গণরুমে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে হবে। প্রতিটি গণরুমে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি শিক্ষার্থী রাখা যাবে না।

৩. বাড়তি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য বাংক বেডের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ে হলসংখ্যা এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। শিক্ষক-কর্মচারী জন্য বহুতল আবাসনের প্রকল্প আমরা সাধুবাদ জানাই কেননা তাঁদের অধিকার আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, তাদের আবাসনের দিকেও সমান দৃষ্টি দিয়ে নতুন হল নির্মাণ করতে হবে।

৫. যেহেতু শিক্ষার্থী অনুযায়ী হলসংখ্যা বাড়ছে না তাই বিশ্ববিদ্যলয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির আসন সংখ্যা কমিয়ে পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করে উন্নত শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে বহিরাগত মুক্ত করতে হবে।

এর আগে আবাসিক হলের বৈধ সিট ছেড়ে গণরুমে থাকার ঘোষণা দেন এই নেতা। গত কয়েকদিন যাবত তিনি তার হলের সিট ছেড়ে গণরুমেই থাকছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

উপাচার্যকে ডাকসু নেতার ৬ প্রস্তাব

প্রকাশিত : ০৪:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গণরুম সমস্যার সমাধানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বরাবর ছয়টি প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর)  স্মারকলিপি জমা দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ব্যর্থ। প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশাসন এ কাজে ব্যর্থ হয়েছে। গণরুমের মত কৃত্রিম সমস্যা তৈরীর পুরো দায়ভার প্রশাসনের। গণরুম যতটা না রাজনৈতিক কারনে তার চেয়েও বেশি প্রশাসনিক কারনে।

স্মারকলিপিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৮-১০ জনের রুমে যখন পর্যাপ্ত সিটের অভাবে ৩০-৪০ থাকে তখন সেখানে যেমন ঘুমানো যায় না, তেমনি পড়ালেখাও হয়না। গণরুমে পঁচতে থাকা এ প্রজন্ম যখন দেশের হাল ধরবে তখন দেশ যে ভুল পথে এগোবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অন্যদিকে রাজনীতিও বিষিয়ে উঠবে অযোগ্য লোকদের ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্বে।

তাই আপদকালীন সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ছয়টি প্রস্থাবনা তুলে ধরেন। তার প্রস্তাবগুলো হলো :

১. গণরুমে পর্যাপ্ত বাংক বেডের ব্যবস্থা করতে হবে। দোতলা এই বেডগুলো স্থাপনের মাধ্যমে চারটি বেডে শিক্ষার্থী অপেক্ষাকৃত সুন্দরভাবে অবস্থান করতে পারবে। এবং সেখানে তাঁদের পড়াশোনা করার পরিবেশ বজায় থাকবে।

২. এছাড়া গণরুমে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে হবে। প্রতিটি গণরুমে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি শিক্ষার্থী রাখা যাবে না।

৩. বাড়তি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য বাংক বেডের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ে হলসংখ্যা এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। শিক্ষক-কর্মচারী জন্য বহুতল আবাসনের প্রকল্প আমরা সাধুবাদ জানাই কেননা তাঁদের অধিকার আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, তাদের আবাসনের দিকেও সমান দৃষ্টি দিয়ে নতুন হল নির্মাণ করতে হবে।

৫. যেহেতু শিক্ষার্থী অনুযায়ী হলসংখ্যা বাড়ছে না তাই বিশ্ববিদ্যলয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির আসন সংখ্যা কমিয়ে পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করে উন্নত শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে বহিরাগত মুক্ত করতে হবে।

এর আগে আবাসিক হলের বৈধ সিট ছেড়ে গণরুমে থাকার ঘোষণা দেন এই নেতা। গত কয়েকদিন যাবত তিনি তার হলের সিট ছেড়ে গণরুমেই থাকছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ