ঢাকা: জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা বলেছেন , ‘ভালো ঘুম হবে যদি তুমি মানুষের জন্য সেবা মূলক কিছু কর ’। সম্প্রতিে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ অফিসে এক আড্ডায় একথা বলেছেন ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ খ্যাত এই তারকা কণ্ঠশিল্পী।
বাস্তবতার নিরিখে সালমা প্রসঙ্গ টেনে সালমা হাসতে হাসেতে বলেন, ‘সত্যিই বলছি আপনারা মন থেকে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করুন সত্যিই রাতে ঘুম হবে। আমার হচ্ছে। এসময় সঙ্গে আড্ডায় ছিলেন সালমার স্বামী আইনজীবি সানাউল্লাহ নূর সাগর। তিনিও সালমার সঙ্গে একমত পোশন করেন।
সালমা এরইমধ্যে নিজের মেয়ের নামে গঠন করেছেন একটি ফাউন্ডেশন যার নাম ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশন ফর এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট’। শিশুদের শিক্ষার প্রসারে কাজ শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে সালমা কোমলমতি শিশুদের জন্য সহযোহিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সংস্থার মাধ্যমেই শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন সালমা ও সাগর দম্পতি।

সম্প্রতি ময়নসিংহের হালুয়াঘাট বড়দাসপাড়ায় ৩০০ শিশুকে শিক্ষা উপকরণ, খাদ্যসামগ্রী ও খেলনা প্রদান করেছেন সালমা। এরপরই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন। আর এটাকেই নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন জনপ্রিয় এই গায়িকা।
সালমা বলেন, নতুন এই অধ্যায়ের সূচনায় পুরোটুকু কৃতিত্ব আমার স্বামী সাগরের। ওই আমাকে ইন্সপায়ার করে এই মহৎ কাজে নামিয়েছে। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ সাগরের প্রতি। গর্বিত এই কাজটি শুরু করতে পেরে।
শিশুদের নিয়ে প্রথম কাজ করার অনুভুতি জানাতে গিয়ে সালমা বলেন, জানেন খাতা-কলম, খেলনা ও খাবার পেয়ে শিশুদের মুখে যে মায়ামাখা হাসি দেখেছি তা ভেবে রাতে শান্তির ঘুম হয়। সালমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাগর বলেন, সালমা সত্যিই বলেছে, আপনারাও অসহায় মানুষের জন্য কিছু করে দেখেন সত্যিই আমাদের মতো আপনাদেরও রাতে ভালো ঘুম হবে।

অবশ্য সালমার এই গর্বকরা কাজটির প্লান প্রথম মাথায় এসেছে সালমার স্বামী সাগররের মাথা থেকে। পাশেই বসা ছিলেন সাগর। কিভাবে এই প্রানটি মাথায় এলো তাকে প্রশ্ন করতেই সাগর বললেন, সালমা শিল্পী, যতদিন ভালো গাইতে পারবে ততদিন তাকে মানুষ মনে রাখবে যখন আর গাইবে না তখন সে হারিয়ে যাবে তো কিভাবে চিরদিন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবে এই ভাবনা থেকেই মাথায় এলো সামাজিক সেবা করার ফাইন্ডেশন করার। এই তো, সালমার সঙ্গে পরামর্ ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশন’ শুরু করি। অবশ্য আমি লন্ডনে পড়াশুনা করার সময়ও সেখানে নানা সামাজিক কাজ করেছি। ছোট বেলা থেকেই অসহায় মানুষের জন্য মন কাঁদতো। এই ফাউন্ডেশনটির মাধ্যমে অসহায় মানুষের সেবা করার ইচ্ছে কিছুটা হলেও করতে পারবো।
এবার ফাউন্ডেশনটি নিয়ে সামনের পরিকল্পনা নিয়ে সালমা বলেন, আগামী ৭ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের তারাশে ১৫০ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি শিশুকে বই খাতার পাশাপাশি খাবার দেব। এছাড়া ইচ্ছে আছে প্রতিটি জেলায় অসহায় শিশুদের পাশে দাড়ানোর। তাদের সাধ্যমত সেবাদান করার। শিশুদের সেবায় বাকি জীবনটা আমি ও আমার স্বামী মিলে শিক্ষা নিয়ে একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ। আমাদের ক্ষুদ্র মানুষের প্রচেষ্টা যদি সামান্য হলেও শিশুদের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেটাই হবে পরম পাওয়া।
সেই সাথে সাগর যোগ করলে এতো বিশাল দায়িত্ব আমাদের একার পক্ষে করা কঠিন । সমাজের বিত্তবান মানুষদের কে আহবান করবো তারা যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

সালমা এবং সাগর দুজন দুই পেশার, কাজের সমন্বয় করেন কিভাবে? এবার সালমা আগ বাড়িয়ে বললেন, সব প্লানিং সাগরই করে শুধু ফাউন্ডেশন নয়, আমার, বাচ্চার ভাবো-মন্দ দেখা , আমাকে পড়া-শুনা করানো, বিভিন্ন শোতে আমার দেখা-শুনা, প্রগ্রাম সাজানো সবই ওকরে। অবশ্য সব ব্যাপরে সাগর আমার সঙ্গে শেয়ার করে। দুজনে মিলেই সিদ্ধান্ত নিই।
এবার সাগর যোগ করলেন, সংসার বলেন আর ব্যবসা বা সংগঠন বলেন, সুন্দর শেয়ারিং না থাকলে সেটি এগিয়ে নেওয়া খুবই কষ্টকর। অবশ্য এদিক দিয়ে আমাদের বোঝাপড়াটা খুবই ভালো। আমরা দুজন দুজনকে বুঝি।
এবার আগামীর ভাবনা নিয়ে এই দম্পতি বলেন, দেশব্যাপি কাজ করতে চাই। শিশুদের শিক্ষায় অবদান রাখতে চাই।
কুষ্টিয়ার মেয়ে মৌসুমী আক্তার সালমা । সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’-এর দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত গানের সঙ্গে যুক্ত রেখেছেন নিজেকে। পেয়েছেন জনপ্রিয়তা।

২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর রিয়েলিটি শো ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতা ‘ক্লোজআপ-তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন কুষ্টিয়ার মেয়ে মৌসুমি আক্তার সালমা। সে সময় সালমার ‘স্টেশনের রেল গাড়ীটা’ শিরোনামের গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
দীর্ঘ ১৩ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারে অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন সালমা। অসংখ্যা জনপ্রিয় সুরকার ও গীতিকারে লেখা ও সুরে গান করেছেন সালমা । সংসার এবং মানবিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পী।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ
























