০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নতুন নীতিমালার পক্ষে আছি: শাকিব খান

চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সময়ের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান।

১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির এক চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত এক নতুন নীতিমালা নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করে। চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে প্রণীত নীতিমালাই ছিল সেই আয়োজনের মূল বিষয়। সেখানে শাকিব উপস্থিত থেকে জানান, নতুন নীতিমালার পক্ষে আছেন তিনি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ও চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এমপি, চিত্রনায়ক আলমগীর, প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, পরিচালক সমিতির সবাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, সাধারন সম্পাদক বদিউল আলম খোকনসহ চলচ্চিত্রের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ১৮টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভাটি নিয়ে প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমরা চেয়েছি চলচ্চিত্র নির্মাণ যেন একটা নিয়মের মধ্যে হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। শিল্পী ও কলাকুশলীরা এ বিষয়ে বেশ আন্তরিক। ইতোমধ্যে আমরা লাইটম্যানসহ বেশকিছু সমিতির মূল্যও নির্ধারণ করেছি। আর এ মুহূর্তে শাকিব চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক। শাকিব খান বলেছেন, তিনি ইতোমধ্যে নীতিমালা মেনে ছবি নির্মাণ ও অভিনয় করছেন। সামনেও এ নীতিমালা মেনে চলবেন। এটা আমাদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বড় অর্জন।’

চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি গত বছরের ৬ অক্টোবর চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনের ২০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ–সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেন। যা গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রায়ই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শিল্পীদের বিরুদ্ধে শুটিং সেটে দেরিতে আসার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ আসে সিডিউল ফাঁসানোরও। অন্যদিকে ঢালিউডের টানাটানির সংসার (বাজেট/সম্মানী) নিয়েও রয়েছে নানা সংকট। মূলত এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলো। অবশেষে সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেন স্বয়ং শাকিব খান নিজেই।

চলচ্চিত্র নির্মাণ–সংক্রান্ত নীতিমালায় যা যা আছে —

১. এক লাখ টাকার ওপরে যাদের পারিশ্রমিক, তারা কোনও যাতায়াত ভাতা পাবেন না।
২. কলাকুশলীদের অবশ্যই প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রথম কিস্তিতে ২৫ ভাগ, পরে কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বাকি ৭৫ ভাগ তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
৩. সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিংয়ের সময়। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি। কোনও শিল্পী বা কলাকুশলী যদি সময়মতো না আসেন, তার জন্য সময়মতো শুটিং শুরু করা সম্ভব না হলে এই ক্ষতিপূরণ তাকেই বহন করতে হবে। কিন্তু শিল্পী আসার পরও যদি নির্দিষ্ট সময়ে ক্যামেরা চালু করা না হয়, তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ দেবেন পরিচালক।
৪. পোশাকের জন্য কোনও শিল্পীকে টাকা দেওয়া হবে না। গল্পের প্রয়োজনে তা প্রোডাকশন থেকে তৈরি করে দেওয়া হবে। শুটিং শেষে প্রযোজকের কাছে পোশাক ফেরত দিতে হবে। কোনও পোশাক শিল্পীর পছন্দ হলে সেই পোশাক তৈরি খরচ দিয়ে শিল্পী নিতে পারবেন।
৫. নায়ক, নায়িকা, ভিলেন (প্রধান চরিত্রে) একজন করে সহযোগী নিতে পারবেন। এর ব্যয়ভার প্রোডাকশন থেকে বহন করা হবে। অতিরিক্ত কাউকে প্রোডাকশন বহন করবে না।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির মতবিনিময় সভার একাংশ৬. ছবির প্রচারণায় প্রধান শিল্পীকে ছবি মুক্তির আগে ৫ দিন সময় দিতে হবে।
৭. আউটডোরে অবস্থানের সময় সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহক যাতায়াতের অর্ধেক হাতখরচ বাবদ পাবেন।
৮. যেসব কলাকুশলী দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে পারিশ্রমিক পান, তারা আউটডোরেও সেই পরিমাণ পারিশ্রমিক পাবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাসভাড়া কত বাড়বে জানা যাবে বৃহস্পতিবার

নতুন নীতিমালার পক্ষে আছি: শাকিব খান

প্রকাশিত : ০৯:২৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২০

চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সময়ের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান।

১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির এক চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত এক নতুন নীতিমালা নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করে। চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে প্রণীত নীতিমালাই ছিল সেই আয়োজনের মূল বিষয়। সেখানে শাকিব উপস্থিত থেকে জানান, নতুন নীতিমালার পক্ষে আছেন তিনি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ও চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এমপি, চিত্রনায়ক আলমগীর, প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, পরিচালক সমিতির সবাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, সাধারন সম্পাদক বদিউল আলম খোকনসহ চলচ্চিত্রের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ১৮টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভাটি নিয়ে প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমরা চেয়েছি চলচ্চিত্র নির্মাণ যেন একটা নিয়মের মধ্যে হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। শিল্পী ও কলাকুশলীরা এ বিষয়ে বেশ আন্তরিক। ইতোমধ্যে আমরা লাইটম্যানসহ বেশকিছু সমিতির মূল্যও নির্ধারণ করেছি। আর এ মুহূর্তে শাকিব চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক। শাকিব খান বলেছেন, তিনি ইতোমধ্যে নীতিমালা মেনে ছবি নির্মাণ ও অভিনয় করছেন। সামনেও এ নীতিমালা মেনে চলবেন। এটা আমাদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বড় অর্জন।’

চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি গত বছরের ৬ অক্টোবর চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনের ২০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ–সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেন। যা গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রায়ই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শিল্পীদের বিরুদ্ধে শুটিং সেটে দেরিতে আসার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ আসে সিডিউল ফাঁসানোরও। অন্যদিকে ঢালিউডের টানাটানির সংসার (বাজেট/সম্মানী) নিয়েও রয়েছে নানা সংকট। মূলত এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলো। অবশেষে সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেন স্বয়ং শাকিব খান নিজেই।

চলচ্চিত্র নির্মাণ–সংক্রান্ত নীতিমালায় যা যা আছে —

১. এক লাখ টাকার ওপরে যাদের পারিশ্রমিক, তারা কোনও যাতায়াত ভাতা পাবেন না।
২. কলাকুশলীদের অবশ্যই প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রথম কিস্তিতে ২৫ ভাগ, পরে কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বাকি ৭৫ ভাগ তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
৩. সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিংয়ের সময়। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি। কোনও শিল্পী বা কলাকুশলী যদি সময়মতো না আসেন, তার জন্য সময়মতো শুটিং শুরু করা সম্ভব না হলে এই ক্ষতিপূরণ তাকেই বহন করতে হবে। কিন্তু শিল্পী আসার পরও যদি নির্দিষ্ট সময়ে ক্যামেরা চালু করা না হয়, তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ দেবেন পরিচালক।
৪. পোশাকের জন্য কোনও শিল্পীকে টাকা দেওয়া হবে না। গল্পের প্রয়োজনে তা প্রোডাকশন থেকে তৈরি করে দেওয়া হবে। শুটিং শেষে প্রযোজকের কাছে পোশাক ফেরত দিতে হবে। কোনও পোশাক শিল্পীর পছন্দ হলে সেই পোশাক তৈরি খরচ দিয়ে শিল্পী নিতে পারবেন।
৫. নায়ক, নায়িকা, ভিলেন (প্রধান চরিত্রে) একজন করে সহযোগী নিতে পারবেন। এর ব্যয়ভার প্রোডাকশন থেকে বহন করা হবে। অতিরিক্ত কাউকে প্রোডাকশন বহন করবে না।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির মতবিনিময় সভার একাংশ৬. ছবির প্রচারণায় প্রধান শিল্পীকে ছবি মুক্তির আগে ৫ দিন সময় দিতে হবে।
৭. আউটডোরে অবস্থানের সময় সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহক যাতায়াতের অর্ধেক হাতখরচ বাবদ পাবেন।
৮. যেসব কলাকুশলী দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে পারিশ্রমিক পান, তারা আউটডোরেও সেই পরিমাণ পারিশ্রমিক পাবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ