০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মানহীন তেল বাজারজাত থেকে সরে আসছে বিপিসি

ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে মানহীন তেল বাজারজাত করার পথ থেকে সরে আসছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতদিন পেট্রোল, অকটেন এবং ডিজেলের মান সনদ গ্রহণ না করেই বিক্রি করেছে সরকারি সংস্থাটি।

এবার মান রক্ষার পর নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সনদ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আর বিপিসি মান সনদ গ্রহণ করেছে কি না তা আগামী এক মাসের মধ্যে জানাতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

দেশে ব্যবহৃত প্রধান তিনটি জ্বালানি তেল অকটেন, পেট্রোল এবং ডিজেল। এর মধ্যে চাহিদার চেয়েও বেশি পেট্রোল এবং অকটেন দেশেই উৎপাদিত হয়। কিন্তু দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের উপজাত (কনডেনসেট) পরিশোধন করে পাওয়া এ দুই জ্বালানির একটিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়।

এই দুই জ্বালানির পাশাপাশি আমদানিনির্ভর ডিজেলে নিম্নমানের পেট্রোল মিশিয়েও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়। এতে তেলচালিত গাড়ির এবং কৃষিক্ষেত্রে সেচ পাম্পের যন্ত্রের কার্যক্ষমতা ও জীবনসীমা কমছে। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও।

আইন অনুযায়ী বাজারজাত করার আগেই পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মান পরীক্ষা করে বিএসটিআই থেকে সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিপিসি কখনোই এ মান পরীক্ষা করায়নি এবং সনদ নেয়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতক সময়েও মানহীন ও ভেজাল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।

এ নিয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর ‘ভেজাল জ্বালানি তেল বিক্রি করছে বিপিসি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর মানসম্পন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিন আইনজীবী। গত ২৭ জানুয়ারি আদালত বিপিসিকে বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান সনদ গ্রহণ করে বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছে। দুই সংস্থাকেই আগামী এক মাসের মধ্যে তা নিশ্চিত করে হাইকোর্টকে জানাতে হবে।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিপিসি এবং পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জ্বালানি বিভাগ। বৈঠকে মানসম্পন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে আগামীতে মান রক্ষা করে তেল সরবরাহ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দুই সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসক্ষেত্রগুলোর কনডেনসেট ফ্রাকসনেশন প্লান্টে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কিন্তু এগুলো শুধু ফ্রাকসনেশন (উপজাত থেকে জ্বালানি পণ্য তৈরি) করছে। নির্দিষ্ট মানদণ্ড রক্ষা করে পরিশোধনের ক্ষমতা এগুলোর নেই।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি খাতের তিনটি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি রিফাইনারি (কনডেনসেট ফ্রাকসনেশন প্লান্ট) পেট্রোবাংলার কাছ থেকে কনডেনসেট গ্রহণের পর প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, সলভেন্ট, মোটর স্প্রিট, কেরোসিন সুপিরিয়র অয়েল, মিনারেল তারপেনটাইনসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে।

বেসরকারি রিফাইনারিগুলো পেট্রোবাংলার কাছ থেকে কনডেনসেট নিয়ে তা পরিশোধনের পর বিপিসির কাছে বিক্রি করে। কিন্তু কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত না করে সরাসরি বিভিন্ন অয়েল ফিলিং স্টেশনে ও চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

মানহীন তেল বাজারজাত থেকে সরে আসছে বিপিসি

প্রকাশিত : ১০:৫০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

অবশেষে মানহীন তেল বাজারজাত করার পথ থেকে সরে আসছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতদিন পেট্রোল, অকটেন এবং ডিজেলের মান সনদ গ্রহণ না করেই বিক্রি করেছে সরকারি সংস্থাটি।

এবার মান রক্ষার পর নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সনদ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আর বিপিসি মান সনদ গ্রহণ করেছে কি না তা আগামী এক মাসের মধ্যে জানাতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

দেশে ব্যবহৃত প্রধান তিনটি জ্বালানি তেল অকটেন, পেট্রোল এবং ডিজেল। এর মধ্যে চাহিদার চেয়েও বেশি পেট্রোল এবং অকটেন দেশেই উৎপাদিত হয়। কিন্তু দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের উপজাত (কনডেনসেট) পরিশোধন করে পাওয়া এ দুই জ্বালানির একটিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়।

এই দুই জ্বালানির পাশাপাশি আমদানিনির্ভর ডিজেলে নিম্নমানের পেট্রোল মিশিয়েও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়। এতে তেলচালিত গাড়ির এবং কৃষিক্ষেত্রে সেচ পাম্পের যন্ত্রের কার্যক্ষমতা ও জীবনসীমা কমছে। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও।

আইন অনুযায়ী বাজারজাত করার আগেই পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মান পরীক্ষা করে বিএসটিআই থেকে সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিপিসি কখনোই এ মান পরীক্ষা করায়নি এবং সনদ নেয়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতক সময়েও মানহীন ও ভেজাল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।

এ নিয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর ‘ভেজাল জ্বালানি তেল বিক্রি করছে বিপিসি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর মানসম্পন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিন আইনজীবী। গত ২৭ জানুয়ারি আদালত বিপিসিকে বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান সনদ গ্রহণ করে বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছে। দুই সংস্থাকেই আগামী এক মাসের মধ্যে তা নিশ্চিত করে হাইকোর্টকে জানাতে হবে।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিপিসি এবং পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জ্বালানি বিভাগ। বৈঠকে মানসম্পন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে আগামীতে মান রক্ষা করে তেল সরবরাহ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দুই সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসক্ষেত্রগুলোর কনডেনসেট ফ্রাকসনেশন প্লান্টে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কিন্তু এগুলো শুধু ফ্রাকসনেশন (উপজাত থেকে জ্বালানি পণ্য তৈরি) করছে। নির্দিষ্ট মানদণ্ড রক্ষা করে পরিশোধনের ক্ষমতা এগুলোর নেই।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি খাতের তিনটি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি রিফাইনারি (কনডেনসেট ফ্রাকসনেশন প্লান্ট) পেট্রোবাংলার কাছ থেকে কনডেনসেট গ্রহণের পর প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, সলভেন্ট, মোটর স্প্রিট, কেরোসিন সুপিরিয়র অয়েল, মিনারেল তারপেনটাইনসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে।

বেসরকারি রিফাইনারিগুলো পেট্রোবাংলার কাছ থেকে কনডেনসেট নিয়ে তা পরিশোধনের পর বিপিসির কাছে বিক্রি করে। কিন্তু কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত না করে সরাসরি বিভিন্ন অয়েল ফিলিং স্টেশনে ও চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান