০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

পর্যাপ্ত সরবরাহ তবুও হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধি

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভোক্তাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা বেড়ে গেছে খুচরা পর্যায়ে। আবার পাইকারি বাজারে বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। অথচ সরকারি গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। একইসঙ্গে বাজারগুলোতে চালের সরবরাহও ভালো।

এ মুহূর্তে আমাদের খাদ্যশস্য মজুদ ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ মেট্রিকটন। গতবছর এ সময়ে ছিল ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫২৩ মেট্রিকটন। এরমধ্যে গম আছে তিন লাখ ১৯ হাজার মেট্রিকটন। বিগত অর্থবছরে চালের উৎপাদন ছিল তিন কোটি ৭৪ লাখ মেট্রিকটন। এছাড়া বর্তমানে সরকারিভাবে ১৪ দশমিক ২০ লাখ মেট্রিকটন চালের মজুদ রয়েছে।

ভোক্তারা বলছেন, দেশে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে। আজ না হয় কাল এটা বড় আকার ধারণ করবে আশঙ্কা। এর সংক্রমণে একজন মারা গেছেন। সামনে যে মানুষ মারা যাবে না, এটা তো কেউ বলতে পারে না। এছাড়া আক্রান্ত সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আজ শিবচর লকডাউন করা হয়েছে। কাল যে কোথায় হবে সেটা জানি না। যদি আন্তজেলা যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, কোনো যানবাহন না চলে, তাহলে সব পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। তখন আমরা সাধারণ মানুষ কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কোথায় পাব।

তারা বলেন, সরকার বলছে মজুদ আছে। সরকার কী উন্নত দেশের মতো আমাদের বাড়িতে গিয়ে পণ্য দিয়ে আসবে। তা তো দেবে না। আর ন্যায্য মূল্যে ট্রাকে করে যা বিক্রি করে, সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আনতে গেলে জনসমাগমে যেতে হবে। আমাদেরই সংগ্রহ করতে হবে। তখন আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে। তাই আগে থেকেই খাদ্যের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য একটু বেশি কিনে রাখছি। সরকারের উচিত বাজার মনিটরিং করে সরবরাহ ঠিক রাখা। সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম সাভাবিক থাকবে।

বাবুবাজারের চাল ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত দুই-তিন দিনে পাইকারি বাজারে সব রকমের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে গেছে। কারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে চাল কিনে মজুদ করছে। যার এক বস্তা চাল মাসে লাগে, সে কিনে নিচ্ছে চার বস্তা। গত দুইদিনে আড়তে হরিলুটের মতো চাল বিক্রি হয়েছে। ফলে বাজারে সাময়িক সরবরাহের সংকট তৈরি হয়। সুবাধে ব্যবসায়ীরা একটু দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে নিত্যপণ্য আমদানিতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যশস্যের মজুদ যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পণ্য বেশি রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পণ্য মজুদ করলে স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ক্রেতা হিসেবে স্বাভাবিক ক্রয় করলে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে না।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ব্যবসায়ীরা যদি করোনাকে পুঁজি করে বাজে কথা ছড়ায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। এরপরও যদি ঘাটতি দেখা দেয় প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবুও আমরা কোনক্রমেই পণ্যের দাম বাড়তে দেব না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

পর্যাপ্ত সরবরাহ তবুও হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশিত : ০৩:২৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২০

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভোক্তাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা বেড়ে গেছে খুচরা পর্যায়ে। আবার পাইকারি বাজারে বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। অথচ সরকারি গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। একইসঙ্গে বাজারগুলোতে চালের সরবরাহও ভালো।

এ মুহূর্তে আমাদের খাদ্যশস্য মজুদ ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ মেট্রিকটন। গতবছর এ সময়ে ছিল ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫২৩ মেট্রিকটন। এরমধ্যে গম আছে তিন লাখ ১৯ হাজার মেট্রিকটন। বিগত অর্থবছরে চালের উৎপাদন ছিল তিন কোটি ৭৪ লাখ মেট্রিকটন। এছাড়া বর্তমানে সরকারিভাবে ১৪ দশমিক ২০ লাখ মেট্রিকটন চালের মজুদ রয়েছে।

ভোক্তারা বলছেন, দেশে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে। আজ না হয় কাল এটা বড় আকার ধারণ করবে আশঙ্কা। এর সংক্রমণে একজন মারা গেছেন। সামনে যে মানুষ মারা যাবে না, এটা তো কেউ বলতে পারে না। এছাড়া আক্রান্ত সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আজ শিবচর লকডাউন করা হয়েছে। কাল যে কোথায় হবে সেটা জানি না। যদি আন্তজেলা যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, কোনো যানবাহন না চলে, তাহলে সব পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। তখন আমরা সাধারণ মানুষ কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কোথায় পাব।

তারা বলেন, সরকার বলছে মজুদ আছে। সরকার কী উন্নত দেশের মতো আমাদের বাড়িতে গিয়ে পণ্য দিয়ে আসবে। তা তো দেবে না। আর ন্যায্য মূল্যে ট্রাকে করে যা বিক্রি করে, সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আনতে গেলে জনসমাগমে যেতে হবে। আমাদেরই সংগ্রহ করতে হবে। তখন আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে। তাই আগে থেকেই খাদ্যের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য একটু বেশি কিনে রাখছি। সরকারের উচিত বাজার মনিটরিং করে সরবরাহ ঠিক রাখা। সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম সাভাবিক থাকবে।

বাবুবাজারের চাল ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত দুই-তিন দিনে পাইকারি বাজারে সব রকমের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে গেছে। কারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে চাল কিনে মজুদ করছে। যার এক বস্তা চাল মাসে লাগে, সে কিনে নিচ্ছে চার বস্তা। গত দুইদিনে আড়তে হরিলুটের মতো চাল বিক্রি হয়েছে। ফলে বাজারে সাময়িক সরবরাহের সংকট তৈরি হয়। সুবাধে ব্যবসায়ীরা একটু দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে নিত্যপণ্য আমদানিতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যশস্যের মজুদ যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পণ্য বেশি রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পণ্য মজুদ করলে স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ক্রেতা হিসেবে স্বাভাবিক ক্রয় করলে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে না।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ব্যবসায়ীরা যদি করোনাকে পুঁজি করে বাজে কথা ছড়ায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। এরপরও যদি ঘাটতি দেখা দেয় প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবুও আমরা কোনক্রমেই পণ্যের দাম বাড়তে দেব না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর