০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

অনিশ্চয়তার মুখে এসএমই খাতের আর্থিক প্রণোদনা

সমন্বয়হীনতা, সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ নানা কারণে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় এসএমই খাতের আর্থিক প্রণোদনা কার্যক্রম অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে।

করোনার ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পসহ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার অর্থ ছাড়ে কার্যত হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

আর এ কারণে বিপাকে পড়ছে এসএমই উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, শ্রমিকের বেতন, কাঁচামাল কেনার টাকা ও কারখানার ভাড়া জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আসছে রোজার আগে বিষয়টির সুরাহা না হলে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

এদিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রণোদন না পেলে যে সমস্ত কোম্পানি হ্যান্ড ওয়াশ, সাবান, স্যানিটাইজার তৈরি করে তাদের উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করোনারোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি সার্কুলার দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২ এপ্রিল সব সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর প্রেরিত সার্কুলারে, এসএমই খাতের প্রণোদনা বা প্যাকেজ কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া আছে।

এসএমই উদ্যোক্তারা বলছেন, এই প্রণোদনা পেতে কত তারিখে মধ্যে আবেদন করতে হবে, কত দিনের মধ্যে প্রণোদনার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে কিংবা কত তারিখের মধ্যে তা বিতরণ করতে হবে তার কোন টাইমলাইন নাই।

তারা আরো বলেছেন, এই বিষয়ে এখনো ক্রেডিট কমিটি করা হয়নি। এছাড়া বেশীরভাগ ব্যাংক বন্ধ রয়েছে আর ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তারা করোনা ভয়ে অফিস করছে না। উদ্যোক্তারা কার কাছে, কোথায় আবেদন করবে এবং কতদিনে তা প্রসেসিং হবে, তা জানা নেই তাদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একি সার্কুলারে নতুন যে সকল উদ্যোক্তা ইতিপূর্বে ঋণ নেন নাই তারাও আবেদন করতে পারবে। কিন্তু জামানত ছাড়া তাদেরকে কি ভাবে ঋণ দেয়া হবে তাও সার্কুলারে উল্লেখ নেই। আপরদিকে জামানত দিতে হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস খোলা থাকতে হবে। কিন্তু সরকারি নির্দেশে তাও বন্ধ।

তাদের অভিযোগ, প্রণোদনার ফান্ড ম্যানেজমেন্টের জন্য একটা ক্রেডিট কমিটির কথা উল্লেখ থাকলেও সেই কমিটি কত দিনের কাজ করবে মধ্যে তা উল্লেখ নেই। সার্কুলার টা এসে বসে থাকলেও কোন ব্যবস্থা ব্যাংক নিচ্ছে না।

এসএমই উদ্যোক্তারা বলছেন, ক্রেডিট কমিটি করতে হলে সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় খোলা রাখতে হবে। কেননা প্রধান কার্যালয় যদি খোলা না থাকে তাহলে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দ্বারা ক্রেডিট কমিটি করা সম্ভব না। বেসরকারি অনেক ব্যাংকই বন্ধ। সরকারি ব্যাংকগুলো খোলা থাকলেও তাতে শুধু মাত্র ক্যাশ লেনদেন হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে। তাও শুধু মাত্র ৩ ঘন্টার জন্য।

তারা বলছেন, এই ৩ ঘন্টার মধ্যে প্রতিদিন শত শত মানুষ ব্যাংকিং কার্যক্রম করে কিন্তু এই প্রস্তাব তো সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের হেড অফিসে বন্ধ থাকায় এই কাজ অত্যন্ত দুরুহ।

উল্লেখ্য, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে করোনার কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পসহ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ সুবিধার কথা উল্লেখ ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের বেতন বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা একটা সমন্বয় ছিল কিন্তু এসএমই খাতে সেটা নেই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন আগামী নিউজ ডটকমকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করবেন না।

অন্যদিকে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসাররা করোনা আতঙ্কে নিয়মিত ব্যাংকে না আসায় এই প্রণোদনা কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। ক্রেডিট কমিটির অধিকাংশ লোক উপস্থিত থাকছে না। ক্রেডিট কমিটি না হলে প্রণোদনার জন্য আবেদন কারা সংগ্রহ করবে, কারা কতদিনের মধ্যে যাচাই,বাছাই করবে কিংবা অনুমোদন করা হবে তা নিয়েছে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। সব কিছু মিলে ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বাবুল

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

অনিশ্চয়তার মুখে এসএমই খাতের আর্থিক প্রণোদনা

প্রকাশিত : ১২:০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

সমন্বয়হীনতা, সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ নানা কারণে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় এসএমই খাতের আর্থিক প্রণোদনা কার্যক্রম অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে।

করোনার ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পসহ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার অর্থ ছাড়ে কার্যত হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

আর এ কারণে বিপাকে পড়ছে এসএমই উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, শ্রমিকের বেতন, কাঁচামাল কেনার টাকা ও কারখানার ভাড়া জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আসছে রোজার আগে বিষয়টির সুরাহা না হলে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

এদিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রণোদন না পেলে যে সমস্ত কোম্পানি হ্যান্ড ওয়াশ, সাবান, স্যানিটাইজার তৈরি করে তাদের উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করোনারোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি সার্কুলার দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২ এপ্রিল সব সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর প্রেরিত সার্কুলারে, এসএমই খাতের প্রণোদনা বা প্যাকেজ কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া আছে।

এসএমই উদ্যোক্তারা বলছেন, এই প্রণোদনা পেতে কত তারিখে মধ্যে আবেদন করতে হবে, কত দিনের মধ্যে প্রণোদনার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে কিংবা কত তারিখের মধ্যে তা বিতরণ করতে হবে তার কোন টাইমলাইন নাই।

তারা আরো বলেছেন, এই বিষয়ে এখনো ক্রেডিট কমিটি করা হয়নি। এছাড়া বেশীরভাগ ব্যাংক বন্ধ রয়েছে আর ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তারা করোনা ভয়ে অফিস করছে না। উদ্যোক্তারা কার কাছে, কোথায় আবেদন করবে এবং কতদিনে তা প্রসেসিং হবে, তা জানা নেই তাদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একি সার্কুলারে নতুন যে সকল উদ্যোক্তা ইতিপূর্বে ঋণ নেন নাই তারাও আবেদন করতে পারবে। কিন্তু জামানত ছাড়া তাদেরকে কি ভাবে ঋণ দেয়া হবে তাও সার্কুলারে উল্লেখ নেই। আপরদিকে জামানত দিতে হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস খোলা থাকতে হবে। কিন্তু সরকারি নির্দেশে তাও বন্ধ।

তাদের অভিযোগ, প্রণোদনার ফান্ড ম্যানেজমেন্টের জন্য একটা ক্রেডিট কমিটির কথা উল্লেখ থাকলেও সেই কমিটি কত দিনের কাজ করবে মধ্যে তা উল্লেখ নেই। সার্কুলার টা এসে বসে থাকলেও কোন ব্যবস্থা ব্যাংক নিচ্ছে না।

এসএমই উদ্যোক্তারা বলছেন, ক্রেডিট কমিটি করতে হলে সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় খোলা রাখতে হবে। কেননা প্রধান কার্যালয় যদি খোলা না থাকে তাহলে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দ্বারা ক্রেডিট কমিটি করা সম্ভব না। বেসরকারি অনেক ব্যাংকই বন্ধ। সরকারি ব্যাংকগুলো খোলা থাকলেও তাতে শুধু মাত্র ক্যাশ লেনদেন হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে। তাও শুধু মাত্র ৩ ঘন্টার জন্য।

তারা বলছেন, এই ৩ ঘন্টার মধ্যে প্রতিদিন শত শত মানুষ ব্যাংকিং কার্যক্রম করে কিন্তু এই প্রস্তাব তো সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের হেড অফিসে বন্ধ থাকায় এই কাজ অত্যন্ত দুরুহ।

উল্লেখ্য, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে করোনার কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পসহ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ সুবিধার কথা উল্লেখ ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের বেতন বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা একটা সমন্বয় ছিল কিন্তু এসএমই খাতে সেটা নেই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন আগামী নিউজ ডটকমকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করবেন না।

অন্যদিকে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসাররা করোনা আতঙ্কে নিয়মিত ব্যাংকে না আসায় এই প্রণোদনা কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। ক্রেডিট কমিটির অধিকাংশ লোক উপস্থিত থাকছে না। ক্রেডিট কমিটি না হলে প্রণোদনার জন্য আবেদন কারা সংগ্রহ করবে, কারা কতদিনের মধ্যে যাচাই,বাছাই করবে কিংবা অনুমোদন করা হবে তা নিয়েছে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। সব কিছু মিলে ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বাবুল