প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে ক্রীড়া অঙ্গনের বেশ কিছু পরিচিত দৃশ্য বদলে যেতে পারে। এই যেমন, টেনিসে খেলোয়াড়দের ঘাম মুছে তাওয়েল বয়কে ছুড়ে দেওয়া। ফুটবলে করমর্দন। ক্রিকেটে তেমনি মুখের লালা বা থুতু দিয়ে বল ঘষা। কিন্তু টেনিস-ফুটবলের ওই দুই অভ্যাস ছাড়াও খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু ক্রিকেটে বল সাইন করা ছাড়া পেসারদের বল করার কথা চিন্তা করা কঠিন।
এ নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্যাট কামিন্স, জজ হ্যাজলউডের মতো পেসাররা। মোহাম্মদ শামি জানিয়েছেন, বিষয়টি সত্যি বাতিল হয়ে গেলে কিংবা পেসাররা ভয়ে বলে থুতু দিতে ভয় পেলে, বিকল্প কোন পথ খুঁজে বের করতে হবে। সেক্ষেত্রে ঘাম দিয়ে বল সাইনের ব্যপারটা তুলে ধরেছেন তিনি। করোনা পরবর্তী মাঠে ক্রিকেট ফিরলে ওই বল ঘষার স্বার্থে আইসিসি তাই বৈধ বল টেম্পারিংয়ের নিয়ম করতে পারে।
সেক্ষেত্রে কৃত্রিম কোন কাপড় বা বল ঘষার জন্য কোন তন্তু বা বস্তু বৈধ করতে পারে আইসিসি। তবে মাঠে থাকা দুই আম্পায়ারের তত্বাবধায়নে বল ঘষতে হবে। বল ঘষার কাজটা ক্রিকেটাররাই করতে পারবেন। ক্রিকেটারদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে আইসিসি বৈধ উপায়ে বল ঘষার একটা উপায় তাই বের করতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে আইসিসির দুই কমিটি এরই মধ্যে আলোচনায় বসবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। আইসিসি ক্রিকেট কমিটি এবং এমসিসি ওয়াল্ড ক্রিকেট কমিটি এই বল ঘষার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় বসবে। এমসিসির মার্চের শেষ সপ্তাহে শ্রীলংকায় একটি সভায় বসার কথা ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল হয়েছে। আইসিসির ক্রিকেট কমিটি এবং এমসিসির কমিটি তাই বিষয়টি নিয়ে এপ্রিল কিংবা জুনে আলোচনায় বসতে পারে।
থুতু দিয়ে বল ঘষার ব্যাপারে অজি পেসার জজ হ্যাজলউড বলেছেন, ‘আমার মতে, সাদা বলের ব্যাপারটা ঠিক আছে। কিন্তু টেস্ট (লাল বল) ক্রিকেটে বল ঘষা ছাড়া খেলা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।’ আম্পায়ারের সামনে বল ঘষার বিষয় নিয়ে সাবেক অজি ক্রিকেটার এবং বর্তমান কোচিংয়ে নামা জেসন গিলেস্পি বলেন, ‘এটা একটা পয়েন্ট হতে পারে। প্রতি ওভার শেষেই আম্পায়ারের সামনে খেলোয়াড়রা বল ঘষবেন। তবে এমন নিয়ম করার আগে অবশ্যই এ নিয়ে বিস্তার আলোচনা হতে হবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

























