০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি অনন্তের

নওগাঁর মান্দা উপজেলার অনন্ত কুমার নামে এক যুবক করোনা ভাইরাসে দুর্যোগ মুহুর্তে দেশের সেবা করতে নিজেকে স্বেচ্ছায় বিলিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তার আইডিতে চিঠি টি পোষ্ট করেন।

বরাবর,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

স্যার, আমার ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

স্যার, আমি একজন কলেজ ছাত্র অর্নাস ১বর্ষ বাংলা বিভাগের জীবনে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনাতে এত দূর আসতে পেরেছি স্যার, আমি নিম্মবিত্ত  পরিবারের ছেলে।

স্যার, ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্নছিল সামরিক বাহিনীতে চাকরি করবো কিন্ত শত চেষ্টার পরো সফল হতে পারিনি। কিন্ত দেশে এখন কোভিড-১৯ এর কারণে, আমাদের দেশ বিপদগ্রস্ত, তাই আমার পরিবারের সহমত নিয়ে নিজ ইচ্ছাতে আমি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য এই সময় দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সহযোগিতা করতে চায়। স্যার আমার এই অনুরোধটি গ্রহণ করলে আমি খুব খুশি হবো এবং দেশ সেবাই নিজেকে ধন্য মনে করবো স্যার।

সকলের কাছে দোয়া চাই। আমার এই অনুপ্রেরণা আর পোষ্টটিতে কেউ বাজে কমেন্ট করবেন না।

আপনাদের সহযোগিতার কারণে, আমার মনের ইচ্ছাটা পূরণ হতে পারে।

নাম: অনন্ত কুমার

গ্রাম: পাঁজরভাঙ্গা,

পোষ্ট: পাঁজরভাঙ্গা,

থানা: মান্দা,

জেলা: নওগাঁ।

মোবাইল: +৮৮০১৭৬০২৬৫০৮৫

জানা গেছে, অনন্ত কুমারের বাড়ি জেলার মান্দা উপজেলার পাঁজরভাঙ্গা গ্রামে। বাবা রাজকুমার ছোট বেলায় মারা গেছেন। দুই ভাই ও মাকে নিয়ে তাদের সংসার। বড় ভাই আনন্দ কুমার চাচা পেনলাল মাঝির চায়ের দোকানে কাজ করেন। মাঝেমধ্যে তিনিও চায়ের দোকানে ভাইকে সহযোগীতা করেন। আর মা জামিনি বালা ছাগল ও হাঁস মুরগি পালন করে সংসার চালান। গ্রামের স্কুল ও কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এসএসসিতে মানবিক বিভাগে ৪ দশমিক ৯১ এবং এইচএসসিতে ২০১৯ সালে ব্যবসা শাখা থেকে ৪ দশমিক ৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠা এ যুবক বাংলা বিষয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজে অর্নাস প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করছেন। দারিদ্রতার কারণে শহরে না থেকে বাড়ি থেকে সপ্তাহে ২/৩দিন এসে ক্লাস করতে হয়।

এ ব্যাপারে অনন্ত কুমার জানান, যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই সেনাবাহিনীতে চাকরি করার ইচ্ছা পোষন করি। চাকরি করে দেশের সেবা করবো এমনটাই চিন্তা চেতনা ছিল। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীতে চার, বিমান বাহিনীতে চার, নৌবাহিনীতে এক, বিজিবিতে এক ও পুলিশে এক বার দাঁড়িয়েছি। প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষাতে টিকতে পারলেও পরে ফিটনেসে আর হয়না। আর ২/৩ বার হয়ত দাঁড়াতে পারতাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে হয়ত সম্ভব হবেনা। তখন বয়সও হয়ত শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, যেহেতু সেনাবাহিনীর চাকরি হয়নি। তারপর দেশের এ দুর্যোগ মুহুর্তে দেশের জন্য সেনাবাহিনীর সাথে যদি কাজ করতে পারতাম, এতোটা খুশি হতাম যা বলে প্রকাশ করার মতো না।

 

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি অনন্তের

প্রকাশিত : ১১:৪২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

নওগাঁর মান্দা উপজেলার অনন্ত কুমার নামে এক যুবক করোনা ভাইরাসে দুর্যোগ মুহুর্তে দেশের সেবা করতে নিজেকে স্বেচ্ছায় বিলিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তার আইডিতে চিঠি টি পোষ্ট করেন।

বরাবর,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

স্যার, আমার ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

স্যার, আমি একজন কলেজ ছাত্র অর্নাস ১বর্ষ বাংলা বিভাগের জীবনে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনাতে এত দূর আসতে পেরেছি স্যার, আমি নিম্মবিত্ত  পরিবারের ছেলে।

স্যার, ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্নছিল সামরিক বাহিনীতে চাকরি করবো কিন্ত শত চেষ্টার পরো সফল হতে পারিনি। কিন্ত দেশে এখন কোভিড-১৯ এর কারণে, আমাদের দেশ বিপদগ্রস্ত, তাই আমার পরিবারের সহমত নিয়ে নিজ ইচ্ছাতে আমি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য এই সময় দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সহযোগিতা করতে চায়। স্যার আমার এই অনুরোধটি গ্রহণ করলে আমি খুব খুশি হবো এবং দেশ সেবাই নিজেকে ধন্য মনে করবো স্যার।

সকলের কাছে দোয়া চাই। আমার এই অনুপ্রেরণা আর পোষ্টটিতে কেউ বাজে কমেন্ট করবেন না।

আপনাদের সহযোগিতার কারণে, আমার মনের ইচ্ছাটা পূরণ হতে পারে।

নাম: অনন্ত কুমার

গ্রাম: পাঁজরভাঙ্গা,

পোষ্ট: পাঁজরভাঙ্গা,

থানা: মান্দা,

জেলা: নওগাঁ।

মোবাইল: +৮৮০১৭৬০২৬৫০৮৫

জানা গেছে, অনন্ত কুমারের বাড়ি জেলার মান্দা উপজেলার পাঁজরভাঙ্গা গ্রামে। বাবা রাজকুমার ছোট বেলায় মারা গেছেন। দুই ভাই ও মাকে নিয়ে তাদের সংসার। বড় ভাই আনন্দ কুমার চাচা পেনলাল মাঝির চায়ের দোকানে কাজ করেন। মাঝেমধ্যে তিনিও চায়ের দোকানে ভাইকে সহযোগীতা করেন। আর মা জামিনি বালা ছাগল ও হাঁস মুরগি পালন করে সংসার চালান। গ্রামের স্কুল ও কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এসএসসিতে মানবিক বিভাগে ৪ দশমিক ৯১ এবং এইচএসসিতে ২০১৯ সালে ব্যবসা শাখা থেকে ৪ দশমিক ৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠা এ যুবক বাংলা বিষয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজে অর্নাস প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করছেন। দারিদ্রতার কারণে শহরে না থেকে বাড়ি থেকে সপ্তাহে ২/৩দিন এসে ক্লাস করতে হয়।

এ ব্যাপারে অনন্ত কুমার জানান, যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই সেনাবাহিনীতে চাকরি করার ইচ্ছা পোষন করি। চাকরি করে দেশের সেবা করবো এমনটাই চিন্তা চেতনা ছিল। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীতে চার, বিমান বাহিনীতে চার, নৌবাহিনীতে এক, বিজিবিতে এক ও পুলিশে এক বার দাঁড়িয়েছি। প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষাতে টিকতে পারলেও পরে ফিটনেসে আর হয়না। আর ২/৩ বার হয়ত দাঁড়াতে পারতাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে হয়ত সম্ভব হবেনা। তখন বয়সও হয়ত শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, যেহেতু সেনাবাহিনীর চাকরি হয়নি। তারপর দেশের এ দুর্যোগ মুহুর্তে দেশের জন্য সেনাবাহিনীর সাথে যদি কাজ করতে পারতাম, এতোটা খুশি হতাম যা বলে প্রকাশ করার মতো না।

 

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান