ঢাকা: মাত্র ২০ জনের উপস্থিতিতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হল কিংবদন্তি অভিনেতা ঋষি কাপুরের। বেলা ৪টে পঞ্চভূতে বিলীন হলেন বলিউডের প্রবাদপ্রতীম
জনপ্রিয় এই অভিনেতা।
দুপুর নাগাদই মু্ম্বইয়ের এইচএন রিলায়েন্স হাসপাতাল থেকে সোজা মেরিনলাইনসের চন্দনওয়ারি শ্মশানে নিয়ে আসা হয় অভিনেতার মরদেহ। সঙ্গে ছিলেন ছেলে রণবীর কাপুর। মাত্র কয়েকজনের উপস্থিতিতেই ষকৃত্য সম্পন্ন করলেন ছেলে রণবীর।
আর পাঁচটা দিনের মতো হলে হয়তো ঋষি কাপুরকে শেষবিদায় জানাতে বাঁধ ভেঙে পড়ত মায়ানগরীর রাজপথে। কিন্তু করোনার জন্য দেশজুড়ে লকডাউন জারি হওয়ায় প্রিয় অভিনেতাকে শেষবার দেখার সৌভাগ্যও হল না সাধারণ মানুষের। মাত্র ২০ জন কাছের বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হল। উপস্থিত ছিলেন আলিয়া ভাট। শোকাহত নীতু কাপুরের পাশেই ছিলেন তিনি সবসময়ে।
এছাড়াও শ্মশানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন দাদা রণধীর ও ভাই রাজীব কাপুর, কারিনা কাপুর, সাইফ আলি খান, ঋষির বোন রিমা জৈন ও তাঁর স্বামী মনোজ জৈন, আরমান ও আদর। কাপুরদের পারিবারিক বন্ধুদের মধ্যে দেখা গেল অভিষেক বচ্চন, অয়ন মুখোপাধ্যায়, রাহুল রাওয়ালি, রোহিত ধাওয়ান-সহ আরও কয়েকজনকে। শেষকৃত্যের আগে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নীতু কাপুর এবং আলিয়া ভাট।
প্রাণোচ্ছল অভিনেতা। জীবনকে উপভোগ করতে ভালবাসতেন। ঠিক যেমনটা সমবয়সি লোকের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা-পার্টিতে মেতে উঠতেন, তেমনই বয়সে ছোটদের সঙ্গেও দেদার মজা করতেন। এককথায়, মজার মানুষ ছিলেন ঋষি কাপুর। বলিমহলের সকলেই একবাক্যে তা স্বীকার করে নেন। আর সেই অভিনেতাই কিনা বৃহস্পতিবার সকলকে কাঁদিয়ে চলে চলে গেলেন। এমনটাই বলছেন ঋষি-অনুরাগীরা।
তবে না, চোখের জলে নয়! প্রিয় অভিনেতার কড়া বারণ! হাসিখুশি মনে বিদায় জানাতে হবে তাঁকে। হলও তাই। তবে মনে কষ্ট নিয়ে বাড়িতে থেকে গেলেন প্রিয় চিন্টুর বন্ধুরা। কথা ছিল শেষযাত্রা অবধি পা মেলাবে। কিন্তু লকডাউনের জেরে তা আর হল কই! কাপুর পরিবারের তরফেও আরজি জানানো হয়েছে যে কেউ যেন লকডাউনের আইন অমান্য না করেন। সমস্ত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হল ঋষি কাপুরের শেষকৃত্য। পঞ্চভূতে বিলীন হলেন বলিউডের সাতের দশকের চকোলেট বয় চার্মিং চিন্টু।
“ওঁর মৃত্যুর পর চোখের জল নয়, ওঁকে হাসি মুখে মনে করলেই সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন ঋষি। ব্যক্তিগত এই শোকের মধ্যেও আমরা সবাইকে একটাই অনুরোধ করব, সারা দুনিয়া যে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা মাথায় রাখবেন এবং আইন অনুযায়ী চলবেন। উনিও তাই চাইতেন”, জানানো হয়েছিল কাপুর পরিবারের বিবৃতিতে। ঋষির মেয়ে ঋধিমা থাকেন দিল্লিতে। তিনিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দিল্লি থেকে মুম্বইতে রওনা হয়েছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ


























