০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

‘তোমাদের বাড়ি যেতে বলছে কে? ভাড়া এক পয়সাও কমাবো না’

“বাড়ি ভাড়ার টাকা বিকাশে খরচসহ দিবা এক পয়সাও কমাবো না। এখন না দিলে যখন আসবা তখন সব টাকা দিতে হবে। তোমরা বাড়ি চলে গেছো কেনো? তোমাদের কি বলেছি চলে যেতে, মেসে থাকতা।”

বাড়ি ভাড়ার জন্য এভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের অধিকাংশ মেস মালিকদের বিরুদ্ধে। ফলে করোনাভাইরাসের মধ্যে মেস কিংবা বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষার্থীকে মার্চের ১৯ তারিখের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়। এদিকে মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা পান। বাকি প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন জায়গায় মেস কিংবা বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশন কিংবা খন্ডকালীন চাকরি করে বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করেন।

 

কিন্তু এই মুহূর্তে সবকিছু বন্ধ থাকায় বাড়ি ভাড়া দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অপরদিকে এই মুহূর্তে বাড়ি ভাড়ার জন্য এধরনের চাপকে ‘অমানবিক আচরণ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই সংকটকালে শিক্ষার্থীরা ভাড়া মওকুফের দাবি জানালেও কর্ণপাত করেনি বাড়ির মালিকেরা।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের মানবিক আবেদনেও সাড়া দেয়নি এসব মালিকেরা। ইতিমধ্যে বাড়ি ভাড়ার সমস্যা নিরসনের জন্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. হাসিবুর রহমানকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উক্ত কমিটির কাছ থেকে তড়িৎ পদক্ষেপ আশা করছেন বলে জানা যায়।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও গঠিত কমিটির সদস্য ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বাসা ভাড়া দেয়া একটু কষ্টসাধ্য বিষয়। বাড়ির মালিকেরা মানবিক দৃষ্টি থেকে ভাড়া মওকুফের কথা চিন্তা করলে সারা দেশে এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। আলোচনা চলছে। আশা করি খুব দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

‘তোমাদের বাড়ি যেতে বলছে কে? ভাড়া এক পয়সাও কমাবো না’

প্রকাশিত : ০৪:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২০

“বাড়ি ভাড়ার টাকা বিকাশে খরচসহ দিবা এক পয়সাও কমাবো না। এখন না দিলে যখন আসবা তখন সব টাকা দিতে হবে। তোমরা বাড়ি চলে গেছো কেনো? তোমাদের কি বলেছি চলে যেতে, মেসে থাকতা।”

বাড়ি ভাড়ার জন্য এভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের অধিকাংশ মেস মালিকদের বিরুদ্ধে। ফলে করোনাভাইরাসের মধ্যে মেস কিংবা বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষার্থীকে মার্চের ১৯ তারিখের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়। এদিকে মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা পান। বাকি প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন জায়গায় মেস কিংবা বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশন কিংবা খন্ডকালীন চাকরি করে বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করেন।

 

কিন্তু এই মুহূর্তে সবকিছু বন্ধ থাকায় বাড়ি ভাড়া দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অপরদিকে এই মুহূর্তে বাড়ি ভাড়ার জন্য এধরনের চাপকে ‘অমানবিক আচরণ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই সংকটকালে শিক্ষার্থীরা ভাড়া মওকুফের দাবি জানালেও কর্ণপাত করেনি বাড়ির মালিকেরা।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের মানবিক আবেদনেও সাড়া দেয়নি এসব মালিকেরা। ইতিমধ্যে বাড়ি ভাড়ার সমস্যা নিরসনের জন্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. হাসিবুর রহমানকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উক্ত কমিটির কাছ থেকে তড়িৎ পদক্ষেপ আশা করছেন বলে জানা যায়।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও গঠিত কমিটির সদস্য ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বাসা ভাড়া দেয়া একটু কষ্টসাধ্য বিষয়। বাড়ির মালিকেরা মানবিক দৃষ্টি থেকে ভাড়া মওকুফের কথা চিন্তা করলে সারা দেশে এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। আলোচনা চলছে। আশা করি খুব দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে।