ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালা আল্টিমেটাম দিয়েছে, আগামীকালের মধ্যে টাকা দিতে হবে। নইলে বাসা থেকে চলে যেতে হবে। আমরা বারজন থাকি একটি মেসে, আগেই বাড়িতে চলে গেছে অনেকে । আমরা দু’জন আটকা পড়ে গিয়েছি।
যারা বাসায় গিয়েছে তারা অনেকে বিভিন্ন কারণে গত মাসের টাকা পাঠাতে পারিনি। তবুও কয়েকজন মালিকের টাকা দিয়েছি অনেক কষ্টে।এই মাসে টাকা ওনার ( মেস মালিক) দিতেই হবে।আমরা বলেছি কিছুদিন অপেক্ষা করেন ছেলেরা টাকা পাঠাবে।।ওনি বলে টাকা কোথা থেকে দিবে সেটা জানি না। ওনি অকথ্য ভাষায় নিষিদ্ধ পল্লীর মানুষের মত আরো অনেক কথা বললো।”
এভাবেই মেস ভাড়ার জন্য হয়রানি হয়ে কলা ও মানবিক অনুষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অসহায়ত্ব প্রকাশ করছিল। এরকম একজন নয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী প্রতি নিয়ত মেস ভাড়ার জন্্য বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র তিনটি আবাসিক হল রয়েছে।
ছেলেদের দুটি হল বঙ্গবন্ধু হল ও শের-ই বাংলা হলে ১২২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য সিট বরাদ্ধ আছে। অন্যদিকে মেয়েদের জন্য শুধুমাত্র শেখ হাসিনা হলে ৬১০ জন শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট রয়েছে, অন্য একটি হলের নির্মাণ কাজ চলছে।
আবাসিক হল সংকটের কারণে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ, চৌমাথা, বাংলা বাজার, রূপাতলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আসে-পাশে মেস ভাড়া করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ।
অনেক শিক্ষার্থীই টিউশনি করে নিজ খরচ বহন করেন, মেস বাড়া দেন । কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিক্ষার্থীদের সেই আয়ের উৎসও বন্ধ রয়েছে। ফলে বিপদে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ঐদিকে মেস মালিকেরা বার বার ফোন দিয়ে টাকা চাচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে মেস ছেড়ে দেবার হুমকিও দিচ্ছেন অনেকে। অনেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করছে।
কলা ও মানবিক অনুষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অধিকাংশের বাড়ীই গ্রামে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখন কর্মহীন বেকার । এই সময়ে কিভাবে মেস ভাড়া দিব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক্ষেত্রে এগিয়ে আসলে অনেক ভালো হতো।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় মেস মালিক, বাসা মালিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন এটাকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য। তারপরও যদি কোন শিক্ষার্থী মেস মালিকদের থেকে হয়রানির শিকার হন, তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।





















