০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শচিন থাকবে সবার ওপর: পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক

শচিনের ভূয়সী প্রশংসায় পাকিস্তান দলের উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফ

ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে প্রায়ই শোনা যেত, শচিন টেন্ডুলকারের স্ট্রেইট ড্রাইভ যেন স্বর্গ থেকে আসা। ভারতীয় ক্রিকেট ঈশ্বরের খেলা স্ট্রেইট ড্রাইভগুলো এতোটাই মোহনীয় ছিল যে, এমন প্রশংসাও মনে হতো খুব কম করা হয়েছে। শুধু কি স্ট্রেইট ড্রাইভ? অন ড্রাইভ কিংবা পুল, স্কয়ার কাট কিংবা অফ ড্রাইভ- সবখানেই সমান দক্ষতা শচিনের।

আর তাই তো চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান দলের উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফ পর্যন্ত মুগ্ধ চোখে দেখতেন তার ব্যাটিং। সেটিও টিভিতে বসে নয়, সরাসরি উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েই। এমনকি তিনি চাইতেন না, শচিন আউট হয়ে যাক। যাতে আরও কিছুক্ষণ ব্যাটিং উপভোগ করতে পারেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শচিনের ব্যাপারে দেয়ার এক ভিডিওবার্তায় এ কথা জানিয়েছেন রশিদ নিজেই। একইসঙ্গে ভারতীয় কিংবদন্তির খেলোয়াড়ি আচার-ব্যবহারেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক।

রশিদ বলেন, ‘আমি উইকেটরক্ষক থাকতে অনেক ব্যাটসম্যানই তো আসতো উইকেটে। তবে যখন সে (শচিন) নামত, আমার হৃদয় চাইত না যে (শচিন) আউট হয়ে যাক। আমি তার ব্যাটিং উপভোগ করতাম। না না! টিভিতে বসে দেখার সময় নয়, যখন তার বিপক্ষে খেলতাম, উইকেটের পেছনে দাঁড়াতাম তখনও একই মনে হতো।’

এসময় তিনি আরও জানান যে, কখনও স্লেজিংয়ের জবাবে পাল্টা স্লেজিং করেননি শচিন। বরং কড়া স্লেজিংয়ের জবাবে শুধুই হাসতেন এ কিংবদন্তি ক্রিকেটার। যা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।

পাকিস্তানি উইকেটরক্ষকের ভাষ্যে, ‘ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিং কিংবা জ্যাক ক্যালিস- আমার সবসময় মনে হতো, এদের আউট করে দেই। কিন্তু শচিনের বিষয়টা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। আমি যদি তাকে কিছু বলতামও পেছন থেকে, সে কখনও পাল্টা জবাব দিত না, শুধুই হাসত। অন্যরা ঠিকই ক্ষেপে যেত।’

‘শুধুমাত্র শচিন এবং মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনই এমন ছিলেন। তারা প্রতিপক্ষকেও আপন করে নিতেন। এ কারণেই সবাই বিশেষ করে উইকেটরক্ষকরা শচিনের এত প্রশংসা করে। সে বোলারকে তুলোধুনো করে সেঞ্চুরি তুলে নিলেও মুখ দিয়ে কিছু বলতো না। এমনকি তাকে আউট করার জন্য উত্যক্ত করলেও কখনও পাল্টা জবাব দিত না।’

রশিদ আরও জানান, সেঞ্চুরি সবাই করে। তবে মানুষ মনে রাখে ব্যবহারটা। তার মতে, ‘আপনি সেঞ্চুরি করেন এবং চলে যান। কিন্তু সবাই মনে রাখবে আপনার ব্যবহার। আমার মতে, মাঠে ভালো ব্যবহারের তালিকা করলে, শচিন থাকবে সবার ওপর। এমন খেলোয়াড়রা সবসময় আপনার হৃদয়ে গাঁথা থাকে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

শচিন থাকবে সবার ওপর: পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক

প্রকাশিত : ০৫:৪১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে প্রায়ই শোনা যেত, শচিন টেন্ডুলকারের স্ট্রেইট ড্রাইভ যেন স্বর্গ থেকে আসা। ভারতীয় ক্রিকেট ঈশ্বরের খেলা স্ট্রেইট ড্রাইভগুলো এতোটাই মোহনীয় ছিল যে, এমন প্রশংসাও মনে হতো খুব কম করা হয়েছে। শুধু কি স্ট্রেইট ড্রাইভ? অন ড্রাইভ কিংবা পুল, স্কয়ার কাট কিংবা অফ ড্রাইভ- সবখানেই সমান দক্ষতা শচিনের।

আর তাই তো চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান দলের উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফ পর্যন্ত মুগ্ধ চোখে দেখতেন তার ব্যাটিং। সেটিও টিভিতে বসে নয়, সরাসরি উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েই। এমনকি তিনি চাইতেন না, শচিন আউট হয়ে যাক। যাতে আরও কিছুক্ষণ ব্যাটিং উপভোগ করতে পারেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শচিনের ব্যাপারে দেয়ার এক ভিডিওবার্তায় এ কথা জানিয়েছেন রশিদ নিজেই। একইসঙ্গে ভারতীয় কিংবদন্তির খেলোয়াড়ি আচার-ব্যবহারেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক।

রশিদ বলেন, ‘আমি উইকেটরক্ষক থাকতে অনেক ব্যাটসম্যানই তো আসতো উইকেটে। তবে যখন সে (শচিন) নামত, আমার হৃদয় চাইত না যে (শচিন) আউট হয়ে যাক। আমি তার ব্যাটিং উপভোগ করতাম। না না! টিভিতে বসে দেখার সময় নয়, যখন তার বিপক্ষে খেলতাম, উইকেটের পেছনে দাঁড়াতাম তখনও একই মনে হতো।’

এসময় তিনি আরও জানান যে, কখনও স্লেজিংয়ের জবাবে পাল্টা স্লেজিং করেননি শচিন। বরং কড়া স্লেজিংয়ের জবাবে শুধুই হাসতেন এ কিংবদন্তি ক্রিকেটার। যা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।

পাকিস্তানি উইকেটরক্ষকের ভাষ্যে, ‘ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিং কিংবা জ্যাক ক্যালিস- আমার সবসময় মনে হতো, এদের আউট করে দেই। কিন্তু শচিনের বিষয়টা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। আমি যদি তাকে কিছু বলতামও পেছন থেকে, সে কখনও পাল্টা জবাব দিত না, শুধুই হাসত। অন্যরা ঠিকই ক্ষেপে যেত।’

‘শুধুমাত্র শচিন এবং মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনই এমন ছিলেন। তারা প্রতিপক্ষকেও আপন করে নিতেন। এ কারণেই সবাই বিশেষ করে উইকেটরক্ষকরা শচিনের এত প্রশংসা করে। সে বোলারকে তুলোধুনো করে সেঞ্চুরি তুলে নিলেও মুখ দিয়ে কিছু বলতো না। এমনকি তাকে আউট করার জন্য উত্যক্ত করলেও কখনও পাল্টা জবাব দিত না।’

রশিদ আরও জানান, সেঞ্চুরি সবাই করে। তবে মানুষ মনে রাখে ব্যবহারটা। তার মতে, ‘আপনি সেঞ্চুরি করেন এবং চলে যান। কিন্তু সবাই মনে রাখবে আপনার ব্যবহার। আমার মতে, মাঠে ভালো ব্যবহারের তালিকা করলে, শচিন থাকবে সবার ওপর। এমন খেলোয়াড়রা সবসময় আপনার হৃদয়ে গাঁথা থাকে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর