করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নিয়ে গোটা দুনিয়া এখন হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। লকডাউনের ফলে অর্থনীতির ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চীন।
গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে চীন থেকে উৎপত্তি হয় করোনাভাইরাসের। জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় দেশটির উহান শহরে। মার্চ মাসের মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনে চীন। কিন্তু এর মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে গোটা দুনিয়ায়।
করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে লকডাউন আর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে চীন। দেশটির বেশিরভাগ কলকারখানা বিশেষ করে উহানের সব কলকারকানা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসা বাণিজ্যে ধসের মুখে পড়ে চীন। তবে এপ্রিল মাসে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটির অর্থনীতি।
শুক্রবার (১৫ মে) চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এসবিএস) প্রকাশিত এক রিপোর্টে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসবিএস এর রিপোর্টে দেশটির অনলাইনভিত্তিক ব্যবসাকে চলমান অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে চীনের কলকারখানায় যেভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এপ্রিল মাসে এসে আবার আগের গতিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদনকে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জাতীয় উদ্যোগে মানুষ ব্যাপকভাবে সাড়া দেয়ায় এ অভুতপূর্ব ফলাফল পাচ্ছে চীন।
চীনের ‘ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন’ এর রিসার্স ফেলো চেন ফেনজেইং বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরো চীনের কারাখানায় উৎপাদনের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে চীন সফল হয়েছে বলে মনে করা যায়।
দেশটিতে গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে অনলাইনে দেশটির কেনাকাটা বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাং। যা চীনা মুদ্রায় প্রায় ৩ দশমিক ০৭ ট্রিলিয়ন। অন্যদিকে জানুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে ০ দশমকি ৮ শতাংশ কম ছিল।
এসবিএস বলছে, এপ্রিল মাসে এসে অনলাইনে বস্তুগত পণ্য বিক্রি বেড়েছে ৮ দশমকি ৬ শতাংশ। যা জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আর সব রিটেইল বিক্রি হিসাব করলে বেড়েছে ২৪ শতাংশ।
চাইনিজ একাডেমি অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন এর সহকারী পরিচালক বাই মিং বলেন, করোনার মধ্যে ও করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিতে স্থীতিশীলতা আনা এবং মানুষের জীবন মানের উন্নয়নে অনলাইন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর


























