১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

“সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” নয় ন্যায্য পাওনা প্রয়োজন

  • ইকবাল হাসান
  • প্রকাশিত : ০১:১৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০
  • 28
পৃথিবীর ইতিহাসে শোষণের ইতিহাস, দুর্বলের প্রতি সবলের নির্যাতনের ইতিহাস। এই শোষণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে যতটুকু কথা বলা হয়েছে তা শোষণের তুলনায় কমই। দার্শনিক হার্বাট স্পেন্সারের বইয়ে “সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” কথাটি ব্যবহার করেছিলেন।
এই দ্বারা বোঝানো হয়, যোগ্য ব্যক্তিরাই টিকে থাকবে। প্রকৃতির প্রতিকূলতার মাঝে কিংবা সময়ের খরা স্রোতে বিপরীতে যারা চলতে পারে তারাই টিকে থাকে পৃথিবীতে। এই কথাটি আমাদের লড়াই করার সাহস যোগায়, নতুন একটা স্বপ্ন দেখবার পথ দেখায়।
সাম্প্রতিক সময়ে “সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” কথাটি যেন দরিদ্র পোশাক শ্রমিকদের বেলায় ছলনার নামান্তর। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। ষাটের দশকে শুরু হলেও সত্তরের শেষের দিকে এটি রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে রূপ পায়।
১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য মোট রপ্তানিতে ৫০% অবদান রেখে রপ্তানি আয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছিল। আশির দশকের শেষার্ধে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের আয়কে অতিক্রম করে পোশাক শিল্প রপ্তানি আয়ে প্রথম স্থানে চলে আসে।
ধীরে ধীরে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এটি শিল্পের রূপ নেয়। সাধারণ মানুষের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সাথে পোশাক শিল্পের মালিকেরা অধিক মুনাফা লাভ করতে থাকে। ১৯৮১-৮২ সালের এই খাতের মোট রপ্তানি আয়ে অবদান ছিল মাত্র ১.১%।
২০১০ সালের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান দাঁড়িয়েছে মোট রপ্তানি আয়ের ৭৬%। এই তথ্যের মাধ্যমেই আমাদের শ্রমিকদের বড় একটি অংশের নির্ভরতার হার বোঝা যায় পোশাক খাতের উপর।
আরো স্পষ্ট করে শ্রমিকদের নির্ভরতা দেখা যায় আরেকটি তথ্যে, ১৯৯৯ সালে এই শিল্পখাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয় ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি লোকের, যার মধ্যে শতকরা প্রায় ৮০ জন মহিলা। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সম্প্রতি বলেছে, পোশাকশিল্পে ২১ লাখ ৩০ হাজার ১৫৪ শ্রমিক কাজ করেন।
এর মধ্যে নারী ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৭৯ এবং পুরুষ নয় লাখ ১৬ হাজার ১৮২ জন। ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই খাতে নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য রয়েছে।
প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও এই খাত পরোক্ষভাবেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বস্ত্র, সুতা, আনুষঙ্গিক উপকরণ, প্যাকেটজাতকরণের উপকরণ, পরিবহন, ব্যাংকিং, শিপিং এবং ইন্সুরেন্স সেবার মাধ্যমে পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশে অন্যতম নির্ভরতার এই খাতটি।
পোশাক শিল্প বাংলদেশের নির্ভরতার খাত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে ধরা হয় সারা বিশ্বে। বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে কম দামে মানসম্পুর্ন পোশাক পেলে তারা আর বাংলাদেশে থেকে পোশাক কিনবে না। এই মুহূর্তে সেরকম কোন সম্ভাবনা না থাকলেও অচিরেই আমাদের সেরকম সমস্যার মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে। বর্তমান সমস্যাটি এর থেকেও জটিল।
এই করোনা সময়ে শ্রমিক ছাটাই জনিত সমস্যায় জর্জরিত আমাদের পোশাক খাত। চলতি জুন মাস থেকেই তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক।
রুবানা হকের এরকম মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। করোনা আক্রমনের প্রথমদিকে যখন সরকার সকল অফিস-আদালত, ফ্যাক্টরি ছুটি ঘোষণা করলো তখন মানুষ পিছুটান থেকে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিল। সেই জায়গা থেকে করোনা বংশ বিস্তারের সুযোগ পেলেও সেরকম বিস্ফোরক কিছু দেখি নি।
কিন্তু তার থেকেও বিস্ফোরক কর্মকান্ডটি করেছিলেন রুবানা হক। তিনি পুনরায় সকলকে কাজে যোগ দেয়ার জন্য বলেছিলেন। বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট রুবানা হক আরো বলেছিলেন, ‘‘করোনায় কোনো শ্রমিকের কিছু হলে সব দায়িত্ব আমরা নেব৷’’ একবার বাড়ি যাওয়া আবার বাড়ি থেকে সবাইকে ডেকে কর্মক্ষেত্রে যোগদানের নির্দেশে করোনা খুব ভালো করেই বংশ বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে।
যার ফলাফল আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি। পরবর্তীতে সরকার শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য রপ্তানি খাতের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ঋণ ঘোষণা করে দুই পার্সেন্ট সুদে। সরকার যদি এই টাকা না দিত তাহলে হয়তো আগে থেকেই শ্রমিক ছাটাই শুরু হয়ে যেত। তারা সেই ঋণের টাকায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে।
যখনই সরকার লকডাউন খুলে দেয় সীমিত আকারে এবং কর্মস্থলে গিয়ে কাজ করার সুবিধা দেয় তখনই বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট রুবানা হক শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রসঙ্গ অবতারণা করেন। এই দুর্যোগে সেই স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের অর্থনীতি ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে গিয়েছে। এই সময় তাদের ছাটাই করা হলে তাদের নতুন কাজ খুঁজে নেয়ার সুযোগও নেই।
এই সকল শ্রমিকেরা আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। আজ তাদের বিপদের সময় ত্যাগ করা কতটা নির্মম তা হয়তো লিখে বোঝানো যাবে না। করোনা সময় অন্যান্য সময়ের মত না। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে ছাড় দিলেই কেবল সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় থাকবে। মালিক পক্ষের ক্ষতি হবে তা এক বাক্যে চোখ বন্ধ করে বলা যায়।
তারা পুরো বেতন না দিক অর্ধেক বেতন দিলেও শ্রমিকরা হয়তো চলতে পারবে। শ্রমিকদের একটা বিরাট অংশ নারী। কেউ হয়তো পরিবার থেকে বিতাড়িত কিংবা, স্বামী কিংবা যে অর্থনৈতিক ছায়া দরকার তা থেকে বিতাড়িত। এমন সময় সেই অসহায়দের দেখবে কে? তারাই তো এক সময় আমাদের গর্বের বস্তু “মেইড ইন বাংলাদেশে” উপহার দিয়েছিলেন আমাদের।
মালিকদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দুঃখের ভাগিদার হওয়া। যদি মালিকরা শ্রমিকদের পাশে গিয়ে না দাঁড়ায় তাহলে তারা ঋণের চাপে জর্জরিত হবে, তারা বাধ্য হয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মত ঘটনায় লিপ্ত হবে। আর যারা এসব পারবে না তারা হয়তো এই পৃথিবীর বুক থেকে মুক্তি লাভের পথ খুঁজবে। “সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” নয় ন্যায্য পাওনাই পারে অনেকগুলো সুন্দর জীবনকে বাঁচাতে।
ইকবাল হাসান শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

চারদিকে কি হচ্ছে,সেইদিকে নজর না রেখে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে

“সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” নয় ন্যায্য পাওনা প্রয়োজন

প্রকাশিত : ০১:১৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০
পৃথিবীর ইতিহাসে শোষণের ইতিহাস, দুর্বলের প্রতি সবলের নির্যাতনের ইতিহাস। এই শোষণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে যতটুকু কথা বলা হয়েছে তা শোষণের তুলনায় কমই। দার্শনিক হার্বাট স্পেন্সারের বইয়ে “সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” কথাটি ব্যবহার করেছিলেন।
এই দ্বারা বোঝানো হয়, যোগ্য ব্যক্তিরাই টিকে থাকবে। প্রকৃতির প্রতিকূলতার মাঝে কিংবা সময়ের খরা স্রোতে বিপরীতে যারা চলতে পারে তারাই টিকে থাকে পৃথিবীতে। এই কথাটি আমাদের লড়াই করার সাহস যোগায়, নতুন একটা স্বপ্ন দেখবার পথ দেখায়।
সাম্প্রতিক সময়ে “সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” কথাটি যেন দরিদ্র পোশাক শ্রমিকদের বেলায় ছলনার নামান্তর। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। ষাটের দশকে শুরু হলেও সত্তরের শেষের দিকে এটি রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে রূপ পায়।
১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য মোট রপ্তানিতে ৫০% অবদান রেখে রপ্তানি আয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছিল। আশির দশকের শেষার্ধে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের আয়কে অতিক্রম করে পোশাক শিল্প রপ্তানি আয়ে প্রথম স্থানে চলে আসে।
ধীরে ধীরে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এটি শিল্পের রূপ নেয়। সাধারণ মানুষের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সাথে পোশাক শিল্পের মালিকেরা অধিক মুনাফা লাভ করতে থাকে। ১৯৮১-৮২ সালের এই খাতের মোট রপ্তানি আয়ে অবদান ছিল মাত্র ১.১%।
২০১০ সালের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান দাঁড়িয়েছে মোট রপ্তানি আয়ের ৭৬%। এই তথ্যের মাধ্যমেই আমাদের শ্রমিকদের বড় একটি অংশের নির্ভরতার হার বোঝা যায় পোশাক খাতের উপর।
আরো স্পষ্ট করে শ্রমিকদের নির্ভরতা দেখা যায় আরেকটি তথ্যে, ১৯৯৯ সালে এই শিল্পখাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয় ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি লোকের, যার মধ্যে শতকরা প্রায় ৮০ জন মহিলা। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সম্প্রতি বলেছে, পোশাকশিল্পে ২১ লাখ ৩০ হাজার ১৫৪ শ্রমিক কাজ করেন।
এর মধ্যে নারী ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৭৯ এবং পুরুষ নয় লাখ ১৬ হাজার ১৮২ জন। ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই খাতে নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য রয়েছে।
প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও এই খাত পরোক্ষভাবেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বস্ত্র, সুতা, আনুষঙ্গিক উপকরণ, প্যাকেটজাতকরণের উপকরণ, পরিবহন, ব্যাংকিং, শিপিং এবং ইন্সুরেন্স সেবার মাধ্যমে পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশে অন্যতম নির্ভরতার এই খাতটি।
পোশাক শিল্প বাংলদেশের নির্ভরতার খাত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে ধরা হয় সারা বিশ্বে। বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে কম দামে মানসম্পুর্ন পোশাক পেলে তারা আর বাংলাদেশে থেকে পোশাক কিনবে না। এই মুহূর্তে সেরকম কোন সম্ভাবনা না থাকলেও অচিরেই আমাদের সেরকম সমস্যার মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে। বর্তমান সমস্যাটি এর থেকেও জটিল।
এই করোনা সময়ে শ্রমিক ছাটাই জনিত সমস্যায় জর্জরিত আমাদের পোশাক খাত। চলতি জুন মাস থেকেই তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক।
রুবানা হকের এরকম মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। করোনা আক্রমনের প্রথমদিকে যখন সরকার সকল অফিস-আদালত, ফ্যাক্টরি ছুটি ঘোষণা করলো তখন মানুষ পিছুটান থেকে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিল। সেই জায়গা থেকে করোনা বংশ বিস্তারের সুযোগ পেলেও সেরকম বিস্ফোরক কিছু দেখি নি।
কিন্তু তার থেকেও বিস্ফোরক কর্মকান্ডটি করেছিলেন রুবানা হক। তিনি পুনরায় সকলকে কাজে যোগ দেয়ার জন্য বলেছিলেন। বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট রুবানা হক আরো বলেছিলেন, ‘‘করোনায় কোনো শ্রমিকের কিছু হলে সব দায়িত্ব আমরা নেব৷’’ একবার বাড়ি যাওয়া আবার বাড়ি থেকে সবাইকে ডেকে কর্মক্ষেত্রে যোগদানের নির্দেশে করোনা খুব ভালো করেই বংশ বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে।
যার ফলাফল আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি। পরবর্তীতে সরকার শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য রপ্তানি খাতের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ঋণ ঘোষণা করে দুই পার্সেন্ট সুদে। সরকার যদি এই টাকা না দিত তাহলে হয়তো আগে থেকেই শ্রমিক ছাটাই শুরু হয়ে যেত। তারা সেই ঋণের টাকায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে।
যখনই সরকার লকডাউন খুলে দেয় সীমিত আকারে এবং কর্মস্থলে গিয়ে কাজ করার সুবিধা দেয় তখনই বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট রুবানা হক শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রসঙ্গ অবতারণা করেন। এই দুর্যোগে সেই স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের অর্থনীতি ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে গিয়েছে। এই সময় তাদের ছাটাই করা হলে তাদের নতুন কাজ খুঁজে নেয়ার সুযোগও নেই।
এই সকল শ্রমিকেরা আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। আজ তাদের বিপদের সময় ত্যাগ করা কতটা নির্মম তা হয়তো লিখে বোঝানো যাবে না। করোনা সময় অন্যান্য সময়ের মত না। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে ছাড় দিলেই কেবল সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় থাকবে। মালিক পক্ষের ক্ষতি হবে তা এক বাক্যে চোখ বন্ধ করে বলা যায়।
তারা পুরো বেতন না দিক অর্ধেক বেতন দিলেও শ্রমিকরা হয়তো চলতে পারবে। শ্রমিকদের একটা বিরাট অংশ নারী। কেউ হয়তো পরিবার থেকে বিতাড়িত কিংবা, স্বামী কিংবা যে অর্থনৈতিক ছায়া দরকার তা থেকে বিতাড়িত। এমন সময় সেই অসহায়দের দেখবে কে? তারাই তো এক সময় আমাদের গর্বের বস্তু “মেইড ইন বাংলাদেশে” উপহার দিয়েছিলেন আমাদের।
মালিকদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দুঃখের ভাগিদার হওয়া। যদি মালিকরা শ্রমিকদের পাশে গিয়ে না দাঁড়ায় তাহলে তারা ঋণের চাপে জর্জরিত হবে, তারা বাধ্য হয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মত ঘটনায় লিপ্ত হবে। আর যারা এসব পারবে না তারা হয়তো এই পৃথিবীর বুক থেকে মুক্তি লাভের পথ খুঁজবে। “সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট” নয় ন্যায্য পাওনাই পারে অনেকগুলো সুন্দর জীবনকে বাঁচাতে।
ইকবাল হাসান শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়