কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লাখ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক কোটি। মৃত্যুর মিছিলের এমন এক বিশ্ব পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দুই শক্তিধর প্রতিবেশি রাষ্ট্রের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম সামরিক উত্তেজনা। বিশ্ব সমাজ ও রাজনীতির মতো এশিয়ার সমাজ ও ভূ-রাজনীতিতে নানামুখী ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি হয়েছে যা পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিলো।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য প্রাচ্য ও আরব বিশ্ব। দিত্বীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে দুটি মেরুকরণের সৃষ্টি লক্ষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক এবং অপরটি সোভিয়েত ইউনিয়ন। নব্বই দশকে স্নায়ু যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব বলয় তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও পুঁজিবাদ একচেটিয়া অর্থ-বাণিজ্য ও সেবা, সামরিক ও অস্ত্র বাণিজ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ, সংবাদ ও মিডিয়া, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে বৈশ্বিক একছত্র আধিপত্ত বজায় রেখে চলেছে। হালে এই ক্ষমতা ও প্রভাববলয় রূপ ধারণ করেছে বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাববলয়ে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সিরিয়া সংকটে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ও তুরস্ক বলয়; কোরিয়া সংকটে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ও চীন বলয়; ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স বলয়; ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া সংকটে রাশিয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বলয়।
এভাবে আরো প্রভাব বা ক্ষমতা বলয় বিদ্যমান রয়েছে বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে যেমন ফিলিস্তিন-ইযরাইল সংকট, আফগানিস্তান পরিস্থিতি, কিউবা, ইরাক, ইরান, পাকিস্তান-ভারত, সুদান, মিশর, ইউক্রেন, ভেনিজুয়েলা, কিউবা প্রভৃতি রাষ্ট্রগুলোর নানামুখী সংকট।
ইদানিং করোনা ভাইরাস মাহামারীরতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোকে কেন্দ্র করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মধ্যকার দ্বন্দ্ব; দিত্বীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাতিসংঘের ক্ষমতা বলয়ের এক পক্ষে রয়েছে চীন- রাশিয়া এবং অপর পক্ষে স্থায়ী কমিটির বাকি তিন সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফান্স। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ের দিকে জাতিসংঘে উত্থাপিত পাকিস্তানের যুদ্ধ বিরতীতে ভেটো প্রদান করেন তৎকালীন সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়ন।
সেটাও ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাবলয় রাষ্ট্রসমূহের প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং বাংলাদেশের চুড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে। এছাড়াও তথ্য ও মিডিয়া, সেবা ও স্বাস্থ্য, বাণিজ্যি ও সামরিক প্রভাব বলয়ের মধ্যে থেকে বর্তমান বিশ্ব সমাজ ও রাজনীতি জটিল, সুক্ষ ও সংবেদনশীল সমস্যা ও প্রভাববলয়ের মুখোমুখিতে দাঁড়িয়ে। বর্তমানে উভয় দেশ ভারত ও চীন সীমান্ত সংঘাত ভয়াবহ যুদ্ধের আবহ সৃষ্টি করেছে।
চলতি বিশ্ব প্রতিনিয়ত কভিড-১৯ মহামারীর সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। সেখান থেকে কঠিন রোগ মুক্তির পথ খুজতে রাষ্ট্র ও সংস্থাসমূহের উদ্বেগ ও ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। মানব সমাজকে সত্যিকারের জীবনের ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সকলেই কাজ করে যাচ্ছে যার যা অবস্থান থেকে। বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্রগুলো মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিস্কারের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কোনো কোনো রাষ্ট্র করোনা ভ্যাকসিন তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়।
ঠিক সেই সময়ে সৃষ্টি হয়েছে চীন ও ভারত এই দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজোনা। চীন- ভারত সংঘাত বা যুদ্ধ বিশ্বের কান্তিকালীন এ সময়ে বিশ্ব পরিস্থতিকে আরো জটিল সমস্যার সম্মুখীন করবে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। এই অঞ্চলে পাকিস্তানসহ চীন ও ভারত পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।
এর ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপের মতো ছোট ছোট পতিবেশি রাষ্ট্রসমূহ যুদ্ধ ও পারমানবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণের ক্ষয় ক্ষতি থেকে পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয়। বরং চীন-ভারত বা চীন-ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যেকোনো ধরনের সংঘাত এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
জাতীসংঘ ও বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহের উচিৎ সম্ভাব্য মহা বিপর্যয়ের হাত থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াকে সুরক্ষিত রাখা। এবং এই অঞ্চলের লক্ষ- কোটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সংলাপ, আলাপ- আলোচনা, কুটনৈতিক দক্ষতা ও বন্ধুত্বপূণ মনোভাবই এই অঞ্চলে বিদ্যমান চমৎকার শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর সীমানা ও কাশ্মীরের স্কাধীনতা নিয়ে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধ। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে কশ্মীর সমস্যা একটি জটিল বৃহত্তর ইস্যু।
অতীতে এ দু’টি রাষ্ট্রের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা ২০১৯ সালে বিলুপ্তির ফলে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত – পাকিস্তান সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে। এদিকে বন্ধু প্রতিম বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্তের ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান এসেছে বর্তমান সরকারের দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম দিনে। অন্যদিকে ভারত এবং চীনের মধ্যে সীমানা রয়েছে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটারের।
বিশাল এই সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বেশ কিছু অঞ্চল নিয়ে। তার মধ্যে লাদাখ অন্যতম। ১৯৬২ সালে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে যুদ্ধও সংগঠিত হয় একবার। দীর্ঘ সময় পরে পতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আবারো উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় গত মে-জুন মাসে। যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ ধারণ করে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাই (অনলাইন সংবাদ ও পত্রিকাতে প্রকাশিত সংবাদ, ১৬/০৬/২০২০) ভারতে ২০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য মৃত্যুবরণ করে। অপর পক্ষে অসমর্থিত সংবাদে জানা যায় চীনের ৪৫ জন সৈন্য মারা যায়। এ ব্যাপারে চীন সরকার বরাবরের মতোই নীরব থেকেছে। আধুনিত অস্ত্রসজ্জিত দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যকার এ সংঘাত ছিলো অত্যন্ত বর্বর ও মধ্যযুগীয়। নির্মম হত্যাযজ্ঞের মহড়ায় অংশগ্রহণ করে দুই প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সেনা সদস্যরা। এবং তাঁরা তাতে সফলও হয়েছেন!
আপাতদৃষ্টিতে হতাহতের আলামত জেনে তাই মনে হয়। সীমান্তে যেকোনো ধরনের বাড়াবাড়ির ঘটনা কোনো রাষ্ট্রের নিকট থেকেই কাম্য নয়। যেখানে বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ দাঁড়িয়ে রয়েছে উত্তর-আধুনিক যুগে এবং নিজেদেরকে সভ্য হিসেবে দাবী করে। বৈশ্বিক আধুনিকতার ব্যাপ্তির এ যুগে সীমান্ত এখন কেবলমাত্র আক্ষরিক রেখা মাত্র। একটি রাষ্ট্রের ভূ-সীমানা মাত্র। বাকি কর্মকান্ড অবারিত, মুক্ত ও পারস্পারিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
আধুনিকতা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ বিশ্বকে বর্তমানে একক সত্ত্বার রূপ দান করেছে। বাস্তবিক অর্থে পৃথিবীর রাষ্ট্রসমূহ বর্তমানে অবস্থান করছে একে অপরের সহযোগী ও পরিপুরক হিসেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ তারই উদাহরণ। অপরদিকে বিভিন্ন সীমান্তে রয়েছে সীমান্তরেখা বরাবর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ রাঙ্গানী ও অস্ত্রের উত্তপ্ত বুলেটের নির্দয় ব্যবহার।
অব্যাহত রয়েছে পাখির মতো গুলি করে নিরিহ ও অসহায় মানুষ হত্যার ঘটনা! ২০২০ সালের জুন মাসের শেষ সময়ে বাংলাদেশ -ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকের হত্যা কান্ডের কিছু ঘটনা দৈনিক পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র- মেক্সিকো, ইসরাইল -ফিলিস্তিন, ভারত-পাকিস্তান, ভারত- বাংলাদেশ এবং মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সীমান্ত রক্তাক্ত সীমান্তের উদাহরণ।
একক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো বিশ্ব সমাজ ও রাজনীতিতে সবার উপরে। এদিকে দক্ষিণ এশিয়াতে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সবার উপরে রয়েছে চীন। ভারতকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলেও ক্ষমতার প্রভাব বলয় ধরে রাখতে চাই। চীন-ভারত সংঘাত, সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট (সময় সংবাদ, ২৬/০৬/২০২০)।অপরদিকে ভারত এ অঞ্চলের ক্ষমতা বলয়ের নেতৃত্বে থাকতে চাই।
পাকিস্তানকে ভর করে আফগানিস্তানে কথিত শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে থেকেই রয়েছে শক্তিশালী অবস্থানে। ভারতকে মোকাবেলায় চীন উত্তরে পাকিস্তানকে সাথে নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অবস্থানকে দুর্বল করতে সচেষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণে উত্তর কোরিয়ার মতো ভয়ংকর অসহিষ্ণনু রাষ্ট্র ˜ব্যার্থহীনভাবে রয়েছে চীনের পক্ষে।
এমন আঞ্চলিক শক্তিবলয়ের মধ্যে এ অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের যৌক্তিক ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব রাজনীতিতে নারী সরকার প্রধান হিসেবে যে ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন তা বিশ্বময় প্রশংসনীয়।
এমন নিষ্ঠাবান সুযোগ্য নেতৃত্ত্বে কেবালমাত্র সরকার প্রধান হিসেবেই নয় বরং বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে চীন-ভারত সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান ডেকে আনতে পারেন। সে সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রধানমমন্ত্রীর রয়েছে যা দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
আশা করা যায় সংঘাত সমাধানে প্রতিবেশি ছোট ছোট রাষ্ট্রসমূহেরও প্রত্যাশা এমনটি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির সেই বিখ্যাত উক্তি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’।
এ উক্তির ভিত্তিতে এই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখতে সকল রাষ্ট্র এক যোগে কাজ করতে পারলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে। আঞ্চলিক প্রভাব বা ক্ষমতা দেখানোর রাজনীতি বলয় থেকে রাষ্ট্রসমূহকে বাহির হতে হবে। সেক্ষেত্রে কল্যাণকর প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সহাবস্থানই হতে পারে বিশ্ব ভাতৃত্ব ও বন্ধুসুলভ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার।
কভিড-১৯ মহামারীতে সহনশীল, একতাবদ্ধ, ধৈর্যধারণ, মানবিক ও প্রকৃতিবান্ধব সমাজ গড়ার যে শিক্ষা বিশ্ববাসী ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে দিয়ে যাচ্ছে সেই পৃথিবীকে রক্ষাকরা ও মানবিক হবার এখনি সময়। আঞ্চলিক অসম প্রতিযোগিতা ও প্রতিহিংসা মূলক আচরণ সকল রাষ্ট্রকে পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সকলেরই কাম্য।
এতে উপকৃত হবে সেই সকল রাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ এবং গৌরবান্বিত হবে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ।
দক্ষিণ এশিয়ায় দুই পরাশক্তির রাষ্ট্র চীন ও ভারতের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্তরায়। বিশ্ব অর্থনীতির বড় একটি অংশ এ দুটি রাষ্ট্রের দখলে। এছাড়াও বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ জন গোষ্ঠীর বসবাস এই অঞ্চলে।
জনবহুল চীন ও ভারতের প্রতিবেশি রাষ্ট্রসমূহ রক্তক্ষয়ী সংঘাত অথবা যুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করবে সেটাই স্বাভাবিক। চলমান সংঘাতের সাথে যুক্ত হতে পারে পারমানবিক শক্তি সমৃদ্ধ পাকিস্তান রাষ্ট্রটিও। নেপাল এবং ভুটানও পরোক্ষভাবে ভারতের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পরেছে যা তাঁদের মধ্যকার দীর্ঘ দিনের প্রতিবেশির ইতিহাসে এটা একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
আবার বিবিসি বাংলা সংবাদ দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে জানাচ্ছে যে চীন এবং ভারত দুই রাষ্ট্রই বাংলাদেশকে পাশে রাখতে চাই। অপর দিকে ভারতকে এখনি সামরিক সহায়তা প্রদান করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। বহুমুখী সম্পর্ক ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। চীন -ভারত যুদ্ধ সংগঠিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পক্ষ নিবে।
অপরদিকে পাকিস্তান পক্ষ নিচ্ছে চীনের। রাশিয়া, জার্মানী, জাপান, ফান্স, স্পেন, ইটালি, ব্রাজিল, তুরস্ক, সৌদিআরব প্রভৃতি শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ যদি পক্ষ বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পরে তাহলে সে যুদ্ধের রূপ হবে ভয়াবহ। কভিড-১৯ এর যে ভয়াবহতা বিশ্ব দেখছে, বিশ্ব এর চেয়ে বহুগুণ ধ্বংসলীলা দেখবে ভারত-চীন যুদ্ধ শুরু হলে। পৃথিবীর অত্যন্ত জনবহুল অঞ্চল দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া।
ফলে দুটি রাষ্ট্রের সহনশীল আচারণ ও সংলাপই পারে এ অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে। রাষ্ট্র দুটির মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশ পড়ে যাবে দুই শক্তিশালী ও বৃহত্তর দেশের মাঝখানে। বৃহত্তর দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের মাঝখানে পড়ে বাংলাদেশের মতো ছোট রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শান্তি হুমকীর মুখে পড়বে বলে অনেকেরই আশঙ্কা।
দিত্বীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দুটি বৃহত্তর রাষ্ট্রের মধ্যখানে পড়ে বেলজিয়ামের যা হয়েছিলো, চীন- ভারত যুদ্ধ হলে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের অবস্থা হবে সেই দশা। যাকে বলে বাফার রাষ্ট্র। বাংলাদেশ বাফার রাষ্ট্র হতে চাই না বরং বিবদমান রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চাই। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল একটি দেশ।
কভিড-১৯ এর মহামারীর এই দুঃসময়ে জাতীসংঘ এবং তার সাথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখাতে কৌশল ও নীতির পথ বাহির করা হবে সকলের প্রত্যাশিত। দেশ দু’টির জনগণ ও সরকারের চাওয়া থাকবে বিবদমান রাষ্ট্র দুটিকে আরো বেশি মানবিক ও সহনশীল থাকতে আহবান করা। যুদ্ধ বা সংঘাত নয় বরং সমন্বিত উন্নয়ন ধারা অব্যহত রেখে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অভুতপূর্ব উন্নয়ন হবে বিশ্বশান্তির বার্তাবাহক।
লেখক- চেয়ারম্যান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সম্পাদক, বাংলাদেশ স্কাউটস গোপালগঞ্জ জেলা রোভার।


























