০২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

মুছলেকায় মুক্তি পেলো চাকুরী দাতা প্রতারক তপন সাধু

স্ট্যাম্পে টাকা ফেরতের মুছলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তপন চন্দ্র সাধু নামে এক চাকুরী দাতা প্রতারক।
শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া গ্রামে শালিস বৈঠকে মুছলেকা দিয়ে মুক্তি পান তপন সাধু। প্রতারক তপন সাধু উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস এলাকার ভুবেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সরকারের সমাজসেবা অধিদফতরে অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী উত্তর বালাপাড়া এলাকার সেলিম হোসেনের নিকট ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন তপন সাধু। বেকারত্ব ঘোচনের জন্য চাকরির লোভে বসতভিটা ও আবাদি জমি বিক্রি করে গত বছরের ৩ এপ্রিল তপন সাধুকে ২লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দেন সেলিম হোসেন। টাকা গ্রহনের দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও চাকুরী না পেয়ে নিরাশ হয়ে পড়েন সেলিম হোসেন ও তার পরিবার। অবশেষে টাকা ফেরত চান সেলিম। সেই টাকা আজ কাল বলে কাল বিলম্ব করেন তপন সাধু। এরপর কৌশল পরিবর্তন করে তপন সাধু বাকী ৫০ হাজার টাকা দিলে চাকুরী হবে বলে জানালে সেলিম বাকী টাকা যোগারের চেষ্টা করেন। এরই মাঝে তপন সাধুর চাকুরী প্রতারনার বিষয়টি সেলিমের নজরে আসে। শুক্রবার(২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বাকী ৫০ হাজার টাকার জন্য তপন সাধু সেলিম হোসেন বাড়িতে পৌছলে তাকে আটকে দেয় সেলিম হোসেনের পরিবার।
শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে নিয়ে বৈঠকে বসেন তপন সাধুর পরিবার। বৈঠকে সমাজসেবা দফতরে চাকুরী দেয়ার নাম করে টাকা গ্রহনের কথা স্বীকার করেন তপন সাধু। অবশেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ১ লক্ষ ৫০ হাজার এবং ২৬ অক্টোবর অবশিষ্ট ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেয়ার মুছলেকা ৩শত টাকার স্টাম্পে লিখে দিয়ে মুক্তি পান প্রতারক তপন চন্দ্র সাধু। সমাজসেবা দফতরে অফিস সহকারী পদে চাকুরী দিতে চাওয়ার বিষয়টিও তিনি মুছলেকায় স্বীকার করেন।
চাকরি প্রার্থী সেলিম হোসেন বলেন, সাধু তপনের কথা মতো চাকরির জন্য আবাদি জমি ও বসতভিটা বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। টাকা নেয়ার পরে চাকুরীর খবর নেই। বরংচ বাকী টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। অবশেষে স্থানীয় শ্যালিসে টাকা ফেরতের মুছলেকা দেয় প্রতারক তপন সাধু।
শ্যালিস বৈঠকের একজন চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল বারেক বলেন, তপন চন্দ্র সাধু চাকুরী দিতে চেয়ে টাকা নিয়েও দিতে পারেনি। অবশেষে বৈঠকে দায় স্বীকারে টাকা ফেরতের মুছলেকা দিয়েছে। সময় মত টাকা ফেরত দিবে বলেও তার পরিবার অঙ্গীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

মুছলেকায় মুক্তি পেলো চাকুরী দাতা প্রতারক তপন সাধু

প্রকাশিত : ০৭:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্ট্যাম্পে টাকা ফেরতের মুছলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তপন চন্দ্র সাধু নামে এক চাকুরী দাতা প্রতারক।
শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া গ্রামে শালিস বৈঠকে মুছলেকা দিয়ে মুক্তি পান তপন সাধু। প্রতারক তপন সাধু উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস এলাকার ভুবেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সরকারের সমাজসেবা অধিদফতরে অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী উত্তর বালাপাড়া এলাকার সেলিম হোসেনের নিকট ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন তপন সাধু। বেকারত্ব ঘোচনের জন্য চাকরির লোভে বসতভিটা ও আবাদি জমি বিক্রি করে গত বছরের ৩ এপ্রিল তপন সাধুকে ২লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দেন সেলিম হোসেন। টাকা গ্রহনের দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও চাকুরী না পেয়ে নিরাশ হয়ে পড়েন সেলিম হোসেন ও তার পরিবার। অবশেষে টাকা ফেরত চান সেলিম। সেই টাকা আজ কাল বলে কাল বিলম্ব করেন তপন সাধু। এরপর কৌশল পরিবর্তন করে তপন সাধু বাকী ৫০ হাজার টাকা দিলে চাকুরী হবে বলে জানালে সেলিম বাকী টাকা যোগারের চেষ্টা করেন। এরই মাঝে তপন সাধুর চাকুরী প্রতারনার বিষয়টি সেলিমের নজরে আসে। শুক্রবার(২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বাকী ৫০ হাজার টাকার জন্য তপন সাধু সেলিম হোসেন বাড়িতে পৌছলে তাকে আটকে দেয় সেলিম হোসেনের পরিবার।
শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে নিয়ে বৈঠকে বসেন তপন সাধুর পরিবার। বৈঠকে সমাজসেবা দফতরে চাকুরী দেয়ার নাম করে টাকা গ্রহনের কথা স্বীকার করেন তপন সাধু। অবশেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ১ লক্ষ ৫০ হাজার এবং ২৬ অক্টোবর অবশিষ্ট ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেয়ার মুছলেকা ৩শত টাকার স্টাম্পে লিখে দিয়ে মুক্তি পান প্রতারক তপন চন্দ্র সাধু। সমাজসেবা দফতরে অফিস সহকারী পদে চাকুরী দিতে চাওয়ার বিষয়টিও তিনি মুছলেকায় স্বীকার করেন।
চাকরি প্রার্থী সেলিম হোসেন বলেন, সাধু তপনের কথা মতো চাকরির জন্য আবাদি জমি ও বসতভিটা বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। টাকা নেয়ার পরে চাকুরীর খবর নেই। বরংচ বাকী টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। অবশেষে স্থানীয় শ্যালিসে টাকা ফেরতের মুছলেকা দেয় প্রতারক তপন সাধু।
শ্যালিস বৈঠকের একজন চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল বারেক বলেন, তপন চন্দ্র সাধু চাকুরী দিতে চেয়ে টাকা নিয়েও দিতে পারেনি। অবশেষে বৈঠকে দায় স্বীকারে টাকা ফেরতের মুছলেকা দিয়েছে। সময় মত টাকা ফেরত দিবে বলেও তার পরিবার অঙ্গীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ