আজকাল বখাটেপনা অতি সাধারণ একটি দৃশ্য। বিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসেও মানুষের মানসিকতা নোংরামিতে বন্দী হয়ে পড়ে আছে। একটুখানি বোধ শক্তিও কি নাই, যে এ মেয়েটিই কারো কলিজার কন্য কারো বা আদরের বোন নতুবা কারো স্বর্গতুল্য মা। কে শুনে কার কথা। যৌবনের মাদকতায় দুনিয়াময় যেন শুধু নারীই দেখে তারা। নারীরা যেন তাদের চোখে শুধুই দেহ। তাদের কাউকে আবার দেখবেন নারী মুক্তি আন্দোলন সাথেও জড়িতও দেখা যায়। এগুলো বড়ই আফসোসের কথা!
সামাজিক ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে বখাটেপনা। শহরের অলি-গলি থেকে গ্রামগঞ্জেও ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে বখাটেদের উৎপাত । স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কন্যাশিশু থেকে গৃহবধূরাও রক্ষা পাচ্ছে না বখাটেদের হাত থেকে। গত কয়েকদিন আগে সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে তরুণীকে ধর্ষণে করে ৪ জন বখাটে। ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা সবাই এমসি কলেজের ছাত্র।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকার যোগে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে আসেন দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির এক তরুণী। ক্যাম্পাস সেই চার বখাটে পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসেই তরুণীর স্বামীকে বেঁধে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। কতটা নির্মম একটু চিন্তা করেছেন!
পরে পুলিশ গিয়ে স্বামীসহ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। পরে ধর্ষিতাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই চার ধর্ষকের গণধর্ষণকেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন কথিত প্রভাবশালী নামের লম্পটরা। কলেজ ছাত্রাবাস বন্ধ থাকলেও এরা প্রতিদিন ছাত্রাবাসে রাতে জুয়া ও মাদকের আসর বসাতো আর দিনে করতো বখাটেপনা।
অনেকটা অভিভাবকদের লাগামহীন স্বাধীনতা, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে বখাটেরা আরও বেপরোয়া হচ্ছে। আজকাল বাবা-মা কন্যাসন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে না। অনেকে ভিকটিম হয়েও প্রতিবাদ করছেন না। প্রতিবাদ করলেই বিপদে পড়তে হয় পুরো পরিবারকে। সমাজে অনেকটা অসহায় কন্যাশিশু ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
পশুতুল্য বখাটেদের উৎপাত ক্রমেই করোনা থেকেও বড় মহামারীতে রূপ নিচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় বখাটেপনায় ইতোমধ্যে অনেক কন্যাশিশু আত্মহত্যা করছে। গণধর্ষণ, অপহরণ হওয়ার পরও ভিকটিম পরিবারগুলো মামলাও করতে পারে না। কারন তাদের হয়তো বখাটের ভয় থাকে নয়তো প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা থাকে।
আবার এদিকে বখাটে ছেলেদের পরিবারও একরকম অসহায় । কিছু বলতে গেলেই বখাটেদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয় স্বয়ং বাবা-মা। বখাটেদের এ ধরনের পাশবিক উৎপাত বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। যদি এখনও সচেতন না হই ভবিষ্যতে আমাদেরই কন্যাশিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যাবে। প্রতিটি থানায় পুলিশের টহল জোরদার করা অতীব জরুরি ।
সোচ্চার হাতে হবে বখাটেপনা ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে । ধর্ষকের ধর্ম-বর্ণ নাই, হতে পারেও না। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রশাসন-সুশীল সমাজ জনসাধারন এক কাতারে এসে বখাটেপনার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নতুবা সোনার বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন গুলো ম্লান হয়ে যাবে।
আবু জাফর শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক


























