ঢাকা রাত ১২:০২, শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নদীতে ফেলছে জিও ব্যাগ থেমে নেই বালু উত্তোলন

মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন, হুমকিতে কয়েকটি গ্রাম

উচ্চ আদালত ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কড়া নির্দেশনার পরও থামছে না নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। কোনো রকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের ঠান্ডার বাজার নামক এলাকায় মেঘনা নদী থেকে বড় বড় ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী বালু কারবারিরা।
মেঘনার এ শাখা নদীটির একপাশে যখন জিওব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, অন্যদিকে প্রভাবশালী মহল নদীর মাঝখানে কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জালালপুর ও ঠান্ডার বাজার এলাকার কয়েকশ বাড়িঘর, ফসলী জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা । যা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রশাসন বলছে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আর নামমাত্র কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থানীয়রা এসব অভিযানকে তামাশা, হাস্যকর ও আইওয়াশ বলছে। গোসাইরহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা ছুড়ে ফেলেছে। তারা বলছে, এসব অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদে তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনানুগ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রভাবশালী সুমন দেওয়ান, দেলোয়ার হোসেন, সুজন দেওয়ান, মাসুদ মৃধা এবং খবির খান নদীটিতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মাসের পর মাস বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জাহাজ বালি বিক্রি করছে তারা। অথাৎ প্রতি জাহাজ বালি ১০ হাজার টাকা করে বিক্রি করলেও এ প্রভাবশালী মহলটি প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে (৬০দ্ধ১০,০০০)= ৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কেউ তাদেরকে কিছু বলতে পারছে না। মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালানোর জন্য আসে। কিন্তু যেদিন আছে সেদিন কোনো বালু উত্তোলন করা হয়না। কিভাবে জানি তাদের কাছে খবর চলে আসে। তারা চলে গেলে আবার সেই আগের মত।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে চারটি ড্রেজার বসানো রয়েছে। কয়েকটি ড্রেজার চালু রয়েছে। সেখান থেকে মাঝারি আকৃতির জাহাজে বালু নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে বালু ব্যবসায়ীরা। বালু নেয়ার অপেক্ষায় আছে আরো শতাধিক জাহাজ।
নদীর পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যারা বালি কাটে তারা অনেক প্রভাবশালী। আমাদের বাড়ি ঘর হুমকির মুখে থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কিছু বলতে পারি না। মাসের পর মাস এভাবে বালি কাটলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
এ বিষয়ে জানতে ড্রেজার ব্যবসায়ী কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় যায়নি। পরে সুমন দেওয়ান ও খবির খা এর মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এসব অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ করতে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছি। শীঘ্রই এসব ড্রেজার স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ