সমিতির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় আদায় করে তা আত্নসাতের চেষ্টা। সঞ্চিত টাকা ফেরতের দাবিতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) অফিসে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা।
মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) দুপুরে শত শত গ্রাহক ইউএনও অফিসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সঞ্চিত টাকা ফেরতে আইনী সহায়তা কামনা করেন। অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার মহিষখোচা বাজারের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম খাঁন, জিয়াউর রহমান ও আব্দুল হাই সমবায় বিভাগ থেকে প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতির নিবন্ধন গ্রহন করেন। গত ২০১২ সালে ৫৮ নং নিবন্ধন মুলে মহিষখোচা ইউনিয়নে হতদরিদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে সদস্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন অংকে সঞ্চয় গ্রহন করেন তারা। প্রায় ৫হাজার দুইশত গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪/৫ কোটি টাকা সঞ্চয় আদায় করেন সমিতির কর্তৃপক্ষ। সদস্যদের মাঝে ঋণ দেয়ার কথা থাকলেও গত ৫ মাস ধরে টালবাহনা করে সঞ্চয় আদায়ও বন্ধ করে দেন। বিষয়টি নিয়ে সদস্যরা স্থানীয় ভাবে একাধিক বৈঠক হলেও সদস্য সঞ্চয় ফেরত দেয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগি সদস্যরা কয়েকমাস আগে আদিতমারী উপজেলা সমবায় অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও সঞ্চয় ফেরত পাননি। বরংচ সমিতির নেতারা গ্রাহকদের বিভিন্ন ভাবে মামলা ঝামলা ও হয়রানীর হুমকী দেয়া হয় বলে সদস্যদের অভিযোগ।
অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে শত শত গ্রাহক মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) দুপুরে আদিতমারী ইউএনও কার্যালয়ের সামনে সমিতির পাশ বহি নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং সঞ্চয় ফেরতের ব্যবস্থা করতে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও গ্রাহকদের অভিযোগ শুনে অাগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে তারা ইউএনও কার্যালয় ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগি দিনমজুর মমিনুর রহমান বলেন, গরিব মানুষ ভবিষ্যাতের কথা ভেবে না খেয়ে সরকারী নিবন্ধন প্রাপ্ত এ সমিতিতে সঞ্চয় করেছি। এখন তারা সঞ্চয় ফেরৎ না দিয়ে টালবাহনা করছে। অভিযোগ দেয়ায় সদস্যদের টাকায় সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকী দিচ্ছে। তিনি কষ্টে জমানো সঞ্চয় ফেরত পেতে সরকারের ঊর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, সদস্য সঞ্চয় ফেরত না দেয়ার বিষয়টি আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা সমবায় বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি তদন্তে এবং সমাধানের সুপারিশ চেয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে(ওসি) বলা হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















