১০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

নেত্রকোনায় ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে গ্রাম ছাড়া অনেক পরিবার

স্থানীয় ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে নিজের জায়গা দখল নিতে পারছেনা নেত্রকোনার বারহাট্টার এক ভুক্তভোগী পরিবার। এতে বিপাকে পড়েছে ওই তারা। শুধু তাই নয় গ্রামের অনেকই তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। এলাকার কোন ব্যক্তি জমি কেনা বেচা করলেই তাদেরকে দিতে হয় চাঁদা। চাঁদা না দিলে মামলা হামলাসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষদের।

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামের আখিমনি। কিছুদিন পুর্বে একই গ্রামের বিমল রঞ্জন সরকারের নিকট থেকে ৫০ শতাংশ ভূমি ১৪ লক্ষা টাকা দিয়ে ক্রয় করে দলিলাদি সম্পন্ন করেন। এর পর থেকেই স্থানীয় ভূমিদস্যু হিমেল আহমেদের নেতৃত্বে শুরু হয় হামলা মামলা ও নির্যাতন। তাদের অত্যাচারে নিজ জমি দখল নিতে পারছেনা বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।

এদিকে জমি বিক্রি করে বিপাকে পড়েছে জমি বিক্রেতা বিমল রঞ্জন সরকার। ভূমিদস্যু হিমেল গংদের নিকট নিকট জমি বিক্রি না করায় তাদের নামেও মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যাপক হয়রানী করছে। শুধু তাই নয় ভূমিদস্যুদের মেরে ফেলার হুমকির ভয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস করছেন তারা।

জমি বিক্রেতা হারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি তত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার সরকার জানান, ‘হিমেল গংদের নিকট জমি বিক্রি না করায় আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমাদের নামে কোর্টে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। অথচ জমি বিক্রির আগে তারা আমাদের কিছুই জানায়নি। এতে করে তাদের ভয়ে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বারহাট্টা শহরে বসবাস করছি। কর্তৃপক্ষের নিকট আমি এর উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।’

অভিুযুক্ত হিমেলের সাথে কথা হলে তিনি হামলা মামলার কথা অস্বীকার করেন। কোন দলিলাদি ছাড়াই তাদের কাছে মৌখিকভাবে জমি বিক্রি করেছে বলে দাবী তার। এ নিয়ে কোর্টে মামলা করার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাউশী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ তারেক হাবিব জানান, হিমেল গংরা হচ্ছে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ। এলাকায় কোন জমি কেনা বেচা করলে ক্রেতা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে ওই ভূমিদস্যুদের চাঁদা দিতে হয়। তাদের অত্যাচারে এলাকার অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। এর উপযুক্ত বিচার চেয়েছেন তিনি।

বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সন্ত্রাসীদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে, এমনিই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনায় ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে গ্রাম ছাড়া অনেক পরিবার

প্রকাশিত : ০৪:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০

স্থানীয় ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে নিজের জায়গা দখল নিতে পারছেনা নেত্রকোনার বারহাট্টার এক ভুক্তভোগী পরিবার। এতে বিপাকে পড়েছে ওই তারা। শুধু তাই নয় গ্রামের অনেকই তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। এলাকার কোন ব্যক্তি জমি কেনা বেচা করলেই তাদেরকে দিতে হয় চাঁদা। চাঁদা না দিলে মামলা হামলাসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষদের।

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামের আখিমনি। কিছুদিন পুর্বে একই গ্রামের বিমল রঞ্জন সরকারের নিকট থেকে ৫০ শতাংশ ভূমি ১৪ লক্ষা টাকা দিয়ে ক্রয় করে দলিলাদি সম্পন্ন করেন। এর পর থেকেই স্থানীয় ভূমিদস্যু হিমেল আহমেদের নেতৃত্বে শুরু হয় হামলা মামলা ও নির্যাতন। তাদের অত্যাচারে নিজ জমি দখল নিতে পারছেনা বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।

এদিকে জমি বিক্রি করে বিপাকে পড়েছে জমি বিক্রেতা বিমল রঞ্জন সরকার। ভূমিদস্যু হিমেল গংদের নিকট নিকট জমি বিক্রি না করায় তাদের নামেও মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যাপক হয়রানী করছে। শুধু তাই নয় ভূমিদস্যুদের মেরে ফেলার হুমকির ভয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস করছেন তারা।

জমি বিক্রেতা হারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি তত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার সরকার জানান, ‘হিমেল গংদের নিকট জমি বিক্রি না করায় আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমাদের নামে কোর্টে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। অথচ জমি বিক্রির আগে তারা আমাদের কিছুই জানায়নি। এতে করে তাদের ভয়ে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বারহাট্টা শহরে বসবাস করছি। কর্তৃপক্ষের নিকট আমি এর উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।’

অভিুযুক্ত হিমেলের সাথে কথা হলে তিনি হামলা মামলার কথা অস্বীকার করেন। কোন দলিলাদি ছাড়াই তাদের কাছে মৌখিকভাবে জমি বিক্রি করেছে বলে দাবী তার। এ নিয়ে কোর্টে মামলা করার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাউশী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ তারেক হাবিব জানান, হিমেল গংরা হচ্ছে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ। এলাকায় কোন জমি কেনা বেচা করলে ক্রেতা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে ওই ভূমিদস্যুদের চাঁদা দিতে হয়। তাদের অত্যাচারে এলাকার অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। এর উপযুক্ত বিচার চেয়েছেন তিনি।

বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সন্ত্রাসীদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে, এমনিই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ