০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

১২ বছরে বাজেটের আকার বাড়ছে ৬ গুণ

  • তাকী জোবায়ের
  • প্রকাশিত : ০৩:১৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১
  • 76

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন ছিল ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ঠিক মাঝামাঝি সময়। ওই সময় বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা, যেটি ঘোষণা করেছিল সেনাসমর্থিত তত্তবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। ইতোমধ্যে টানা একযুগ পূর্ণ করেছে শেখ হাসিনার সরকার। আগামি জুনে এই সরকার যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সেটির আকার ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে ১২ বছরে বাজেটের আকার বাড়তে যাচ্ছে প্রায় ছয় গুণ।

চলতি বছরে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে। সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশ যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে তার আকার ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ৭৫৫ গুণ বড়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম যে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছিলেন তার আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। তখন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে তাচ্ছিল্য করেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। সেই বাংলাদেশ আজ ছয় ট্রিলিয়ন টাকরা বাজেট ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। ডলারের হিসাবে এই আকার প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। অথচ পাকিস্তানের বাজেটের আকার মাত্র ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে বাংলাদেশের বাজেটের আকার পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় ১৬০ শতাংশ বড়।

স্বাধীনতার পর প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য ৭৮৬ কোটি টাকা, ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরের জন্য ৯৯৫ কোটি টাকা, ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরের জন্য ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের জন্য ড. আজিজুর রহমান ১৫৪৯.১৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের জন্য ১৯৮৯.৮৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা দেন তিনি। ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা এবং ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরের জন্য জিয়াউর রহমান ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এরপরের বছর ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরের জন্য ড. মীর্জা নুরুল হুদা ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

১৯৮০-৮১ অর্থবছরের জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৮১-৮২ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকার পরপর দুইটি বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। এরপর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের জন্য ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেন।

অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বাজেট ঘোষণা করেন চারটি। ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা, ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরের জন্য ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরের জন্য ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা এবং ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরের জন্য ৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হক ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, অর্থমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১৯৯০-৯১ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বাজেট ঘোষনা করেন।

বিএনপি সরকারের আমলে টানা ৫টি বাজেট ঘোষণা করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। প্রথম ১৯৯১-৯২ অর্থবছরের জন্য ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। এরপর ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরের ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরের জন্য ২০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা এবং ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরের জন্য ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়া টানা ৬টি বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের জন্য ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরের জন্য ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরের জন্য ২৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরের জন্য ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা, ২০০০-০১ অর্থবছরের জন্য ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা এবং ২০০১-০২ অর্থবছরের জন্য ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান দ্বিতীয় মেয়াদে টানা ৫টি বাজেট ঘোষণা করেন। ২০০২-০৩ অর্থবছরের জন্য ৪৪ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা, ২০০৩-০৪ অর্থবছরের জন্য ৫১ হাজর ৯৮০ কোটি টাকা, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের জন্য ৫৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের জন্য ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা এবং ২০০৬-০৭ অর্থবছরের জন্য ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুইটি বাজেট ঘোষণা করেন এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি ২০০৭-০৮ অর্থবছরের জন্য ৮৭ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

এরপরে হচ্ছে বাংলাদেশের অব্যাহত যাত্রার যুগ। বাংলাদেশে প্রথম বাজেটের আকার এক লাখ ছাড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ মেয়াদের বাজেট ঘোষণা করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথম এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি। টানা ১০টি বাজেট দেন সাবেক এই অর্থমন্ত্রী। এরপর ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেট দেন এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার। ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৭০ কোটি টাকার বাজেট দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি শেষ বাজেট দেন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের পঞ্চম মেয়াদের প্রথম বাজেট দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। তিনি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট দেন। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাশ করে জাতীয় সংসদ। আগামি জুন মাসে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন মোস্তফা কামাল।

করোনার মধ্যেও আগামি অর্থবছরে বাজেটের আকার বাড়ছে ২৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। করোনা সংকটে অর্থনৈতিক স্থবিরতার মধ্যে ভয় না পেয়ে সাহসিকতার পথে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যয় না কমিয়ে নতুন বাজেটে বিকল্প আয়ের পথ বের করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয় নয়টি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এগুলো হচ্ছে- বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা; কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সফল বাস্তবায়ন; কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া; অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সেচ ও বীজ প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন, সারে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখা; ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ; সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা স¤প্রসারণ; গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহনির্মাণ (মুজিববর্ষের প্রধান কার্যক্রম) কার্যক্রম বাস্তবায়ন; নিম্মআয়ের মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা চালু রাখা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

১২ বছরে বাজেটের আকার বাড়ছে ৬ গুণ

প্রকাশিত : ০৩:১৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন ছিল ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ঠিক মাঝামাঝি সময়। ওই সময় বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা, যেটি ঘোষণা করেছিল সেনাসমর্থিত তত্তবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। ইতোমধ্যে টানা একযুগ পূর্ণ করেছে শেখ হাসিনার সরকার। আগামি জুনে এই সরকার যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সেটির আকার ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে ১২ বছরে বাজেটের আকার বাড়তে যাচ্ছে প্রায় ছয় গুণ।

চলতি বছরে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে। সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশ যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে তার আকার ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ৭৫৫ গুণ বড়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম যে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছিলেন তার আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। তখন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে তাচ্ছিল্য করেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। সেই বাংলাদেশ আজ ছয় ট্রিলিয়ন টাকরা বাজেট ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। ডলারের হিসাবে এই আকার প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। অথচ পাকিস্তানের বাজেটের আকার মাত্র ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে বাংলাদেশের বাজেটের আকার পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় ১৬০ শতাংশ বড়।

স্বাধীনতার পর প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য ৭৮৬ কোটি টাকা, ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরের জন্য ৯৯৫ কোটি টাকা, ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরের জন্য ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের জন্য ড. আজিজুর রহমান ১৫৪৯.১৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের জন্য ১৯৮৯.৮৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা দেন তিনি। ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা এবং ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরের জন্য জিয়াউর রহমান ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এরপরের বছর ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরের জন্য ড. মীর্জা নুরুল হুদা ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

১৯৮০-৮১ অর্থবছরের জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৮১-৮২ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকার পরপর দুইটি বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। এরপর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের জন্য ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেন।

অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বাজেট ঘোষণা করেন চারটি। ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা, ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরের জন্য ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরের জন্য ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা এবং ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরের জন্য ৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হক ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, অর্থমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১৯৯০-৯১ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বাজেট ঘোষনা করেন।

বিএনপি সরকারের আমলে টানা ৫টি বাজেট ঘোষণা করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। প্রথম ১৯৯১-৯২ অর্থবছরের জন্য ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। এরপর ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরের ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরের জন্য ২০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা এবং ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরের জন্য ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়া টানা ৬টি বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের জন্য ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরের জন্য ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরের জন্য ২৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরের জন্য ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা, ২০০০-০১ অর্থবছরের জন্য ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা এবং ২০০১-০২ অর্থবছরের জন্য ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান দ্বিতীয় মেয়াদে টানা ৫টি বাজেট ঘোষণা করেন। ২০০২-০৩ অর্থবছরের জন্য ৪৪ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা, ২০০৩-০৪ অর্থবছরের জন্য ৫১ হাজর ৯৮০ কোটি টাকা, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের জন্য ৫৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের জন্য ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা এবং ২০০৬-০৭ অর্থবছরের জন্য ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুইটি বাজেট ঘোষণা করেন এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি ২০০৭-০৮ অর্থবছরের জন্য ৮৭ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন।

এরপরে হচ্ছে বাংলাদেশের অব্যাহত যাত্রার যুগ। বাংলাদেশে প্রথম বাজেটের আকার এক লাখ ছাড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ মেয়াদের বাজেট ঘোষণা করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথম এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি। টানা ১০টি বাজেট দেন সাবেক এই অর্থমন্ত্রী। এরপর ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেট দেন এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার। ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৭০ কোটি টাকার বাজেট দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি শেষ বাজেট দেন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের পঞ্চম মেয়াদের প্রথম বাজেট দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। তিনি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট দেন। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাশ করে জাতীয় সংসদ। আগামি জুন মাসে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন মোস্তফা কামাল।

করোনার মধ্যেও আগামি অর্থবছরে বাজেটের আকার বাড়ছে ২৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। করোনা সংকটে অর্থনৈতিক স্থবিরতার মধ্যে ভয় না পেয়ে সাহসিকতার পথে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যয় না কমিয়ে নতুন বাজেটে বিকল্প আয়ের পথ বের করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয় নয়টি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এগুলো হচ্ছে- বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা; কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সফল বাস্তবায়ন; কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া; অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সেচ ও বীজ প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন, সারে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখা; ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ; সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা স¤প্রসারণ; গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহনির্মাণ (মুজিববর্ষের প্রধান কার্যক্রম) কার্যক্রম বাস্তবায়ন; নিম্মআয়ের মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা চালু রাখা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর