০৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রশাসনের নতুন মুখ, প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সামনে কঠিন বাস্তবতা

ঢাকা শুধু বাংলাদেশের রাজধানী নয়, দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল, হাজারো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং দ্রুত নগরায়নের চাপে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে আসা মিল্টনের সামনে যেমন রয়েছে নাগরিকদের আস্থা অর্জনের সুযোগ, তেমনি রয়েছে দীর্ঘদিনের নগর সমস্যার কার্যকর সমাধান দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ।রাজনৈতিক জীবন থেকে প্রশাসনেপ্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে দলীয় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে মাঠপর্যায়ের একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এখন নগর প্রশাসনে কতটা কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।

যে নগরীর দায়িত্ব ডিএনসিসির আওতায় উত্তরা, মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, খিলক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। কয়েক মিলিয়ন মানুষের প্রতিদিনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের।

এই বিশাল কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে কঠিন বর্জ্য,ব্যবস্থাপনা,মশক নিয়ন্ত্রণ,খাল ও ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণ,জলাবদ্ধতা নিরসন ,সড়ক ও ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন। প্রথম কয়েক মাসের অগ্রাধিকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে তিনি মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, খাল ও ড্রেন পরিষ্কার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন।

নগরবাসীর সঙ্গে কথা বললে কয়েকটি প্রত্যাশা বারবার উঠে আসে:

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান সাফল্য
  • দ্রুত বর্জ্য অপসারণ
  • বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমানো
  • ফুটপাত দখলমুক্ত করা
  • পার্ক ও খেলার মাঠ রক্ষা
  • অনলাইন সেবার মান উন্নয়ন
  • দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা
  • বিশেষজ্ঞদের মতামত

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার সমস্যার সমাধান কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, সড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাঁদের মতে, প্রশাসকের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে কার্যকর সমন্বয়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

বর্তমানে ডিএনসিসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো হলো:

  • ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ
  • জলাবদ্ধতা নিরসন
  • অবৈধ দখল উচ্ছেদ
  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন
  • পরিবেশ দূষণ কমানো
  • নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি
  • উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন

সিটি করপোরেশনের সফলতা শুধু রাস্তা নির্মাণ বা মশা নিধনের ওপর নির্ভর করে না। প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসক যদি নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি, উন্মুক্ত শুনানি, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন চালু করতে পারেন, তবে নাগরিক আস্থা আরও বাড়বে।সামনে পথচলারাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক দক্ষতায় কতটা রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সামনে থাকা দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান এবং নাগরিক সেবার দৃশ্যমান উন্নয়নই প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়নের মানদণ্ড হবে। রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের প্রত্যাশা, নেতৃত্বের এই নতুন অধ্যায়ে সেবার মান বাড়বে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং ঢাকা উত্তর ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।

ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৫তম আন্তঃ বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

প্রশাসনের নতুন মুখ, প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সামনে কঠিন বাস্তবতা

প্রকাশিত : ০১:১৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকা শুধু বাংলাদেশের রাজধানী নয়, দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল, হাজারো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং দ্রুত নগরায়নের চাপে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে আসা মিল্টনের সামনে যেমন রয়েছে নাগরিকদের আস্থা অর্জনের সুযোগ, তেমনি রয়েছে দীর্ঘদিনের নগর সমস্যার কার্যকর সমাধান দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ।রাজনৈতিক জীবন থেকে প্রশাসনেপ্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে দলীয় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে মাঠপর্যায়ের একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এখন নগর প্রশাসনে কতটা কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।

যে নগরীর দায়িত্ব ডিএনসিসির আওতায় উত্তরা, মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, খিলক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। কয়েক মিলিয়ন মানুষের প্রতিদিনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের।

এই বিশাল কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে কঠিন বর্জ্য,ব্যবস্থাপনা,মশক নিয়ন্ত্রণ,খাল ও ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণ,জলাবদ্ধতা নিরসন ,সড়ক ও ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন। প্রথম কয়েক মাসের অগ্রাধিকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে তিনি মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, খাল ও ড্রেন পরিষ্কার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন।

নগরবাসীর সঙ্গে কথা বললে কয়েকটি প্রত্যাশা বারবার উঠে আসে:

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান সাফল্য
  • দ্রুত বর্জ্য অপসারণ
  • বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমানো
  • ফুটপাত দখলমুক্ত করা
  • পার্ক ও খেলার মাঠ রক্ষা
  • অনলাইন সেবার মান উন্নয়ন
  • দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা
  • বিশেষজ্ঞদের মতামত

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার সমস্যার সমাধান কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, সড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাঁদের মতে, প্রশাসকের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে কার্যকর সমন্বয়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

বর্তমানে ডিএনসিসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো হলো:

  • ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ
  • জলাবদ্ধতা নিরসন
  • অবৈধ দখল উচ্ছেদ
  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন
  • পরিবেশ দূষণ কমানো
  • নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি
  • উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন

সিটি করপোরেশনের সফলতা শুধু রাস্তা নির্মাণ বা মশা নিধনের ওপর নির্ভর করে না। প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসক যদি নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি, উন্মুক্ত শুনানি, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন চালু করতে পারেন, তবে নাগরিক আস্থা আরও বাড়বে।সামনে পথচলারাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক দক্ষতায় কতটা রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সামনে থাকা দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান এবং নাগরিক সেবার দৃশ্যমান উন্নয়নই প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়নের মানদণ্ড হবে। রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের প্রত্যাশা, নেতৃত্বের এই নতুন অধ্যায়ে সেবার মান বাড়বে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং ঢাকা উত্তর ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।

ডিএস