ঢাকা দুপুর ২:৫৯, রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রত্যাশিত সময়ে ভ্যাকসিন

প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে অর্থনীতিতে

আগামি ২৫ জানুয়ারির মধ্যে করোনা টিকা আসছে বাংলাদেশে। প্রত্যাশিত সময়ে ভ্যাকসিন আসার কারণে করোনা মহামারিতে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও গবেষকরা।
গত বছরের পুরোটাই ছিল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিধ্বংসী এক বছর। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশকেও বিপর্যস্ত করেছে এই ভাইরাস।

গত বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গভীর চাপ অনুভূত হয়েছে। তবে ২০২১ সালে বিশ্ব অর্থনীতি কোন দিকে যাবে তা নিয়ে চলছে গবেষণা। এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশেও ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের মতে, করোনা সঙ্কট-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় চালকের আসনে থাকবে ‘ভ্যাকসিন’ আর বিভিন্ন ধরনের ‘বিনিয়োগ’। গবেষকরাও বলছেন, ভ্যকসিন প্রয়োগ শুরু হলে অর্থনীতিতে গতি আসবে।

‘দেশে করোনার ভ্যাকসিন আসলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে’ জানিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত আকজের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, “বহু প্রত্যাশিত ভ্যাকসিন হাতে পেলে মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য আসবে। মনস্তাত্তিকভাবে ‘বুস্ট আপ’ হবেন সবাই। শনাক্তের হার কমে আসলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।”

সম্প্রতি করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়, সংরক্ষণ ও সরবরাহের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতে অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ৩ কোটি ডোজ টিকা আনছে বেক্সিমকো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের মহামারী চলাকালীন ভ্যাকসিন ছাড়া অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। তারা বলছেন, ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হলেই মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। অর্থনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে কর্মকান্ড গতি পাবে।

করোনা ভ্যবসিন প্রয়োগ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর বাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রতিটি দেশই নতুন করে অর্থনীতির হিসাব কষছে। এর বাইরে নেই বাংলাদেশও। করোনা ভ্যাকসিন আসার খবরে ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। আর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে কনটেইনার লোড-আনলোডের সংখ্যা। যা নতুন বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরেই সম্ভাব্য হিসাব করছে অর্থ বিভাগ। এর মধ্যে প্রত্যাশিত সময়ে ভ্যাকসিন আসায় অর্থনীতিতে গতি বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

করোনা ভ্যাকসিনের খবরে গত ছয় সপ্তাহ ধরেই ‘রকেট গতিতে’ ছিল দেশের শেয়ারবাজার যা সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। করোনা ভ্যাকসিন আসার দিন-তারিখ নিশ্চিত হওয়ায় শেয়ারবাজার আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অনারারি প্রফেসর আবু আহমেদ আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, “করোনার ভ্যাকসিনের সাথে শেয়ারবাজারের সূচকের ওঠা-নামার সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। তবে এজেন্ট হিসেবে যেহেতু বেক্সিমকো আনবে তাই তাদের শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। ভ্যাকসিনে করোনা থেকে মুক্তি মিললে মানুষ আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। ১ আইটমের উত্থানে শেয়ারবাজারে খুব ওঠানামা হবে না। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর বিদেশের ইকোনমি ঠিক হলে আমাদের অর্থনীতিও ঠিক হয়ে যাবে।”

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, “করোনার ভ্যাকসিন আসলেই রাতারাতি কিছু হবে না। কারণ সবার হাতে ভ্যাকসিন পৗছাতে হবে। তবে ভ্যাকসনি আসার খবরে আস্থা তৈরি হবে। অর্থনীতি গতি পেতে থাকবে।” তাই ভ্যাকসিন আসার চেয়েও সবার হাতে পৌছানো জরুরি বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

এই গবেষক বলেন, “এ সময়ে সরকারের অন্যান্য কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। গরীবদের জন্য সহায়তা ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। তা না হলে রোগ বালাই বাড়বে। এতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবারো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ