মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘোপ বাওড়। বাওড়ে প্রতিবছরের নির্দিষ্ট সময়ে শীতপ্রধান দেশ থেকে ছুটে আসে অতিথি পাখি। এসব অতিথি পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ, কিচিরমিচির আর জলে ডানা ঝাপটানোর শব্দ ভেঙে দেয় নিরব নিথর গ্রামের নির্জনতা। তাছাড়া দেশীয় প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মূখর থাকে বাওড় এলাকা। মহম্মদপুর উপজেলার এ নৈসর্গিক সৌন্দয ঘোপ বাওড় নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে । এ বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম কিছুদিন আগে সরেজমিনে পরিদর্শণ করেন।
মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম জানান, ঘোপ বাওড় মহম্মদপুরের অন্যতম সেরা একটি জলাশয়। বিশেষ অনন্যধর্মী জলাশয়টি আমি দেখেছি। এখানে তিনটি বৈশিষ্ঠ্ আছে যেটা অন্য জলাশয়ে নেই। পানির নিচে অনেক সুন্দর আগাছা আছে। ধানের মত মনে হয়। খুব স্বচ্ছ পানি এবং এখানে অতিথি পাখি আসে প্রতিবছর। সুতরাং এটা জীববৈচিত্রের দিক থেকে মাগুরাতে অবশ্যই অনন্য। আমার মনে হয় দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি অনন্য জায়গা জীববৈচিত্রের দিক থেকে। আমরা চিন্তা করেছি যে এটাকে কিভাবে দেশের মানুষের কাছে ফ্লারিশ করা যায়। অর্থাৎ এখানে আসার মত কিছু ইমপ্লিমেন্ট আছে। যাতায়াতের ব্যবস্থা। বা একঘন্টা থাকার ব্যবস্থা। টয়লেট থেকে শুরু করে অন্যান্য ফ্যাসিলিটিস। মাগুরাকে মানুষ বিশেষধর্মী কিছু দিয়ে চিনুক। সেই লক্ষ্যে আমরাও এটাকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেব জীব বৈচিত্র ঠিক রেখে।
মহম্মদপুর উপজেলার নালিয়ার বিল, কাতলাশুরের বিল, ইছামতির বিল, ফলিয়ারবিল সহ বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয় ও নদীর অববাহিকায়ও দূরান্তের এ পাখির বিচরণ লক্ষ করা যায়। বালি হাঁস, সারস পাখি, ডুবুরী পাখিসহ নানা অতিথি পাখির সাথে দেশীয় পাখির কলকাকলি ইছামতির বিল ও ঘোপ বাওড়ের সৌন্দর্যকে আরো মনোরম করে তোলে। এসব পাখির ঘুম ভাঙানি কলরবে ভোরের কম্বল জড়ানো ঘুম ভাঙে বিল-বাওড়বাসীর। নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, নারী- পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ইতিমধ্যে আসতে শুরু করেছেন। এসব এলাকা ঘুরে জানা যায় এক শ্রেণীর পাখি শিকারীরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব পাখি শিকার করছেন।
মহম্মদপুর নহাটা ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান মিয়া বলেন, আমাদের দেশে যেসকল অতিথি পাখি আসে সেগুলো আমাদের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ কিছু অসাধু চক্র বিষটোপ, ফাঁদ পেতে এদেরকে হত্যা করে। আমাদের এই উপজেলায়ও অতিথি পাখি শিকার হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘিত হচ্ছে। এসব পাখি বীজের বিস্তরণ ও পরাগায়ন ঘটিয়ে আমাদের ফসলেরও উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, ঘোপ বাওড় সংরক্ষণের জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এ ঘোপ বাওড়টিতে প্রতি বছর শীতের সময় অসংখ্য অতিথি পাখি আসে । এ অতিথি পাখি দেখতে বিভিন্ন স্থানের ভ্রমনপিপাসু মানুষ ছুটে আসে । ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের নজর দারিতে এসেছে । আশা করি ভবিষ্যতে এ স্থানটিতে ভালো কিছু করার উদ্যোগ গ্রহন করবে জেলা প্রশাসন মাগুরা ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















