গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম (৫৫) নামে এক মুদি দোকানিকে গ্ৰেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগের পর কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের মৃত ফায়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি নিজ বাড়ির পাশেই একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্ৰেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানা সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম শেখ ও এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দেওতলা এলাকায় অভিযান চালায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পানি নেওয়ার অজুহাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাড়িতে যান। পরিবারের অন্য সদস্যরা আশপাশে না থাকার সুযোগে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে অনাকাঙিক্ষিত শারীরিক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্বজনরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরিবারের দাবি ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷
ভুক্তভোগীর মা আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী কর্মস্থলে থাকলে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় তাকে বাজে ইঙ্গিত দিতেন এবং রাতের বেলায় বাড়ির আশপাশে এসে ডাকাডাকি করতেন।
এদিকে বর্তমান অভিযোগের পর পরিবারের একটি পুরোনো ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিশুটির মা জানান, ২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বড় মেয়ে বাড়ির সামনে একটি আমগাছে ফাঁস দিয়ে মারা যায়। সে সময় মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি। সাম্প্ৰতিক ঘটনার পর সেই মৃত্যুর সঙ্গে কোনো সম্পৰ্ক ছিল কি না, তা নিয়েও পরিবারের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সামাজিক লজ্জা, ভয় ও নানা প্ৰতিকূলতার কারণে এতদিন বিষয়গুলো প্ৰকাশ্যে আনতে পারেননি। অবশেষে সন্তানের নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিত করতে তারা আইনের আশ্ৰয় নেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর যৌন হয়রানির অভিযোগে নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্ৰকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্ৰেপ্তারে অভিযান জোরদার করে এবং অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিএস.





















