ড.সৈয়দ শামসুজ্জোহা শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। তাঁর ত্যাগ ও অবদান সেটি গোটা বাঙ্গালী জাতির জন্য অনবদ্য, অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। তার মতো শিক্ষককে এখন আর দেখিনা।
আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে আয়োজিত শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মরণে শীর্ষক আলোচনা সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান একথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আবদুস সালামের সাঞ্চালনায় উপাচার্য বলেন, ড. জ্জোহা পুরুষ ছিলেন কাপুরষ নয়। তিনি একজন আদর্শ ছাত্রবান্ধব শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছাত্রদের অভিভাবকত্ব গ্রহন ও রক্ষা করা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুকে বরন করেছিলেন। শিক্ষক হওয়া সহজ কিন্তু সাধারণের শিক্ষক হওয়া কঠিন। তার ভেতর ছাত্র,সহকর্মীদেরকে আপন করে নেওয়ার মতো গুণ ছিল।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে একুশে পদক প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা বলেন, ড.জোহার আত্মত্যাগ ১৯৬৯ সালে দেশের আবছা কল্পনাকে স্পষ্ট করার জন্য একটা বড় ভূমিকা পালন করেছেন। নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের অভিভাবকের মতো রক্ষা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি আসলে জীবন দেননি বরং ঘটনা আমাদেরকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গেছে। তার আত্মদান মানুষের উদ্দীপনার ক্ষেত্র তৈরী করেছিল যেটি স্বাধীনতার পথকে পরিষ্কার করে। স্বাধীনতা কোন সরলরেখায় ঘটেনি। অতএব জোহা ইতিহাসের একটি অনুপ্রেরণা।
প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া এবং রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন হাওলাদার।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ, প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টা (অতিরিক্তি দায়িত্ব প্রাপ্ত) প্রফেসর ড.লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড.আজিজুর রহমান, অনুষদ অধিকর্তা, রসায়ন বিভাগসহ অন্য বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী মো. জাকারিয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ শহীদ ড.জোহার সমাধি ও জোহা স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনসহ অন্যান্য ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এদিকে, দিবসটিকে ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি শহীদ ড. জোহা স্মরণে সন্ধ্যা ৭টায় এক অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এছাড়া শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ দিন শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। এবং বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জোহর কোরআনখানি ও বিশেষ মোনাজাত, শামসুজ্জোহা হলে দোয়া মাহফিল ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















