০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মেয়াদ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সশরীরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ বর্ধিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রালয়। সরকারি এমন সিদ্বান্তে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।গত, ২২ ফেব্রুয়ারি ( সোমবার) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান বন্ধের মেয়াদ বর্ধিত করে। সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৭ মে হল ও ২৪ মে থেকে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এসময়ে কোনো ধরনের একাডেমিক পরীক্ষাও নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) চলমান সব টার্মের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব টার্মের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত সব পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের ১৭ ই মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো । সেশনজট মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেমিষ্টার পরীক্ষা গ্রহণ করতে না পারার কারণে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

একদিকে টানা ৭৫ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দাবিতে ক্লাস – পরীক্ষা বর্জন করে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। দাবি আদায়ে উপরের মহলের আশ্বাস লাভের পর গত ১৫ ই ডিসেম্বর ক্লাসে ফেরার ঘোষনা দেয় নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে অনেক ডিপার্টমেন্ট সেশনজট মোকাবেলায় সেমিষ্টার পরীক্ষা নেওয়া শুরু করলেও শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী ২৩ ফ্রেবুয়ারি ( মঙ্গলবার) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষনা করেছে নোবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।এতে করে বিপাকে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। অনেকেই পরীক্ষার জন্য মেস ভাড়া নিয়েছে এবং বাড়িওয়ালাদের অগ্রিম টাকা দিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
বৃদ্ধি পাচ্ছে হতাশা এবং নিজেদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা ।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী খাদিজা খানম উর্মি বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রায় ৭৫ দিন অনলাইন ক্লাস বন্ধ রেখেছিলো নোবিপ্রবি শিক্ষকেরা। এরপর ক্লাস শুরু হওয়ার পর অনেক ডিপার্টমেন্ট শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়া শুরু করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নোটিশে পরীক্ষা স্থগিত করলো নোবিপ্রবি প্রশাসন। আবার, কেউবা মার্চে পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এমনিতেই সেশন জটে ছিলো শিক্ষার্থীরা। এখন তার মেয়াদ আরো দীর্ঘ হলো। ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলো শিক্ষার্থীদের।অন্যদিকে চাকরীর বয়সসীমা নিয়ে আমাদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। অনেকেই তো হল বন্ধ থাকায় সেমিষ্টার পরীক্ষার জন্য মেস ভাড়া নিয়েছে এবং বাড়িওয়ালাদের অগ্রিম টাকাও পরিশোধ করেছে । সেজন্য, পরীক্ষা স্থগিতাদেশ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী তানবিরুল ইসলাম বলেন, ” দীর্ঘ ১১ মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা নির্ধারিত থাকায় আমরা আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান একটি বছরকে হারালাম। আমরা দ্রুত আমাদের ক্যাম্পাস জীবনে ফিরতে চাই। ”

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মেয়াদ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ০৭:২৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সশরীরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ বর্ধিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রালয়। সরকারি এমন সিদ্বান্তে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।গত, ২২ ফেব্রুয়ারি ( সোমবার) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান বন্ধের মেয়াদ বর্ধিত করে। সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৭ মে হল ও ২৪ মে থেকে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এসময়ে কোনো ধরনের একাডেমিক পরীক্ষাও নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) চলমান সব টার্মের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব টার্মের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত সব পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের ১৭ ই মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো । সেশনজট মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেমিষ্টার পরীক্ষা গ্রহণ করতে না পারার কারণে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

একদিকে টানা ৭৫ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দাবিতে ক্লাস – পরীক্ষা বর্জন করে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। দাবি আদায়ে উপরের মহলের আশ্বাস লাভের পর গত ১৫ ই ডিসেম্বর ক্লাসে ফেরার ঘোষনা দেয় নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে অনেক ডিপার্টমেন্ট সেশনজট মোকাবেলায় সেমিষ্টার পরীক্ষা নেওয়া শুরু করলেও শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী ২৩ ফ্রেবুয়ারি ( মঙ্গলবার) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষনা করেছে নোবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।এতে করে বিপাকে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। অনেকেই পরীক্ষার জন্য মেস ভাড়া নিয়েছে এবং বাড়িওয়ালাদের অগ্রিম টাকা দিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
বৃদ্ধি পাচ্ছে হতাশা এবং নিজেদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা ।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী খাদিজা খানম উর্মি বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রায় ৭৫ দিন অনলাইন ক্লাস বন্ধ রেখেছিলো নোবিপ্রবি শিক্ষকেরা। এরপর ক্লাস শুরু হওয়ার পর অনেক ডিপার্টমেন্ট শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়া শুরু করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নোটিশে পরীক্ষা স্থগিত করলো নোবিপ্রবি প্রশাসন। আবার, কেউবা মার্চে পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এমনিতেই সেশন জটে ছিলো শিক্ষার্থীরা। এখন তার মেয়াদ আরো দীর্ঘ হলো। ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলো শিক্ষার্থীদের।অন্যদিকে চাকরীর বয়সসীমা নিয়ে আমাদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। অনেকেই তো হল বন্ধ থাকায় সেমিষ্টার পরীক্ষার জন্য মেস ভাড়া নিয়েছে এবং বাড়িওয়ালাদের অগ্রিম টাকাও পরিশোধ করেছে । সেজন্য, পরীক্ষা স্থগিতাদেশ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী তানবিরুল ইসলাম বলেন, ” দীর্ঘ ১১ মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা নির্ধারিত থাকায় আমরা আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান একটি বছরকে হারালাম। আমরা দ্রুত আমাদের ক্যাম্পাস জীবনে ফিরতে চাই। ”

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ