১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

যমুনা থেকে অবৈধবাবে বালু উত্তোলন

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শুকনো মৌসুমে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের জেগে ওঠা চর ও ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী খোকা। এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বার বার অভিযান পরিচালনা করলেও কোনভাবেই খোকার বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে কাকুদাইর ও জিগাতলা গ্রামের মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এর পরেও একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না শর্তে জানান, অবৈধ বালু ব্যবসায়ী খোকা সরকারি দলের প্রভাবশালী লোক, তার ভাই সরকার দলের চেয়ারম্যান। এক যুগের বেশি সময় ধরে শীত-বর্ষার সব ঋতুতেই বাংলা ড্রেজার ও মাটিকার মেশিন ভেকু বসিয়ে দিন-রাত হাজার হাজার ট্রাক বালু বিক্রি করে আসছে। এ নিয়ে যখন বেশি সমালোচনা হয় তখন প্রশাসন হঠাৎ হঠাৎ লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু একদিনের জন্যও এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ করতে পারেননি। শুনেছি এখন আশেপাশের ঘাট বন্ধ। তবে অদৃশ্য কারনে খোকার ঘাট চালু। অন্য বিটবালু ঘাট বন্ধ থাকায় এ ঘাটে ট্রাকের সংখ্যাও বেড়ে গেছে কয়েকগুন।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কুকাদাইর-জিগাতলা এলাকার যমুনা নদীর অংশে গেলে তাদের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। অবৈধভাবে জেগে উঠা চর কেটে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালুর পাহাড় গড়ে তোলেছেন তিনি। অপরদিকে, নিকরাইল ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সেতুর কোলঘেষে সারপলশিয়া, সিরাজকান্দী- নেংড়া বাজার, মাটিকাটা, চিতুলিয়াপাড়াসহ ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের ৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েটে বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। শতশত বালুবাহী ট্রাক যাতায়াতের ফলে প্রতিনিয়ত যানজটে নাকাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরও বলেন, নস্বরবিহীন অবৈধ বালুবাহী ড্রামট্রাক চলাচলের ফলে গ্রামের ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের জন্য সড়কগুলি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধুলোবালিতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে থাকে। গাছ ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বাতাসে উড়া বালু মানুষের চোখ-মুখে গিয়ে ঠান্ডাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ক্ষতি হলেও এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করাও যায়না।

জিগাতলা কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিরা জানান, বালু মাটির ট্রাক গ্রামের ভিতর দিয়ে এসে ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কে উঠে। ঘাটে ট্রাক প্রবেশের মোড়েই মসজিদটি অবস্থিত। ট্রাকের ধুলাবালির কারণে মসজিদে নামাজ পড়া কষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ব্যাপরোয়াভাবে ট্রাক চলাচল করায় যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের ফলে ভূঞাপুর-তারাকান্দির সড়ক এলাকায় গড়ে উঠা বালুর ঘাট অভিযানে বন্ধ করা হলেও খোকার বালু উত্তোলন কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান জানান- এ উপজেলায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে চর ও ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়তই এসব অবৈধ বালুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে চর কাটা ও বালু উত্তোলণের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়তই এসব অবৈধ বালুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেবিদ্বারের বারুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়

যমুনা থেকে অবৈধবাবে বালু উত্তোলন

প্রকাশিত : ০৫:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শুকনো মৌসুমে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের জেগে ওঠা চর ও ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী খোকা। এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বার বার অভিযান পরিচালনা করলেও কোনভাবেই খোকার বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে কাকুদাইর ও জিগাতলা গ্রামের মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এর পরেও একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না শর্তে জানান, অবৈধ বালু ব্যবসায়ী খোকা সরকারি দলের প্রভাবশালী লোক, তার ভাই সরকার দলের চেয়ারম্যান। এক যুগের বেশি সময় ধরে শীত-বর্ষার সব ঋতুতেই বাংলা ড্রেজার ও মাটিকার মেশিন ভেকু বসিয়ে দিন-রাত হাজার হাজার ট্রাক বালু বিক্রি করে আসছে। এ নিয়ে যখন বেশি সমালোচনা হয় তখন প্রশাসন হঠাৎ হঠাৎ লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু একদিনের জন্যও এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ করতে পারেননি। শুনেছি এখন আশেপাশের ঘাট বন্ধ। তবে অদৃশ্য কারনে খোকার ঘাট চালু। অন্য বিটবালু ঘাট বন্ধ থাকায় এ ঘাটে ট্রাকের সংখ্যাও বেড়ে গেছে কয়েকগুন।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কুকাদাইর-জিগাতলা এলাকার যমুনা নদীর অংশে গেলে তাদের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। অবৈধভাবে জেগে উঠা চর কেটে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালুর পাহাড় গড়ে তোলেছেন তিনি। অপরদিকে, নিকরাইল ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সেতুর কোলঘেষে সারপলশিয়া, সিরাজকান্দী- নেংড়া বাজার, মাটিকাটা, চিতুলিয়াপাড়াসহ ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের ৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েটে বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। শতশত বালুবাহী ট্রাক যাতায়াতের ফলে প্রতিনিয়ত যানজটে নাকাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরও বলেন, নস্বরবিহীন অবৈধ বালুবাহী ড্রামট্রাক চলাচলের ফলে গ্রামের ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের জন্য সড়কগুলি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধুলোবালিতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে থাকে। গাছ ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বাতাসে উড়া বালু মানুষের চোখ-মুখে গিয়ে ঠান্ডাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ক্ষতি হলেও এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করাও যায়না।

জিগাতলা কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিরা জানান, বালু মাটির ট্রাক গ্রামের ভিতর দিয়ে এসে ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কে উঠে। ঘাটে ট্রাক প্রবেশের মোড়েই মসজিদটি অবস্থিত। ট্রাকের ধুলাবালির কারণে মসজিদে নামাজ পড়া কষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ব্যাপরোয়াভাবে ট্রাক চলাচল করায় যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের ফলে ভূঞাপুর-তারাকান্দির সড়ক এলাকায় গড়ে উঠা বালুর ঘাট অভিযানে বন্ধ করা হলেও খোকার বালু উত্তোলন কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান জানান- এ উপজেলায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে চর ও ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়তই এসব অবৈধ বালুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে চর কাটা ও বালু উত্তোলণের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়তই এসব অবৈধ বালুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর