০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে বিশেষ তদারকির দাবি

দেশে বর্তমানে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ চলছে এবং সংক্রমণ গত কয়েকদিন ধরেই চূড়ায় রয়েছে। প্রতিদিন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে ৫ হাজারের ওপরে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন রোগীরা। কিন্তু হাসপাতালগুলো বিভিন্ন অজুহাতে করোনা রোগী ভর্তি করতে রাজি হচ্ছে না। দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সহ চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা থাকলেও রোগীদের ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। চিকিৎসাবঞ্চিত রোগীদের স্বজন সহ বিশিষ্টজনেরা দাবি জানিয়েছেন, বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে তদারকি করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলেই বর্তমান সংকট দূর হবে এবং করোনা রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

জানা গেছে, গত বছর যখন করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল তখন দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসপাতালগুলো তদারকি করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই গোয়েন্দা সংস্থা দেশের সবগুলো বড় হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা অনুসন্ধান করে এবং অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে। যে কারণে গতবছর করোনা সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছালেও সংকটাপন্ন সকল করোনা রোগীই হাসপাতালে সুচিকিৎসা পেয়েছেন এবং অধিকাংশ রোগীই সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলেই করোনা মহামারির প্রথম ধাক্কা সফলভাবে সামলে উঠতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

করোনা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের ভর্তি করতে রাজি হচ্ছে না। এমনই একজন ভুক্তভোগী ঢাকার ধানমন্ডির সজিব সরদার। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন হার্টের রোগী। তার হার্টে তিনটি রিং পড়ানো রয়েছে। কয়েক মাস পর পর ভারতে গিয়ে চেকআপ করাতে হয়। গতমাসে ভারত থেকে আসার পর তিনি কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এরমধ্যে তার করোনার উপসর্গ দেখা দিলে টেস্ট করানো হয়। টেস্টে করোনা পজেটিভ আসলে তাঁকে হোম কোয়ারেন্টাইনেই রাখা হয়। ২/১ দিনের মধ্যেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ধানমন্ডির কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাই। কিন্তু তারা ভর্তি করাতে রাজি হয়নি। কয়েকদিন চেষ্টার পর বিএসএমএমইউ’তে ভর্তি করাতে সক্ষম হয়েছি।’ একটি বেসরকারি কোম্পানির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার জানামতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার সব সুযোগ সুবিধাই আছে এবং তাদের সিটও ফাকা রয়েছে। কিন্তু করোনা রোগীদের তারা ভর্তি করছেনা। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি যদি নির্দেশ দেন তাহলে সব হাসপাতালই করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হবে। এতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। ’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে বিশেষ তদারকির দাবি

প্রকাশিত : ০৪:২৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ মার্চ ২০২১

দেশে বর্তমানে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ চলছে এবং সংক্রমণ গত কয়েকদিন ধরেই চূড়ায় রয়েছে। প্রতিদিন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে ৫ হাজারের ওপরে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন রোগীরা। কিন্তু হাসপাতালগুলো বিভিন্ন অজুহাতে করোনা রোগী ভর্তি করতে রাজি হচ্ছে না। দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সহ চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা থাকলেও রোগীদের ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। চিকিৎসাবঞ্চিত রোগীদের স্বজন সহ বিশিষ্টজনেরা দাবি জানিয়েছেন, বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে তদারকি করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলেই বর্তমান সংকট দূর হবে এবং করোনা রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

জানা গেছে, গত বছর যখন করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল তখন দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসপাতালগুলো তদারকি করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই গোয়েন্দা সংস্থা দেশের সবগুলো বড় হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা অনুসন্ধান করে এবং অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে। যে কারণে গতবছর করোনা সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছালেও সংকটাপন্ন সকল করোনা রোগীই হাসপাতালে সুচিকিৎসা পেয়েছেন এবং অধিকাংশ রোগীই সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলেই করোনা মহামারির প্রথম ধাক্কা সফলভাবে সামলে উঠতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

করোনা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের ভর্তি করতে রাজি হচ্ছে না। এমনই একজন ভুক্তভোগী ঢাকার ধানমন্ডির সজিব সরদার। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন হার্টের রোগী। তার হার্টে তিনটি রিং পড়ানো রয়েছে। কয়েক মাস পর পর ভারতে গিয়ে চেকআপ করাতে হয়। গতমাসে ভারত থেকে আসার পর তিনি কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এরমধ্যে তার করোনার উপসর্গ দেখা দিলে টেস্ট করানো হয়। টেস্টে করোনা পজেটিভ আসলে তাঁকে হোম কোয়ারেন্টাইনেই রাখা হয়। ২/১ দিনের মধ্যেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ধানমন্ডির কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাই। কিন্তু তারা ভর্তি করাতে রাজি হয়নি। কয়েকদিন চেষ্টার পর বিএসএমএমইউ’তে ভর্তি করাতে সক্ষম হয়েছি।’ একটি বেসরকারি কোম্পানির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার জানামতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার সব সুযোগ সুবিধাই আছে এবং তাদের সিটও ফাকা রয়েছে। কিন্তু করোনা রোগীদের তারা ভর্তি করছেনা। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি যদি নির্দেশ দেন তাহলে সব হাসপাতালই করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হবে। এতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। ’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর