২৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে গেছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহ। জিকের কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বারবার সরবরাহ বন্ধের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া তারা এ বছর বৃষ্টির দুষ্প্রাপ্যতাকেও এ ঘটনার জন্য দুষছেন।
জিকে পাম্প হাউজের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত রোববার ভোরে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জিরোতে নেমে আসে দুটি প্রধান পাম্প। গতকাল দুপুর থেকে বন্ধ হয়ে যায় আরো ১২টি বিভিন্ন ধরনের স্বয়ংক্রিয় সম্পূরক পাম্প।
তিনি বলেন, পদ্মায় পানি কমে গেছে। পানি সংকটের ফলে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। কারণ পানি ৪.৫ মিটার আরএলের নিচে নামলে পাম্প মেশিনের কয়েল ও বিয়ারিংয়ের তাপমাত্রা বাড়ে। এতে করে মেশিনে শব্দ ও ঝাঁকুনি হয়। এসব সমস্যার কারণেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের নির্দেশনায় পাম্প দুটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।
এরআগে একই সমস্যার কারণে ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে ২ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত টানা ৭ দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল পাম্প দুটি। তারপর পানি সরবরাহ শুরু হয়ে গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিক থেকে আবারো পাম্প দুটি বন্ধ রয়েছে। পাম্প বন্ধ থাকলে নদীতে পানি থাকে না। নদীতে পানি না থাকার জন্য টিউবওয়েল দিয়েও পানি উঠেনা। জিকে পাম্প বন্ধ থাকার ফলে এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে। একদিকে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে টিউবওয়েল দিয়ে পানি না ওঠায় চরম ভোগান্তি হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষদের।
সেচ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্পের আওতায় বোরো মৌসুমে এবার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। চার জেলায় ১৯৪ কিলোমিটার প্রধান খালের মাধ্যমে তা দেয়ার কথা ছিল।
পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, পদ্মায় পানির লেভেল গত সপ্তাহে কমে আসায় শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিক থেকে পাম্প দুটির সরবরাহ শূন্য করতে হয়েছে। ওই সপ্তাহে পানি পাওয়া গেছে ৪.১ থেকে ৪.১৮ মিটার রিডিউসড লেভেল (আরএল) পর্যন্ত।
মিজানুর রহমান বলেন, ১০ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ইন্ডিয়ার পানি নেয়ার সময়। চুক্তি অনুযায়ী ২০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ পানি পাবে। সে হিসাবে ২০ তারিখে বাংলাদেশে পানি আসা শুরু হবে। সেখান থেকে পানি আসতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে। অর্থাৎ ২৫ তারিখে পানি পৌঁছাবে ভেড়ামারায়। সে অনুযায়ী ২৫ তারিখে থেকে পানি সরবরাহ শুরু হবে।





















