০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

সাদিয়ার ক্রিকেট প্রেম

৫ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা কিশোরগঞ্জের সাদিয়া আক্তার প্রমি যখন বোলিং এর জন্যে মাঠে নামেন তখন কাঁপুনি ধরে অনেক ব্যাটসম্যানের।

ব্যাটিং এর ক্ষেত্রেও ততটা ভয়ঙ্কর তিনি। অব্যর্থ উইকেট শিকারি ও মারকুটে ব্যাট চালানোর অলরাউণ্ডিং নৈপুণ্যে ২০ বছরের এই তরুণী এলাকাতে সাদিয়া নামেই বেশ পরিচিত।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ছয়চির গ্রামে ১৯৯৭ সালে সাদিয়া আক্তার প্রমির জন্ম। দুই ভাইবোনের মধ্যে সাদিয়া ছোট। শৈশবে বাবা মারা যাবার পর টানাপোড়েন সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেয় তার মা। মা পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। গ্রামের পরিবেশে বেঁড়ে উঠা সাদিয়া ছোটবেলা থেকেই ব্যাট-বল খেলার প্রতি অনুরাগী ছিল।

যখন সে ক্রিকেটকে ভালোকরে বুঝতে শেখে ঠিক তখনই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে একদিন সে ক্রিকেটার হবে,লাল-সবুজের জার্সি গায়ে এদেশকে নন্দিত করবে বিশ্ববাসীর কাছে।

কিন্তু সাদিয়ার মা ক্রিকেট খেলাকে তেমন পছন্দ করতেন না। তাই তিনি সবসময় ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে যেতে নিষেধ করতেন।

সাদিয়ার শিক্ষার হাতেখড়ি হয় পাকুন্দিয়া উপজেলার ছয়চির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে মায়ের অজান্তেই ছোট-বড় সবাই নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে অনুশীলন করতেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে ভর্তি হন চরকাওনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি সেখানে ক্রিকেটপ্রেমী তরুণীদের নিয়ে গড়ে তুলেন প্রশিক্ষণ ক্লাব।

সেখানে প্রতিনিয়তই অনুশীলন করে সবার ফিটনেস ধরে রাখা হতো এবং বোলিং ও ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করার জন্যে প্রচুর পরিশ্রম করা হতো।
গ্রামের মেয়ে হয়ে বিভিন্ন সময়ে মাঠে খেলাধুলা করাটা ছিল অনেকের কাছে নিন্দনীয় ব্যাপার।

সাদিয়া বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষের কানঘেষার কারণে আম্মুর হাতে অনেক মার খেয়েছি তারপরও আমার লক্ষ্য থেকে পিছু হটায়নি। আমি মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করে কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই।

সেখানে বিভিন্ন কলেজওয়ারি ক্রিকেট টূর্ণামেন্টে অংশগ্রহণ করে বিজয় অর্জন করেছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্যার ও অতিথিরা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে আমার ক্রিকেট প্রতিভা নিয়ে।

আমার ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ ও বর্তমান পারফর্মমেন্সের মাধ্যমে সবাই যখন আমাকে ক্রিকেটার বলে ডাকে আমি অনেক খুশি হই। আগে আমার মা ক্রিকেটের প্রতি বাঁধা ছিল কিন্তু বর্তমানে আমার প্রতি সবার আস্হা আম্মুকে
আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তিনিও চান এখন আমি ক্রিকেটার হই। আমাদের টানাপোড়নের সংসার হওয়া সত্ত্বেও একজন ক্রীড়াবিদ শিক্ষকের সাহায্যে বিকেএসপির ফর্ম জমা দিলেও কোনো সদুত্তর আসেনি সাদিয়ার।

নিজেকে পরিপূর্ণ ও লক্ষ্যে পৌছানোর জন্যে ক্রিকেটার হিসেবে ভর্তি হতে পারছেন না কোনো ক্রিকেট একাডেমীতেও।

তারপরও তার আত্মবিশ্বাস প্রতিদিনের পারফর্মমেন্স, অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একদিন জাতীয় দলে সালমা-জাহানারাদের মতো মাঠ কাঁপাবেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

সাদিয়ার ক্রিকেট প্রেম

প্রকাশিত : ১০:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

৫ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা কিশোরগঞ্জের সাদিয়া আক্তার প্রমি যখন বোলিং এর জন্যে মাঠে নামেন তখন কাঁপুনি ধরে অনেক ব্যাটসম্যানের।

ব্যাটিং এর ক্ষেত্রেও ততটা ভয়ঙ্কর তিনি। অব্যর্থ উইকেট শিকারি ও মারকুটে ব্যাট চালানোর অলরাউণ্ডিং নৈপুণ্যে ২০ বছরের এই তরুণী এলাকাতে সাদিয়া নামেই বেশ পরিচিত।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ছয়চির গ্রামে ১৯৯৭ সালে সাদিয়া আক্তার প্রমির জন্ম। দুই ভাইবোনের মধ্যে সাদিয়া ছোট। শৈশবে বাবা মারা যাবার পর টানাপোড়েন সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেয় তার মা। মা পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। গ্রামের পরিবেশে বেঁড়ে উঠা সাদিয়া ছোটবেলা থেকেই ব্যাট-বল খেলার প্রতি অনুরাগী ছিল।

যখন সে ক্রিকেটকে ভালোকরে বুঝতে শেখে ঠিক তখনই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে একদিন সে ক্রিকেটার হবে,লাল-সবুজের জার্সি গায়ে এদেশকে নন্দিত করবে বিশ্ববাসীর কাছে।

কিন্তু সাদিয়ার মা ক্রিকেট খেলাকে তেমন পছন্দ করতেন না। তাই তিনি সবসময় ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে যেতে নিষেধ করতেন।

সাদিয়ার শিক্ষার হাতেখড়ি হয় পাকুন্দিয়া উপজেলার ছয়চির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে মায়ের অজান্তেই ছোট-বড় সবাই নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে অনুশীলন করতেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে ভর্তি হন চরকাওনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি সেখানে ক্রিকেটপ্রেমী তরুণীদের নিয়ে গড়ে তুলেন প্রশিক্ষণ ক্লাব।

সেখানে প্রতিনিয়তই অনুশীলন করে সবার ফিটনেস ধরে রাখা হতো এবং বোলিং ও ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করার জন্যে প্রচুর পরিশ্রম করা হতো।
গ্রামের মেয়ে হয়ে বিভিন্ন সময়ে মাঠে খেলাধুলা করাটা ছিল অনেকের কাছে নিন্দনীয় ব্যাপার।

সাদিয়া বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষের কানঘেষার কারণে আম্মুর হাতে অনেক মার খেয়েছি তারপরও আমার লক্ষ্য থেকে পিছু হটায়নি। আমি মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করে কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই।

সেখানে বিভিন্ন কলেজওয়ারি ক্রিকেট টূর্ণামেন্টে অংশগ্রহণ করে বিজয় অর্জন করেছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্যার ও অতিথিরা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে আমার ক্রিকেট প্রতিভা নিয়ে।

আমার ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ ও বর্তমান পারফর্মমেন্সের মাধ্যমে সবাই যখন আমাকে ক্রিকেটার বলে ডাকে আমি অনেক খুশি হই। আগে আমার মা ক্রিকেটের প্রতি বাঁধা ছিল কিন্তু বর্তমানে আমার প্রতি সবার আস্হা আম্মুকে
আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তিনিও চান এখন আমি ক্রিকেটার হই। আমাদের টানাপোড়নের সংসার হওয়া সত্ত্বেও একজন ক্রীড়াবিদ শিক্ষকের সাহায্যে বিকেএসপির ফর্ম জমা দিলেও কোনো সদুত্তর আসেনি সাদিয়ার।

নিজেকে পরিপূর্ণ ও লক্ষ্যে পৌছানোর জন্যে ক্রিকেটার হিসেবে ভর্তি হতে পারছেন না কোনো ক্রিকেট একাডেমীতেও।

তারপরও তার আত্মবিশ্বাস প্রতিদিনের পারফর্মমেন্স, অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একদিন জাতীয় দলে সালমা-জাহানারাদের মতো মাঠ কাঁপাবেন।