পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের জরুরী প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ মে) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের দরবার হলে জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় জরুরী প্রস্তুতি সভায় ঘ‚র্ণিঝড় মোকাবেলায় জরুরী ভিত্তিতে করনীয় বিষয় সম‚হ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ হুমায়ন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপর মোঃ মাহফুজুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাঃ তানিমা পারভিন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ।
সভায় জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলায় ৭০২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি এ সব কেন্দ্রে খাদ্য, ডাক্তার, ও স্কাউট এবং যুব রেডক্রিসেন্ট ভলান্টিয়ার রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া জেলায় জরুরি খাদ্য সহায়তা, শিশু ও গো খাদ্যের জন্য দুই কোটি চুয়ান্ন লক্ষ টাকা বরাদ্ধ রাখা আছে । জেলায় সিপিপি, স্কাউট, যুব রেডক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের কমিউনিটি ভলান্টিয়ার টিমসহ মোট নয় হাজার স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা কাজ করবেন।
সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাঃ তানিমা পারভিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়েস মোকাবিলায় পটুয়াখালীতে ৮৬ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। যারা ঘ‚র্ণিঝড়ের সময় মাঠ পর্যায়ে মানুষকে সেবা প্রদান করবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপর মোঃ মাহফুজুর রহমান, পটুয়াখালীতে ১৩০০ পুলিশ সদস্য দুর্যোগের আগে ও পরে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও সাইক্লোন শেল্টারে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে জেলা পুলিশ সুপার।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মাসুদ রানা বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ইয়েসে পরিনত হয়েছে। ঘ‚র্ণিঝড়টি আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬০৫ কি: মি: দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভ‚ত হয়ে উত্তর- উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। পায়রা সমুদ্র বন্দর সম‚হকে এক নম্বর সর্তকতা সংকেত নামিয়ে তারপরবর্তীতে দুই নম্বর দ‚রবতী হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় আরও নতুন নতুন আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত ও ঘোষণার কাজ চলমান। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৬-৭ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে বলা হয়েছে। শুকনো খাবারের ব্যবস্থা রেখেছে প্রশাসন।
জেলা ও উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। পটুয়াখালী জেলাসহ সব উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে এসওডি অনুযায়ী জরুরি সভা করার নির্দেশনা করেছে। চর ও দ্বীপ সম‚হের ঝুঁকিপ‚র্ণ এলাকায় বিপদ সংকেত দেখানোর জন্য সাংকেতিক পতাকা টাঙানো ব্যসস্থা করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে শারীরিক দ‚রত্ব নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামাদি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আজ পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ পটুয়াখালী জেলায় (২) নম্বর সংকেত ঘোষণা করায় দুর্যোগ মোকাবিলার নিজেদের মধ্য যোগাযোগ ও প্রস্ততি নিচ্ছে, সিপিপি, রেড ক্রিসিন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের কমিউনিটি ভলান্টিয়ার টিমের সদস্যরা।
পায়রা বন্দরসহ জেলার কোথাও এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় প্রভাব পড়েনি। সাগর টানা ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা এবং ট্রলারগুলোকে আগেই নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
দুর্যোগ মুহ‚র্তে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য চিড়া, গুড়, বিশুদ্ধ পানিসহ মোমবাতি ও দিয়াশলাই মজুদ রাখার কাজ শুরু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















