০৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি জঙ্গি উৎপাদন করে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি রাজনীতির বিষবৃক্ষ। জামায়াত-জঙ্গি হচ্ছে সেই বিষ বৃক্ষের ডালপালা। বিএনপি এমন একটি দল, যা জঙ্গি উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন করে। একাত্তর থেকে দেশে যত হত্যা-খুন হয়েছে তার প্রত্যেকটি করেছে বিএনপি। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে দিবেন, না ডালপালা কেটে গাছটাকে টিকিয়ে রাখবেন।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বিষবৃক্ষ দিয়ে গণতন্ত্রের বাগান সাজানো যায় না। বিএনপি নামক বিষবৃক্ষ দিয়ে গণতন্ত্র চলতে পারে না। কাউকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হচ্ছে না। কাউকে জোর করে সাজাও দেয়া হয়নি। বিএনপি বিগত ৯ বছরে ইচ্ছা মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের দরজা অপরাধী ছাড়া সবার জন্য উন্মুক্ত।

তিনি বলেন, একাত্তরে যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তারাই আমাদের বিরোধিতা করছে। এজন্য মানুষ শঙ্কিত যে, আবার দেশে বোমা সন্ত্রাস হবে কি না, একুশ আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলা আবারো হবে কি না, আবোরো দেশে আগুন সন্ত্রাস হবে কি না এ নিয়ে দেশের মানুষ শঙ্কিত। কারণ খালেদা জিয়া মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও জঙ্গিবাদ থেকে সরে আসার শপথ করেনি, অতীতের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে দরকষাকষি হতে পারে না, নির্বাচন দরকষাকষির বিষয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দেয়। কিন্তু এই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের নামে হত্যা-খুনের আসামী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি, সন্ত্রাসী নেতানেত্রী বা ব্যক্তিকে হালাল করে না। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যদি গণতন্ত্র চান, তাহলে রাজনীতির বিষবৃক্ষ বিএনপিকে বর্জন করতে হবে। রাজাকার, জঙ্গি, জামায়াতকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের পথে রাখতে হলে, কোন অস্বাভাবিক সরকার দেখতে না চাইলে কোন দরকষাকষির সুযোগ না দিয়ে, অন্তর্ভুক্তির নামে অপরাধীদের ছাড় না দিয়ে চলমান জঙ্গি দমনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে এবং দুর্নীতির বিচার অব্যাহত রাখতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করতে হবে। উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং রাজনীতির বিষবৃক্ষ বিএনপিকে ক্ষমতা ও রাজনীতির বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে সেই ঐক্যকে ধারণ করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকার আমলের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরে বলেন, উন্নয়ন দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে গেছে। দেশে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। একটি বাড়ি একটি খামার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। সকল ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা, মেট্রোরেল এখন দৃশ্যমান, সোনাদিয়া ও পায়রায় গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের পরম মমতা ও মানবিকতায় আশ্রয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও একটি চক্র সমালোচনা করছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

বিএনপি জঙ্গি উৎপাদন করে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১০:০১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি রাজনীতির বিষবৃক্ষ। জামায়াত-জঙ্গি হচ্ছে সেই বিষ বৃক্ষের ডালপালা। বিএনপি এমন একটি দল, যা জঙ্গি উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন করে। একাত্তর থেকে দেশে যত হত্যা-খুন হয়েছে তার প্রত্যেকটি করেছে বিএনপি। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে দিবেন, না ডালপালা কেটে গাছটাকে টিকিয়ে রাখবেন।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বিষবৃক্ষ দিয়ে গণতন্ত্রের বাগান সাজানো যায় না। বিএনপি নামক বিষবৃক্ষ দিয়ে গণতন্ত্র চলতে পারে না। কাউকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হচ্ছে না। কাউকে জোর করে সাজাও দেয়া হয়নি। বিএনপি বিগত ৯ বছরে ইচ্ছা মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের দরজা অপরাধী ছাড়া সবার জন্য উন্মুক্ত।

তিনি বলেন, একাত্তরে যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তারাই আমাদের বিরোধিতা করছে। এজন্য মানুষ শঙ্কিত যে, আবার দেশে বোমা সন্ত্রাস হবে কি না, একুশ আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলা আবারো হবে কি না, আবোরো দেশে আগুন সন্ত্রাস হবে কি না এ নিয়ে দেশের মানুষ শঙ্কিত। কারণ খালেদা জিয়া মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও জঙ্গিবাদ থেকে সরে আসার শপথ করেনি, অতীতের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে দরকষাকষি হতে পারে না, নির্বাচন দরকষাকষির বিষয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দেয়। কিন্তু এই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের নামে হত্যা-খুনের আসামী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি, সন্ত্রাসী নেতানেত্রী বা ব্যক্তিকে হালাল করে না। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যদি গণতন্ত্র চান, তাহলে রাজনীতির বিষবৃক্ষ বিএনপিকে বর্জন করতে হবে। রাজাকার, জঙ্গি, জামায়াতকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের পথে রাখতে হলে, কোন অস্বাভাবিক সরকার দেখতে না চাইলে কোন দরকষাকষির সুযোগ না দিয়ে, অন্তর্ভুক্তির নামে অপরাধীদের ছাড় না দিয়ে চলমান জঙ্গি দমনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে এবং দুর্নীতির বিচার অব্যাহত রাখতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করতে হবে। উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং রাজনীতির বিষবৃক্ষ বিএনপিকে ক্ষমতা ও রাজনীতির বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে সেই ঐক্যকে ধারণ করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকার আমলের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরে বলেন, উন্নয়ন দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে গেছে। দেশে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। একটি বাড়ি একটি খামার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। সকল ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা, মেট্রোরেল এখন দৃশ্যমান, সোনাদিয়া ও পায়রায় গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের পরম মমতা ও মানবিকতায় আশ্রয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও একটি চক্র সমালোচনা করছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।