০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় কৃষিখাতে ২৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষি খাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

গত ৮ জুলাই টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আমনের বীজতলা,

লাউ, কুমড়া, শশা, মরিচ, বরবটি, চিচিঙ্গা,ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স,পেঁপে বাগান, কলাবাগান সহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেত।

কৃষকরা জানান, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী আমন মৌসুমের চাষাবাদ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেকেই ধারদেনা করে চাষাবাদ করলেও বন্যার পানিতে সব হারিয়ে এখন দিশেহারা।

কৃষক আবুল হাশেম বলেন,“অনেক টাকা খরচ করে বীজতলা ও সবজি চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চাষ করার মতো সামর্থ্য নেই।”

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং বিনামূল্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়ায় প্রায় ১৮শত হেক্টর জমির আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার ছদাহা, কেওঁচিয়া, নলুয়া, বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, ইউনিয়নে সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশি। এছাড়া চরতী, খাগরিয়া, কাঞ্চনা ইউনিয়নে আউষধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আইয়ুব আলী জানান, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে, বরাদ্দ পেলে খুব শীঘ্রই কৃষকদের প্রণোদনা বিতরণ করবেন বলে জানান তিনি ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান,সাতকানিয়া ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ১৬ হাজার কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮শত হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলার ১৮০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে যা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি টাকা এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় কৃষিখাতে ২৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় কৃষিখাতে ২৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত : ০৩:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষি খাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

গত ৮ জুলাই টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আমনের বীজতলা,

লাউ, কুমড়া, শশা, মরিচ, বরবটি, চিচিঙ্গা,ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স,পেঁপে বাগান, কলাবাগান সহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেত।

কৃষকরা জানান, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী আমন মৌসুমের চাষাবাদ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেকেই ধারদেনা করে চাষাবাদ করলেও বন্যার পানিতে সব হারিয়ে এখন দিশেহারা।

কৃষক আবুল হাশেম বলেন,“অনেক টাকা খরচ করে বীজতলা ও সবজি চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চাষ করার মতো সামর্থ্য নেই।”

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং বিনামূল্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়ায় প্রায় ১৮শত হেক্টর জমির আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার ছদাহা, কেওঁচিয়া, নলুয়া, বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, ইউনিয়নে সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশি। এছাড়া চরতী, খাগরিয়া, কাঞ্চনা ইউনিয়নে আউষধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আইয়ুব আলী জানান, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে, বরাদ্দ পেলে খুব শীঘ্রই কৃষকদের প্রণোদনা বিতরণ করবেন বলে জানান তিনি ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান,সাতকানিয়া ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ১৬ হাজার কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮শত হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলার ১৮০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে যা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি টাকা এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিএস./