০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

চিড়িয়াখানায় পশু-পাখি নৈতিকতা বিরোধী

চিড়িয়াখানায় বন্দি পশু-পাখিদের দিকে তাকালেই আমরা আমাদের নির্বোধিতা আর নির্দয়তা অনুধাবন করতে পারি। মানুষ অপরাধ করলে তাদেরকে কারাগারে বন্দি করার নি্য়ম তৈরি করে আমরা সভ্য সমাজের উদ্ভাবন করেছি কিন্তু পশু-পাখিদের বিনা অপরাধে বছরের পর বছর বন্দি করে কি আমরা অমানুষিকতার পরিচয় দিচ্ছি না? সৃষ্টিকর্তা কি পশু-পাখিদের স্বাধীনতা আর স্বাভাবিক জীবন যাপন কেড়ে নেওয়ার অধিকার আমাদের দিয়েছেন? নিশ্চয়ই না। কিন্তু আমরা নিজেদের আ্য়ের উৎস বাড়াতে এবং বিনোদনের চাহিদা মেটাতে তাদেরকে প্রদর্শনী হিসেবে আটকে রাখছি বছরের পর বছর।

করোনাকালীন অল্প কয়েক দিন ঘর বন্দি থেকে মানুষের বেহাল দশার কথা আমরা সবাই জানি। লকডাউন শেষ হতেই পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে যেন মানুষের ঢল পড়ে, দীর্ঘদিন ঘরবন্দি অবস্থাতে থেকে জীবন যেন যায় যায়। তাহলে চিড়িয়াখানায় বন্দি পশুদের কথা একবার ভেবে দেখুন, কতটা নিরানন্দ তাদের জীবনযাপন।
আর আমাদের দেশের চিড়িয়াখানা গুলোর বেহাল দশার কথা না বললেই নয়। এমনকি আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানার পশু-পাখিদের দের দিকে তাকালে মনে হয় অনেক দিন যাবত তারা অনাহারে রয়েছে। সত্যিকার অর্থে এমনটাই করা হয় তাদের সাথে। যার প্রমাণ মিলেছে সেখানে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু কর্মকর্তাদের দ্বারা। সারা দিনে তাদেরকে একবার খাবার দেওয়া হয় তাও নাকি শুধু সকাল বেলা। তাছাড়া খাবারের মানও অতি নিম্ন।দুর্গন্ধের জন্য বাঘ-সিংহের খাঁচার কাছে যাওয়া যায় না।বছরের পর বছর ধরে পুরনো ও জরাজীর্ণ খাঁচায় পশু-পাখিগুলোকে রাখা হচ্ছে যার সংস্কার এর জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কখনো। এছাড়াও চিকিৎসার অভাবসহ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলার কারণে সিংহ দম্পতিসহ বেশ কিছু প্রাণী মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানকার পশুদের ভিতর নেই কোন উৎফুল্লতা। এই ধরনের দুর্নীতি আর অমানবিকতার জন্য শাস্তি হচ্ছে না কোনো কর্মকর্তার এবং যার ফলে দুর্নীতি দিন দিন যেন বেড়েই চলছে। পশুদের উপর এমন নির্মম আচরণ কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না।

অনেকে মনে করেন চিড়িয়াখানার সাহায্যে শিশুরা পশু-পাখি সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের কৌতুহল এর চাহিদা মেটাতে পারে। কিন্তু চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শিশুদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রাণী নীতি সম্পর্কে সঠিক বার্তা দে্য় না। যদিও চিড়িয়াখানা প্রাণীদের প্রজাতি যেমন তাদের আকার, খাদ্য এবং আয়ু সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য প্রদান করে, কিন্তু চিড়িয়াখানা একটি কৃত্রিম পরিবেশে প্রাণীদের প্রদর্শন করে এবং তাদের প্রকৃত প্রাকৃতিক আচরণ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়।চিড়িয়াখানার চেয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে বন্য প্রাণী সম্পর্কে আরও ভালো ভাবে জানা যায়। চিড়িয়াখানা গুলি মূলত শিশুদের শেখায় যে পশু পাখির জীবনে হস্তক্ষেপ করা এবং তাদেরকে বন্দি করে রাখা গ্রহণযোগ্য।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০,০০০ এরও বেশি চিড়িয়াখানা রয়েছে , যেখানে বন্য প্রাণীদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবদ্ধ করে রাখা হয় , বন্দিত্ব তাদের জীবনকাল, তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এবং তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস থেকে বঞ্চিত করে। পশুরা জীবিত প্রাণী, তাদের ও আমাদের মত অনুভূতি এবং আবেগ আছে। তারা কেউ পুরো জীবন সীমাবদ্ধ স্থানে থাকতে চায় না বা বন্দী জীবনে জন্ম নিতে চায় না।

একটি চিড়িয়াখানার প্রাণীর গড় আয়ু, একটি বন্য প্রাণীর গড় আয়ুর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, বন্য আফ্রিকান হাতিগুলি প্রায় ৬০ বছর বেঁচে থাকতে পারে, অপরদিকে চিড়িয়াখানায় তাদের আয়ু ১৭ বছর। স্থূলতা এবং চাপ সম্ভবত বন্দিদশা তাদের যথেষ্ট ছোট জীবনের অন্যতম কারণ। জলজ প্রাণী, যেমন অরকাস, বন্দী অবস্থায় তাদের গড় আয়ু কমে যায়। পুরুষ অর্কাস ৬০-৭০ বছর বেঁচে থাকার অনুমান করা হয়, এবং মহিলারা আনুমানিক ৮০-৯০ বছর বেঁচে থাকে। কিন্তু বন্দী তিমির মধ্যে, মাত্র দুটি মহিলা তিমি কেবল ৪০ বছর পার করেছে।

অনেকে বলেন যে, প্রানীদের চিড়িয়াখানায় শুধু আয়ের উৎস এবং বিনোদনের জন্য রাখা হয় না বরং বিপন্ন হওয়া থেকে বাঁচাতেও তাদের চিড়িয়াখানার মত স্থান গুলোতে রাখা হয়। কিন্তু বিপন্ন প্রজাতি রক্ষার্থে চিড়িয়াখানার পরিবর্তে অভয়ারণ্য তৈরি করা উচিত। অভয়ারণ্যগুলি অলাভজনক উদ্ধার কেন্দ্র, এবং তাদের লক্ষ্য কেবল প্রাণী রক্ষা করা, চিড়িয়াখানার মতো লাভের জন্য নয়। তারা প্রাণীদের প্রজনন করতে বাধ্য করে না; তাদের লক্ষ্য হল উদ্ধারকৃত প্রাণীদের শান্তিপূর্ণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করানো, প্রাণীদের নির্ভয় বিচরণ নিশ্চিত করা এবং সেখানে তাদেরকে এমন ভাবে বেষ্টনী দেওয়া হয় যাতে তারা মনে না করে যে তারা বন্দি আছে।

ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অ্যাংলিয়া (ইউইএ) -এর নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে বন্দি হওয়ার পরিবর্তে বন্য প্রজননে উৎসাহিত করা উচিত। ইউইএ এর স্কুল অফ এনভা্য়রনমেন্টাল সায়েন্স এর প্রধান গবেষক ড. পল ডলম্যান বলেছেন, আমাদের গবেষণা ধারণা করে যে, যখন একটি প্রজাতি বিপজ্জনক ভাবে বন্যে বিলুপ্তির কাছাকাছি থাকে, তখন এর একটি বন্দি প্রজনন স্থাপন করা অবশ্যই একটি ভাল উদ্যোগ। প্রজাতি গুলো যখন আসন্ন বিলুপ্তির মুখোমুখি হয় তখন ক্যাপটিভ প্রজনন তৈরি করে এদের রক্ষা করাই হল একটি শেষ সুযোগ। কিন্তু এটি কেবল কিছু সংখ্যক উন্নত প্রজাতির জন্য সফল প্রমানিত হয়েছে বরং অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয় নি।
তাছাড়া দীর্ঘদিন পশু পাখি দের খাঁচা্য় আটকে রাখার ফলে তাদের অনেক শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা ও অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এসব অস্বাভাবিকতাকে জুচোসিস বলা হয়। জুচোসিস হল সেই শব্দটি যা বন্দি অবস্থায় প্রাণীদের স্টেরিওটাইপিকাল আচরণ বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। জুচোসিস এর উদাহরণগুলি হল : বার কামড়, ঘাড় মোচড়ানো, জিহ্বা বাজানো, অতিরিক্ত গ্রুমিং, হেড ববিং এবং একই জায়গায় বার বার সার্কেল আকারে ঘুরপাক খাওয়া। স্টেরিওটাইপিক আচরণ বন্য প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায় না এবং এটি অস্বাভাবিক বলে ধারণা করা হয়, তাই এটি বন্দি প্রজনন সংরক্ষণের একটি নেতিবাচক কারণে ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯ টি প্রতিষ্ঠানে ২৫৭ বন্দী জিরাফ এবং ওকাপির গবেষণায় দেখা গেছে যে তাদের মধ্যে ৮০ ভাগ প্রাণী স্টেরিওটাইপিক আচরণ প্রদর্শন করে।
কোন ধরনের শিক্ষা বা গবেষণাই পশু-পাখিদের বন্দি রাখাকে সমর্থন করে না। ইন্টারনেটে সুবাদে আজ বিশ্বের প্রতিটি দেশ অনেক এগিয়ে। ঘরে বসেই সকল বন্যপ্রাণীদের দেখা যায়, জানা যায় তাদের খাদাভাস, তাদের বাসস্থান সম্পর্কে। চিড়িয়াখানার পরিবর্তে অভয়ারণ্য তৈরি করা হোক। এই আধুনিক সভ্য সমাজে চিড়িয়াখানা অবশ্যই নৈতিকতা বিরোধী।

ফারজানা আক্তার ঝিমি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

চিড়িয়াখানায় পশু-পাখি নৈতিকতা বিরোধী

প্রকাশিত : ০৪:২৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

চিড়িয়াখানায় বন্দি পশু-পাখিদের দিকে তাকালেই আমরা আমাদের নির্বোধিতা আর নির্দয়তা অনুধাবন করতে পারি। মানুষ অপরাধ করলে তাদেরকে কারাগারে বন্দি করার নি্য়ম তৈরি করে আমরা সভ্য সমাজের উদ্ভাবন করেছি কিন্তু পশু-পাখিদের বিনা অপরাধে বছরের পর বছর বন্দি করে কি আমরা অমানুষিকতার পরিচয় দিচ্ছি না? সৃষ্টিকর্তা কি পশু-পাখিদের স্বাধীনতা আর স্বাভাবিক জীবন যাপন কেড়ে নেওয়ার অধিকার আমাদের দিয়েছেন? নিশ্চয়ই না। কিন্তু আমরা নিজেদের আ্য়ের উৎস বাড়াতে এবং বিনোদনের চাহিদা মেটাতে তাদেরকে প্রদর্শনী হিসেবে আটকে রাখছি বছরের পর বছর।

করোনাকালীন অল্প কয়েক দিন ঘর বন্দি থেকে মানুষের বেহাল দশার কথা আমরা সবাই জানি। লকডাউন শেষ হতেই পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে যেন মানুষের ঢল পড়ে, দীর্ঘদিন ঘরবন্দি অবস্থাতে থেকে জীবন যেন যায় যায়। তাহলে চিড়িয়াখানায় বন্দি পশুদের কথা একবার ভেবে দেখুন, কতটা নিরানন্দ তাদের জীবনযাপন।
আর আমাদের দেশের চিড়িয়াখানা গুলোর বেহাল দশার কথা না বললেই নয়। এমনকি আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানার পশু-পাখিদের দের দিকে তাকালে মনে হয় অনেক দিন যাবত তারা অনাহারে রয়েছে। সত্যিকার অর্থে এমনটাই করা হয় তাদের সাথে। যার প্রমাণ মিলেছে সেখানে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু কর্মকর্তাদের দ্বারা। সারা দিনে তাদেরকে একবার খাবার দেওয়া হয় তাও নাকি শুধু সকাল বেলা। তাছাড়া খাবারের মানও অতি নিম্ন।দুর্গন্ধের জন্য বাঘ-সিংহের খাঁচার কাছে যাওয়া যায় না।বছরের পর বছর ধরে পুরনো ও জরাজীর্ণ খাঁচায় পশু-পাখিগুলোকে রাখা হচ্ছে যার সংস্কার এর জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কখনো। এছাড়াও চিকিৎসার অভাবসহ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলার কারণে সিংহ দম্পতিসহ বেশ কিছু প্রাণী মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানকার পশুদের ভিতর নেই কোন উৎফুল্লতা। এই ধরনের দুর্নীতি আর অমানবিকতার জন্য শাস্তি হচ্ছে না কোনো কর্মকর্তার এবং যার ফলে দুর্নীতি দিন দিন যেন বেড়েই চলছে। পশুদের উপর এমন নির্মম আচরণ কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না।

অনেকে মনে করেন চিড়িয়াখানার সাহায্যে শিশুরা পশু-পাখি সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের কৌতুহল এর চাহিদা মেটাতে পারে। কিন্তু চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শিশুদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রাণী নীতি সম্পর্কে সঠিক বার্তা দে্য় না। যদিও চিড়িয়াখানা প্রাণীদের প্রজাতি যেমন তাদের আকার, খাদ্য এবং আয়ু সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য প্রদান করে, কিন্তু চিড়িয়াখানা একটি কৃত্রিম পরিবেশে প্রাণীদের প্রদর্শন করে এবং তাদের প্রকৃত প্রাকৃতিক আচরণ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়।চিড়িয়াখানার চেয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে বন্য প্রাণী সম্পর্কে আরও ভালো ভাবে জানা যায়। চিড়িয়াখানা গুলি মূলত শিশুদের শেখায় যে পশু পাখির জীবনে হস্তক্ষেপ করা এবং তাদেরকে বন্দি করে রাখা গ্রহণযোগ্য।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০,০০০ এরও বেশি চিড়িয়াখানা রয়েছে , যেখানে বন্য প্রাণীদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবদ্ধ করে রাখা হয় , বন্দিত্ব তাদের জীবনকাল, তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এবং তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস থেকে বঞ্চিত করে। পশুরা জীবিত প্রাণী, তাদের ও আমাদের মত অনুভূতি এবং আবেগ আছে। তারা কেউ পুরো জীবন সীমাবদ্ধ স্থানে থাকতে চায় না বা বন্দী জীবনে জন্ম নিতে চায় না।

একটি চিড়িয়াখানার প্রাণীর গড় আয়ু, একটি বন্য প্রাণীর গড় আয়ুর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, বন্য আফ্রিকান হাতিগুলি প্রায় ৬০ বছর বেঁচে থাকতে পারে, অপরদিকে চিড়িয়াখানায় তাদের আয়ু ১৭ বছর। স্থূলতা এবং চাপ সম্ভবত বন্দিদশা তাদের যথেষ্ট ছোট জীবনের অন্যতম কারণ। জলজ প্রাণী, যেমন অরকাস, বন্দী অবস্থায় তাদের গড় আয়ু কমে যায়। পুরুষ অর্কাস ৬০-৭০ বছর বেঁচে থাকার অনুমান করা হয়, এবং মহিলারা আনুমানিক ৮০-৯০ বছর বেঁচে থাকে। কিন্তু বন্দী তিমির মধ্যে, মাত্র দুটি মহিলা তিমি কেবল ৪০ বছর পার করেছে।

অনেকে বলেন যে, প্রানীদের চিড়িয়াখানায় শুধু আয়ের উৎস এবং বিনোদনের জন্য রাখা হয় না বরং বিপন্ন হওয়া থেকে বাঁচাতেও তাদের চিড়িয়াখানার মত স্থান গুলোতে রাখা হয়। কিন্তু বিপন্ন প্রজাতি রক্ষার্থে চিড়িয়াখানার পরিবর্তে অভয়ারণ্য তৈরি করা উচিত। অভয়ারণ্যগুলি অলাভজনক উদ্ধার কেন্দ্র, এবং তাদের লক্ষ্য কেবল প্রাণী রক্ষা করা, চিড়িয়াখানার মতো লাভের জন্য নয়। তারা প্রাণীদের প্রজনন করতে বাধ্য করে না; তাদের লক্ষ্য হল উদ্ধারকৃত প্রাণীদের শান্তিপূর্ণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করানো, প্রাণীদের নির্ভয় বিচরণ নিশ্চিত করা এবং সেখানে তাদেরকে এমন ভাবে বেষ্টনী দেওয়া হয় যাতে তারা মনে না করে যে তারা বন্দি আছে।

ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অ্যাংলিয়া (ইউইএ) -এর নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে বন্দি হওয়ার পরিবর্তে বন্য প্রজননে উৎসাহিত করা উচিত। ইউইএ এর স্কুল অফ এনভা্য়রনমেন্টাল সায়েন্স এর প্রধান গবেষক ড. পল ডলম্যান বলেছেন, আমাদের গবেষণা ধারণা করে যে, যখন একটি প্রজাতি বিপজ্জনক ভাবে বন্যে বিলুপ্তির কাছাকাছি থাকে, তখন এর একটি বন্দি প্রজনন স্থাপন করা অবশ্যই একটি ভাল উদ্যোগ। প্রজাতি গুলো যখন আসন্ন বিলুপ্তির মুখোমুখি হয় তখন ক্যাপটিভ প্রজনন তৈরি করে এদের রক্ষা করাই হল একটি শেষ সুযোগ। কিন্তু এটি কেবল কিছু সংখ্যক উন্নত প্রজাতির জন্য সফল প্রমানিত হয়েছে বরং অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয় নি।
তাছাড়া দীর্ঘদিন পশু পাখি দের খাঁচা্য় আটকে রাখার ফলে তাদের অনেক শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা ও অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এসব অস্বাভাবিকতাকে জুচোসিস বলা হয়। জুচোসিস হল সেই শব্দটি যা বন্দি অবস্থায় প্রাণীদের স্টেরিওটাইপিকাল আচরণ বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। জুচোসিস এর উদাহরণগুলি হল : বার কামড়, ঘাড় মোচড়ানো, জিহ্বা বাজানো, অতিরিক্ত গ্রুমিং, হেড ববিং এবং একই জায়গায় বার বার সার্কেল আকারে ঘুরপাক খাওয়া। স্টেরিওটাইপিক আচরণ বন্য প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায় না এবং এটি অস্বাভাবিক বলে ধারণা করা হয়, তাই এটি বন্দি প্রজনন সংরক্ষণের একটি নেতিবাচক কারণে ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯ টি প্রতিষ্ঠানে ২৫৭ বন্দী জিরাফ এবং ওকাপির গবেষণায় দেখা গেছে যে তাদের মধ্যে ৮০ ভাগ প্রাণী স্টেরিওটাইপিক আচরণ প্রদর্শন করে।
কোন ধরনের শিক্ষা বা গবেষণাই পশু-পাখিদের বন্দি রাখাকে সমর্থন করে না। ইন্টারনেটে সুবাদে আজ বিশ্বের প্রতিটি দেশ অনেক এগিয়ে। ঘরে বসেই সকল বন্যপ্রাণীদের দেখা যায়, জানা যায় তাদের খাদাভাস, তাদের বাসস্থান সম্পর্কে। চিড়িয়াখানার পরিবর্তে অভয়ারণ্য তৈরি করা হোক। এই আধুনিক সভ্য সমাজে চিড়িয়াখানা অবশ্যই নৈতিকতা বিরোধী।

ফারজানা আক্তার ঝিমি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ