দারুণ উত্তেজনার ম্যাচ। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি ভারত আর বাংলাদেশ। এমন এক ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। শুরু থেকেই দেখে শুনে খেলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন।
ওয়াশিংটন সুন্দরকে মারতে গিয়ে আউট হন লিটন। আউট হওয়ার আগে করেন ১১ রান। পরের ওভারেই চাহালকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে দারুণ এক ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তামিম। আউট হওয়ার আগে তামিম করেন ১৩ বলে ১৫ রান। যার মধ্যে ১টি বাউন্ডারি ছিল।
দুই উইকেট হারিয়ে দল যখন ভিষন বিপদে তখন ক্রিজে আসেন সৌম্য কিন্তু তিনি তার স্বভাব সুলভ ব্যাটিং করে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। আউট হওয়ার আগে করেন মূল্যবান ১ রান। দলীয় ৫০ রানের আগে তিন উইকেট হারিয়ে দল যখন খাদের কিনারায় তখন দায়িত্ব কাধে তুলে নেন সাব্বির-মুশফিক। এই দুই জনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে যখন বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ তখন ফের টাইগার শিবিরে আঘাত হানেন চাহাল। হালকা ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে আউট হন মুশফিকুর, করেন ১২ বলে ৯ রান।
মুশফিকের বিদায়ে ক্রিজে আসেন মাহমুদুল্লাহ কিন্তু নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। রান আউট হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে করেন ২১ রান। সবাই যখন আসা যাওয়ায় ব্যস্ত ঠিক তখনই এক প্রান্ত আগলে রাখেন হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। সাব্বিরের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রানের লড়াকু স্কোর করে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমান করেন ৭৭ রান। যার মধ্যে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছয়ের মার। জয়ের জন্য ভারতকে করতে হবে ১৬৭ রান। হাতে আছে ১০ উইকেট ও ১২০ বল।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ ভারতের সাথে ম্যাচ হেরে নিদাহাস ট্রফিতে যাত্রা শুরু করে টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসের রেকর্ড গড়া এক জয় পায় বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিদাহাস ট্রফির ম্যাচে ২১৫ রানের প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্য তাড়া করে জয় পায় টাইগাররা।
মুশফিকুর রহীমের অবিশ্বাস্য এক ইনিংসে ঘরের মাঠের শ্রীলঙ্কাকে ২ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে হারায় বাংলাদেশ। এরপর গত শুক্রবার (১৬ মার্চ) নাটকীয় ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর বড় অবদানে ২ উইকেটের জয়ে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম অপু।
ভারতীয় একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, সুরেশ রায়না, মানিশ পাণ্ডে, দিনেশ কার্তিক (উইকেটরক্ষক), বিজয় শংকর, ওয়াশিংটন সুন্দর, শারদুল ঠাকুর, জয়দেব উনাদকাত, যুজভেন্দ্র চাহাল।

























