০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসায় গ্রেফতার-৫

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির”পক্ষ থেকে র‍্যাব-২ এর নিকট অভিযোগ করা হয় একজন চিত্রনায়ক দীর্ঘদিন যাবত তাদের কার্যক্রমের অনুপস্থিত রয়েছেন। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন যে ঐ চিত্রনায়ককে গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব সদর দপ্তর ও র‍্যাব-২ এর গোয়েন্দা দল অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। পরবর্তীতে এ অভিযোগের সত্যতা পায় ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটির ব্যপক অনিয়মের সম্পর্কে জানতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় গত ০৪ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ বিকেলে র‍্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করে চিত্রনায়কসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। অভিযান পরিচালনাকালে মাদকাসক্তি পূনর্বাসন কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায়,ফিরোজা নাজনিন বাঁধন (৩৫)মনোয়ার হোসেন সিপন (৩১)মোঃ রায়হান খান (২০)দিপংকর শাহ দিপু (৪৪) জাকির হোসেন আনন্দ (২৭) আটক করা হয় এবং তল্লাশীকালে ৪২০ পিস ইয়াবা (মাদকদ্রব্য), নির্যাতনে ব্যবহৃত লাঠি, স্টিলের পাইপ, হাতকড়া, রশি, গামছা, খেলনা পিস্তল ও কথিত সাংবাদিকের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

গ্রেফতারকৃত ফিরোজা নাজনিন বাঁধন ২০০৯ সালে ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রটি অনুমোদনহীনভাবে প্রতিষ্ঠা করে যা পরবর্তীতে ২০১৩-২০১৪ সালে সাময়িক অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। তিনি আরও দাবী করেন এই প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি নিজেই, যার কর্মী সংখ্যা ০৪ জন এবং রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ২৮ জন।
ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, যেভাবে নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা করার কথা, চিকিৎসা দেওয়ার কথা, রোগীদের সেবা করার কথা তার ব্যাপক অনিয়ম এখানে পাওয়া যায়। নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফিরোজা নাজনিনের বিরুদ্ধে ভিকটিম এবং ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে অভিযোগ পাওয়া যায় যে, নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদেরকে চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানি করা হতো। এখানে চিকিৎসার নামে রশির সাহয্যে ঝুলিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। ভিকটিম ও কর্মচারীরা জানায় যে, এখানে খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের ছিলো । তাছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কর্তৃক যে সকল নির্দেশনা দেওয়া ছিল তার অধিকাংশই এখানে পওয়া যায়নি এবং নিরাময় কেন্দ্রে সবসময় ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও তা অনুপস্থিত ছিল। উপরন্তু গ্রেফতারকৃত নিরাময় কেন্দ্রের মালিক এবং কর্মচারীদের তৎক্ষণাৎ র‍্যাপিড ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমান পাওয়া যায় তারা সকলেই মাদকাসক্ত। উদ্ধারকৃত চিত্রনায়কের এই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আসার বিষয়ে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে চলচ্চিত্রের কার্যক্রম স্থবির থাকায় অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারনে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসায় গ্রেফতার-৫

প্রকাশিত : ০৫:২২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২২

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির”পক্ষ থেকে র‍্যাব-২ এর নিকট অভিযোগ করা হয় একজন চিত্রনায়ক দীর্ঘদিন যাবত তাদের কার্যক্রমের অনুপস্থিত রয়েছেন। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন যে ঐ চিত্রনায়ককে গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব সদর দপ্তর ও র‍্যাব-২ এর গোয়েন্দা দল অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। পরবর্তীতে এ অভিযোগের সত্যতা পায় ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটির ব্যপক অনিয়মের সম্পর্কে জানতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় গত ০৪ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ বিকেলে র‍্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করে চিত্রনায়কসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। অভিযান পরিচালনাকালে মাদকাসক্তি পূনর্বাসন কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায়,ফিরোজা নাজনিন বাঁধন (৩৫)মনোয়ার হোসেন সিপন (৩১)মোঃ রায়হান খান (২০)দিপংকর শাহ দিপু (৪৪) জাকির হোসেন আনন্দ (২৭) আটক করা হয় এবং তল্লাশীকালে ৪২০ পিস ইয়াবা (মাদকদ্রব্য), নির্যাতনে ব্যবহৃত লাঠি, স্টিলের পাইপ, হাতকড়া, রশি, গামছা, খেলনা পিস্তল ও কথিত সাংবাদিকের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

গ্রেফতারকৃত ফিরোজা নাজনিন বাঁধন ২০০৯ সালে ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রটি অনুমোদনহীনভাবে প্রতিষ্ঠা করে যা পরবর্তীতে ২০১৩-২০১৪ সালে সাময়িক অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। তিনি আরও দাবী করেন এই প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি নিজেই, যার কর্মী সংখ্যা ০৪ জন এবং রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ২৮ জন।
ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, যেভাবে নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা করার কথা, চিকিৎসা দেওয়ার কথা, রোগীদের সেবা করার কথা তার ব্যাপক অনিয়ম এখানে পাওয়া যায়। নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফিরোজা নাজনিনের বিরুদ্ধে ভিকটিম এবং ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে অভিযোগ পাওয়া যায় যে, নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদেরকে চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানি করা হতো। এখানে চিকিৎসার নামে রশির সাহয্যে ঝুলিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। ভিকটিম ও কর্মচারীরা জানায় যে, এখানে খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের ছিলো । তাছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কর্তৃক যে সকল নির্দেশনা দেওয়া ছিল তার অধিকাংশই এখানে পওয়া যায়নি এবং নিরাময় কেন্দ্রে সবসময় ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও তা অনুপস্থিত ছিল। উপরন্তু গ্রেফতারকৃত নিরাময় কেন্দ্রের মালিক এবং কর্মচারীদের তৎক্ষণাৎ র‍্যাপিড ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমান পাওয়া যায় তারা সকলেই মাদকাসক্ত। উদ্ধারকৃত চিত্রনায়কের এই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আসার বিষয়ে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে চলচ্চিত্রের কার্যক্রম স্থবির থাকায় অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারনে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ