ভাওয়াইয়া গান বাংলা লোকসংগীত তথা বাংলা সংগীতের একটি বিশিষ্ট ধারা। এই গান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর জেলা, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার জেলা এবং আসামের গোয়ালপাড়া অঞ্চলের মাটি ও মানুষের হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত প্রাণের সংগীত বা পরানের গান। তাই এই পরানের গান সংশ্লিষ্টদের অর্থাৎ ভাওয়াইয়া গানের গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, সংগ্রাহক, সংগঠক ও গবেষকদের জীবনালেখ্যমুলক ‘ভাওয়াইয়া গানের পরাণের বন্ধুরা’ (প্রথম খন্ড) নামক গ্রন্থই আজকের আলোচ্য। এ গ্রন্থে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাওয়াইয়া সংশ্লিষ্ট শতাধিক জীবনালেখ্য লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে আশরাফুজ্জামান বাবু। এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় বাবুই প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে বইটি।
বাংলাদেশ ও ভারতে আজ অবধি ভাওয়াইয়া সঙ্গীতের উপর গবেষণা, প্রচার, প্রসারে যতগুলো কাজ হয়েছে, সেসবের মধ্যে ‘ভাওয়াইয়া গানের পরানের বন্ধুরা’ (প্রথম খন্ড) একবারেই ব্যতিক্রম একটি কাজ। ইতোপূর্বে এমন অসাধারণ কাজটি কেউ করেছে বলে আমার জানা নেই। এই বইটি গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে নি:সন্দেহে। এতে উপকৃত হবে দুই দেশের সঙ্গীতজ্ঞরা। জানবে, শিখবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। গ্রন্থের শেষদিকে ‘ত্রিশ থেকে আশির দশক জীবন্ত হয়ে আছে আরশাদ আলী’র সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায়’ শিরোনামে একটি বিশেষ লেখা সংযোজিত হয়েছে। এই লেখাটি একজন সংগীতসংগ্রাহকের সাধনাকে সংগীতপিয়াষী শ্রোতা ও পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে। একজন ভাওয়াইয়াপ্রেমী মানুষ আশরাফুজ্জামান বাবু। তিনি ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী, সুরকার, গীতিকার, সংগ্রাহক, সংগঠক ও গবেষকদের জীবনভিত্তিক অসংখ্য প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা, টিভি নাট্যকার, সংবাদকর্মী ও ছড়াকার।
‘ভাওয়াইয়া গানের পরানের বন্ধুরা’ গ্রন্থের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করার আগে একটি কথা না লিখলেই নয়, তা হলো, দেশ বিদেশের হারিয়ে যাওয়া লোকগান/ভাওয়াইয়ার কিংবদন্তিদের তথ্য যে ভাবে তিনি সংগ্রহ করে অমোচনীয় ভাবে সংরক্ষণ করছেন, তাদের কর্মকান্ড, অবদান লিপিবদ্ধ করেছেন বা করছেন, তা অব্যাহত থাকলে লোকসঙ্গীতের অন্যতম প্রধান ধারা ভাওয়াইয়া নতুন করে প্রাণ পাবে। তা শুধু আমাদের বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, বিহার ও উড়িষ্যার কিছু অংশ এবং নেপালের কোকড়াঝাড় এলাকায় নতুন করে সাড়া ফেলবে। আমাদের নতুন প্রজন্মের হাতে আসবে বিশেষ ইতিহাস। যা পড়ে তারা উজ্জীবিত হবে। পাবে দিক নির্দেশনা, তাদের চলার পথ আরো মসৃন হবে, খুলবে নতুন দিগন্ত।
লেখক : খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিশেষ শ্রেণির কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও লোকসঙ্গীত গবেষক। বাংলাদেশের প্রাচীন ভাওয়াইয়া সংগঠন ‘গীদালের আখড়া’র সভাপতি এবং বিশ্ব ভাওয়াইয়া পর্ষদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ


























