১০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা

শিক্ষা কী? অথবা শিক্ষা বলতে আমরা কি বুঝি? শিক্ষা হচ্ছে একজন মানুষের স্বাভাবিক আচার আচরনের
কাক্সিক্ষত মানের পরিবর্তন। এছাড়াও নিরক্ষরকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়া এ পৃথিবীকে আলোকিত করাই শিক্ষার
অন্যতম কাজ। কিন্তু শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য কি? শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যবোধ, মনুষ্যত্ববোধ, মানবিকতা,
ক্সনতিক শুদ্ধতা ও ব্যাক্তিত্বের দৃঢ়তা কিংবা উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ সাধন করা। আত্বাকে বাদ দিয়ে যেমন
পূর্ণ মানুষ কল্পনা করা যায় না তেমনিভাবে ব্যাক্তিত্ববোধ ছাড়া গতানুগতিক ডিগ্রিধারী লোককে সুশিক্ষিত বলা
যায় না।
বর্তমানে সাড়া পৃথিবীতে শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও
এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এ বিশ্বপরিমন্ডলে মানুষ নিজেকে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করতে চায় বলেই মানুষ জ্ঞান
সাধনায় নিয়োজিত। ফলে সমাজ দেশ, জাতি তথা বিশ্বসভ্যতা হয়েছে আলোকিত। যারা জ্ঞানের সাধক,
তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ব্যাক্তি তথা জাতির জ্ঞান বিকাশের প্রধান সহায়ক। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা
প্রতিনিয়ত হতাশার বুকে জাগায় আশা। অন্ধকারে জ্বালায় আলো। ভ্রান্তিতে এনে দেয় শুদ্ধতা। অসুন্দরকে
করে সুন্দর। মিথ্যাকে দেখায় ভয়। সত্যকে করে জয়। তাই এমন শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে অবহিত
করার ইচ্ছায় কিছু প্রসঙ্গ উপস্থাপন করছি।
সবাই আমার সাথে একমত হবেন যে, সাড়া পৃথিবীতে শিক্ষার হার ও মান দুটোই ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু
বাড়ছেনা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ। তা না হলে বর্তমান পৃথিবীতে কেন এত হিংসা,
বিদ্বেষ, পারস্পরিক মারামারি, এত হত্যাযজ্ঞ? কেন এই দলাদলি স্বজনপ্রীতি, অন্যের উপর জবরদস্তি? আপনি
আমি কি এর ব্যতিক্রম? আমরা সভ্যনামধারী অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ বর্তমান এই পৃথিবীর ধ্বংসাত্মক
কাজের জন্য দায়ী। আমরা অনেকেই বুদ্ধিদীপ্ত শিক্ষিত অথচ কুটকে․শলী। আমরা অধিকাংশই ডিগ্রি অর্জন
তথা বিত্তের নেশায় পাঠ্য গলাধ:করণ করি। তাই এমন শিক্ষা আমাদের শিক্ষিত করে না। বরং বানিজ্যিক
করে তুলে। শুদ্ধ না করে স্বার্থান্বেষী করে। তাদের কথা অবশ্যই স্বতন্ত্র যারা নিবেদিত ও মানবিক গুণাবলিতে
গুণান্বিত। সমাজে ও রাষ্ট্রে তারাই আচার্য্য। তাদের প্রতি রইল বিন¤্র শ্রদ্ধা। আজ পৃথিবী জুড়ে মানবতার যে
হাহাকার তা দেখে আমাদের সবাইকে কি শিক্ষিত বলা যায়? এখন কি আমরা সেরকম পরিশিলিত সিদ্ধাচার্যের
অভাব অনুভব করি না?
যারা নীতির বুলি আওড়ে ক্সনতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজের পা-িত্ত্য জাহির করেন, স্বার্থের জন্য অন্যায় কাজের
আশ্রয় নেন, তাদের আর যাই বলুন শ্রদ্ধাভাজন বলা যায় না। আমাদের এমন ক্সনতিকতা, চিন্তা ভাবনা,
অনাকাক্সিক্ষত। এমন হলে সমাজ-সভ্যতা, সং¯‥ৃতি তথা জাতির উন্নতি সম্ভব না। তাই সবার আগে প্রয়োজন
সুশিক্ষা। প্রয়োজন জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি সত্য ও সুন্দরের সাধনা করা। মানবতা ও মুক্তির জন্য নিজেকে
নিয়োজিত করা। স্বার্থকে ত্যাগ করে আত্বত্যাগী হওয়া। পারশ্রীকাতর না হয়ে ‣ধর্য্যশীল হওয়া। পরনিন্দা,
পরচর্চা পরিহার করে আত্বসমালোচনা করা। সর্বদা ¯্রষ্টার উপর ভরসা করা।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, উন্নত ও গুণগত শিক্ষা হচ্ছে সেই শিক্ষা, যা শুধু আমাদেরকে তথ্য প্রদান
করে না বরং আমাদের সকল অস্তিত্বের সঙ্গে আমাদের জীবনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলে।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের শিক্ষক, অভিবাকক, ছাত্র-ছাত্রীরা মনে করে, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে পরীক্ষায় পাশ
করা। তারা পরীক্ষায় পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়াকে একই জিনিস মনে করছে। কিন্তু সুশিক্ষিত হওয়া ও
পরীক্ষায় পাশ করা একই জিনিস নয়। তাই শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন থেকে জ্ঞান অর্জন
করতে পারলেই শিক্ষার প্রকৃত সফলতা ভোগ করা যাবে।

 

  লেখক: মোঃ জালাল উদ্দিন
                       প্রভাষক (ইংরেজী)
                       বাহুবল কলেজ
                         বাহুবল, হবিগঞ্জ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

শিক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা

প্রকাশিত : ০৮:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ জুলাই ২০২২

শিক্ষা কী? অথবা শিক্ষা বলতে আমরা কি বুঝি? শিক্ষা হচ্ছে একজন মানুষের স্বাভাবিক আচার আচরনের
কাক্সিক্ষত মানের পরিবর্তন। এছাড়াও নিরক্ষরকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়া এ পৃথিবীকে আলোকিত করাই শিক্ষার
অন্যতম কাজ। কিন্তু শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য কি? শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যবোধ, মনুষ্যত্ববোধ, মানবিকতা,
ক্সনতিক শুদ্ধতা ও ব্যাক্তিত্বের দৃঢ়তা কিংবা উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ সাধন করা। আত্বাকে বাদ দিয়ে যেমন
পূর্ণ মানুষ কল্পনা করা যায় না তেমনিভাবে ব্যাক্তিত্ববোধ ছাড়া গতানুগতিক ডিগ্রিধারী লোককে সুশিক্ষিত বলা
যায় না।
বর্তমানে সাড়া পৃথিবীতে শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও
এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এ বিশ্বপরিমন্ডলে মানুষ নিজেকে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করতে চায় বলেই মানুষ জ্ঞান
সাধনায় নিয়োজিত। ফলে সমাজ দেশ, জাতি তথা বিশ্বসভ্যতা হয়েছে আলোকিত। যারা জ্ঞানের সাধক,
তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ব্যাক্তি তথা জাতির জ্ঞান বিকাশের প্রধান সহায়ক। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা
প্রতিনিয়ত হতাশার বুকে জাগায় আশা। অন্ধকারে জ্বালায় আলো। ভ্রান্তিতে এনে দেয় শুদ্ধতা। অসুন্দরকে
করে সুন্দর। মিথ্যাকে দেখায় ভয়। সত্যকে করে জয়। তাই এমন শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে অবহিত
করার ইচ্ছায় কিছু প্রসঙ্গ উপস্থাপন করছি।
সবাই আমার সাথে একমত হবেন যে, সাড়া পৃথিবীতে শিক্ষার হার ও মান দুটোই ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু
বাড়ছেনা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ। তা না হলে বর্তমান পৃথিবীতে কেন এত হিংসা,
বিদ্বেষ, পারস্পরিক মারামারি, এত হত্যাযজ্ঞ? কেন এই দলাদলি স্বজনপ্রীতি, অন্যের উপর জবরদস্তি? আপনি
আমি কি এর ব্যতিক্রম? আমরা সভ্যনামধারী অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ বর্তমান এই পৃথিবীর ধ্বংসাত্মক
কাজের জন্য দায়ী। আমরা অনেকেই বুদ্ধিদীপ্ত শিক্ষিত অথচ কুটকে․শলী। আমরা অধিকাংশই ডিগ্রি অর্জন
তথা বিত্তের নেশায় পাঠ্য গলাধ:করণ করি। তাই এমন শিক্ষা আমাদের শিক্ষিত করে না। বরং বানিজ্যিক
করে তুলে। শুদ্ধ না করে স্বার্থান্বেষী করে। তাদের কথা অবশ্যই স্বতন্ত্র যারা নিবেদিত ও মানবিক গুণাবলিতে
গুণান্বিত। সমাজে ও রাষ্ট্রে তারাই আচার্য্য। তাদের প্রতি রইল বিন¤্র শ্রদ্ধা। আজ পৃথিবী জুড়ে মানবতার যে
হাহাকার তা দেখে আমাদের সবাইকে কি শিক্ষিত বলা যায়? এখন কি আমরা সেরকম পরিশিলিত সিদ্ধাচার্যের
অভাব অনুভব করি না?
যারা নীতির বুলি আওড়ে ক্সনতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজের পা-িত্ত্য জাহির করেন, স্বার্থের জন্য অন্যায় কাজের
আশ্রয় নেন, তাদের আর যাই বলুন শ্রদ্ধাভাজন বলা যায় না। আমাদের এমন ক্সনতিকতা, চিন্তা ভাবনা,
অনাকাক্সিক্ষত। এমন হলে সমাজ-সভ্যতা, সং¯‥ৃতি তথা জাতির উন্নতি সম্ভব না। তাই সবার আগে প্রয়োজন
সুশিক্ষা। প্রয়োজন জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি সত্য ও সুন্দরের সাধনা করা। মানবতা ও মুক্তির জন্য নিজেকে
নিয়োজিত করা। স্বার্থকে ত্যাগ করে আত্বত্যাগী হওয়া। পারশ্রীকাতর না হয়ে ‣ধর্য্যশীল হওয়া। পরনিন্দা,
পরচর্চা পরিহার করে আত্বসমালোচনা করা। সর্বদা ¯্রষ্টার উপর ভরসা করা।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, উন্নত ও গুণগত শিক্ষা হচ্ছে সেই শিক্ষা, যা শুধু আমাদেরকে তথ্য প্রদান
করে না বরং আমাদের সকল অস্তিত্বের সঙ্গে আমাদের জীবনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলে।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের শিক্ষক, অভিবাকক, ছাত্র-ছাত্রীরা মনে করে, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে পরীক্ষায় পাশ
করা। তারা পরীক্ষায় পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়াকে একই জিনিস মনে করছে। কিন্তু সুশিক্ষিত হওয়া ও
পরীক্ষায় পাশ করা একই জিনিস নয়। তাই শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন থেকে জ্ঞান অর্জন
করতে পারলেই শিক্ষার প্রকৃত সফলতা ভোগ করা যাবে।

 

  লেখক: মোঃ জালাল উদ্দিন
                       প্রভাষক (ইংরেজী)
                       বাহুবল কলেজ
                         বাহুবল, হবিগঞ্জ।