অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিমানের ক্যাডেট পাইলট নিয়োগ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় কমিশন কর্তৃক চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন (Sanction) প্রদান করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।
ক্যাডেট, পাইলট নিয়োগে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স এবং লিখিত-মৌখিক পরীক্ষায় অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন ।
উক্ত চার্জশিট দাখিলের আসামীরা হলেন,অবসরপ্রাপ্ত আবুল মুনীম মোসাদ্দিক আহমেদ, প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও,বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড,ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল,পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন্স এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড,পার্থ কুমার পন্ডিত, প্রাক্তন পরিচালক (প্রশাসন),প্রাক্তন অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টার (বিএটিসি), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড ও ফখরুল হোসেন চৌধুরী,ব্যবস্থাপক (নিয়োগ)।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ‘আসামিরা ২০১৮ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ক্যাডেট পাইলট নিয়োগের সময় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স নির্ধারণে বিমানের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করেননি।
নিজেদের ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা দিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং পরে ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল মুনীম মোসাদ্দিক আহমেদের ভাতিজাসহ ৩০ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং ওই প্রার্থীদের অবৈধ সুবিধা দেন।
দুদক জানায়, ক্যাডেট পাইলট নিয়োগে ভাইভা পরীক্ষায় সব পরিচালকসহ কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ১০ জন। গত জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানো হয়েছে। অথচ লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া অনেককেই মৌখিক পরীক্ষায় পাস করানো হয়েছে।
অন্যদিকে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে আবার ১০০ নম্বরের ভাইভা নেওয়ার কোনো নজির বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বিধিমালায় নেই। এছাড়া পাইলট নিয়োগের বয়স যুক্তিহীনভাবে ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে নীতিহীন কাজ হয়েছে, যা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
বর্তমান ও সাবেক সাত পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। তাদের মধ্য ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল দাবি করেন, ‘পাইলট নিয়োগ নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। আর ঘুষ, দুর্নীতিও হচ্ছে না।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
















