ভালো করে পরীক্ষা দাও ভয় পেয়ো না,সেই বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে ছেলে মিরাজ। অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র মিরাজ। এবছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবার সাথে যখন শেষ কথা হয়েছিল তখন বাবা বলেছিল ভালো করে পরীক্ষা দাও ভয় পেয়ো না।
বাবা যে কি জিনিস বিশাল এই ভূবনে যখন দেখতাম বাবার মুখ কোন কষ্টই যে থাকতো না মনে, এক জীবনে বাবার স্নেহ অবারিত ধারায় শুধু ঝরতেই থাকে। বাবা শাশ্বত, চির আপন। প্রতিটি সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো ছায়ার নাম ‘বাবা’।
বাবার তুলনা শুধু বাবাই।মিরাজের চিরন্তন এক সম্পর্কের নামটার শেষ বিদায়ের পর মুসলিম রীতি অনুযায়ী কাফন দাফনের আয়োজন হচ্ছে, কিন্তু ছেলে হিসেবে সবটুকু সময় থাকতে পারছে না বাবার পাশে কারণ তার এসএসসি পরীক্ষা।
আজ ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার তার গণিত পরিক্ষা মিরাজ যখন পরীক্ষার শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি নেওয়ায় ব্যস্ত। সেই মুহুর্তে বুধবার সন্ধ্যায় তার বাবা মোতাহার হোসেন খান স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করেন। বুধবার সকালেও বাবার সাথে তার কথায় হয়। বাবার শেষ কথা ‘ভালো করে পরীক্ষা দাও, ভয় পেয়ো না’ এখনও তার কানে বাজে। মনকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছে না মিরাজ। বাবাকে হারিয়ে একদিকে বাকরুদ্ধ শোকে স্তব্ধ।
অন্যদিকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সারারাত বাবার লাশের পাশে বসে থেকে দোয়া পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে সাদা কাপড়ে মোড়ানো বাবার নিথর কফিন ছুঁয়ে দোয়া নিয়ে পরীক্ষা দিতে যায় মিরাজ। পরীক্ষা শেষ করে বাবার জানাজা পড়ে। এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রামে।
মিরাজের বাবা মোতাহার হোসেন খান (৪৫) আখাউড়া গ্রীন ভ্যালী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ছিলেন। বুধবার বিকালে পরিবারের লোকজনের ডাকাডাকিতে ঘুম থেকে না উঠায় আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মোতাহার হোসেনের আকষ্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ বারের মত দেখতে বাড়িতে ছুটে যায়।
মোতাহার হোসেনের প্রতিবেশি ও তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মোতাহার হোসেন অনেক কষ্ট করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে শিক্ষাঙ্গণের জন্য বড় ক্ষতি হলো। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। আখাউড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, মোতাহার খুব ভালো মনের মানুষ ছিল। তার মত্যুতে এলাকায় বড় ক্ষতি হলো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব





















