০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

শেখ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনায় গ্রেফতার ২

  • মাসুদ রানাঃ
  • প্রকাশিত : ০৬:২৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২
  • 97

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র স্পর্শকাতর ব্যক্তিদের অথবা সমাজের বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বা তাদের প্রটোকল অফিসার, বা বিভিন্ন মন্ত্রীর ভুয়া এপিএস পদবী ব্যবহার করে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করছে এবং অর্থ আত্মসাৎ করছে। এমনকি এই প্রতারক চক্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ভূয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়েও বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।

প্রতারক চক্রের প্রতারণাসহ নানা অপকর্মের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এনএসআই ও র‍্যাব-৩ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানী এলাকা হতে শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস তাওহীদ (৩৪) ও তার অন্যতম সহযোগী মোঃ ইমরান মেহেদী হাসান (৩৮)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন র‍্যাব-৩।গ্রেফতারকৃতদের হতে জব্দ করা হয় ০৪ টি মোবাইল জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডকুমেন্টস এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এডিট করা ভুয়া ছবি।

গ্রেফতারকৃত হরিদাস তাওহীদ প্রতারক চক্রের মূলহোতা। সে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন সময়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে অবৈধ উপায়ে পাশবর্তী দেশে গমন করে তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করে। তার আত্মীয়ের মাধ্যমে সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের নিকট হতে কৌশলে একটি এতিম সার্টিফিকেট গ্রহণ করে এবং সেখানকার স্থানীয় একটি স্কুল হতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে এবং ইলেক্ট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে বাংলাদেশে এসে রাজধানীর উত্তরায় পুরাতন এসি ক্রয় পূর্বক মেরামত করে বিক্রির কাজ শুরু করে।

পাশাপাশি সে এটাও প্রচার করতে থাকে যে, সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার। তখন সে দামী গাড়ি এবং দামী পোশাক পরে মাঝে মাঝে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য বিত্তশালী ব্যক্তিদের সাথে তার উঠা বসা বলেও তিনি জানান।

এলাকার বিত্তশালী লোক এসব প্রজেক্টে বিনিয়োগ করলে তাদের লভ্যাংশ প্রদান করা হবে। এছাড়াও প্রজেক্ট শুরু হলে, প্রজেক্ট সমাপ্ত করার জন্য সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর হতে অর্থ এবং উন্নয়নমূলক কাজের সম্পন্ন করতে তাদেরকে আশ্বস্থ করত। এছাড়াও এসব প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে এলাকার উন্নতি হবে মর্মে প্রলুদ্ধ করত। তার প্রতারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই চাকুরী, বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবীর করার জন্য তার সহায়তা চায়।

গ্রেফতারকৃত তাওহীদ আরও জানায় যে, সে প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ২০১৯ সালে ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় ০১ বিঘা জমি ক্রয় করে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে রিসোর্টের কাজ শুরু করে। উক্ত কাজ শুরু হলে তার প্রলোভনে আরও অনেকেই টাকা লেনদেনের রসিদ ছাড়া তাকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রদান করে। ২০২০ সাল প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্টের কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৫০/- টাকা, সুইমিংপুলে গোসল ১০০/- টাকা এবং রিসোর্টের ভিতরে ঘোরাঘুরির জন্য ৫০/- টাকা করে টিকেট ক্রয় করতে হত। দলে দলে পর্যটক তার রিসোর্টে ভিড় করতে থাকে। অনেকে বিবাহ, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তার রিসোর্ট ভাড়া নিতে থাকে।

উক্ত ডিও লেটারটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এনএসআই এর নিকট অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের ছায়াতদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ধৃত আসামীরাও জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কৃতকর্মের বিষয়টি স্বীকার করে।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ / বিএইচ

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ধানের শীষের প্রার্থী ড. এম এ মুহিতের বিশাল নির্বাচনী জনসভা

শেখ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনায় গ্রেফতার ২

প্রকাশিত : ০৬:২৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র স্পর্শকাতর ব্যক্তিদের অথবা সমাজের বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বা তাদের প্রটোকল অফিসার, বা বিভিন্ন মন্ত্রীর ভুয়া এপিএস পদবী ব্যবহার করে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করছে এবং অর্থ আত্মসাৎ করছে। এমনকি এই প্রতারক চক্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ভূয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়েও বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।

প্রতারক চক্রের প্রতারণাসহ নানা অপকর্মের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এনএসআই ও র‍্যাব-৩ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানী এলাকা হতে শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস তাওহীদ (৩৪) ও তার অন্যতম সহযোগী মোঃ ইমরান মেহেদী হাসান (৩৮)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন র‍্যাব-৩।গ্রেফতারকৃতদের হতে জব্দ করা হয় ০৪ টি মোবাইল জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডকুমেন্টস এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এডিট করা ভুয়া ছবি।

গ্রেফতারকৃত হরিদাস তাওহীদ প্রতারক চক্রের মূলহোতা। সে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন সময়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে অবৈধ উপায়ে পাশবর্তী দেশে গমন করে তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করে। তার আত্মীয়ের মাধ্যমে সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের নিকট হতে কৌশলে একটি এতিম সার্টিফিকেট গ্রহণ করে এবং সেখানকার স্থানীয় একটি স্কুল হতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে এবং ইলেক্ট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে বাংলাদেশে এসে রাজধানীর উত্তরায় পুরাতন এসি ক্রয় পূর্বক মেরামত করে বিক্রির কাজ শুরু করে।

পাশাপাশি সে এটাও প্রচার করতে থাকে যে, সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার। তখন সে দামী গাড়ি এবং দামী পোশাক পরে মাঝে মাঝে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য বিত্তশালী ব্যক্তিদের সাথে তার উঠা বসা বলেও তিনি জানান।

এলাকার বিত্তশালী লোক এসব প্রজেক্টে বিনিয়োগ করলে তাদের লভ্যাংশ প্রদান করা হবে। এছাড়াও প্রজেক্ট শুরু হলে, প্রজেক্ট সমাপ্ত করার জন্য সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর হতে অর্থ এবং উন্নয়নমূলক কাজের সম্পন্ন করতে তাদেরকে আশ্বস্থ করত। এছাড়াও এসব প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে এলাকার উন্নতি হবে মর্মে প্রলুদ্ধ করত। তার প্রতারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই চাকুরী, বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবীর করার জন্য তার সহায়তা চায়।

গ্রেফতারকৃত তাওহীদ আরও জানায় যে, সে প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ২০১৯ সালে ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় ০১ বিঘা জমি ক্রয় করে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে রিসোর্টের কাজ শুরু করে। উক্ত কাজ শুরু হলে তার প্রলোভনে আরও অনেকেই টাকা লেনদেনের রসিদ ছাড়া তাকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রদান করে। ২০২০ সাল প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্টের কাজ শেষ হলে পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৫০/- টাকা, সুইমিংপুলে গোসল ১০০/- টাকা এবং রিসোর্টের ভিতরে ঘোরাঘুরির জন্য ৫০/- টাকা করে টিকেট ক্রয় করতে হত। দলে দলে পর্যটক তার রিসোর্টে ভিড় করতে থাকে। অনেকে বিবাহ, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তার রিসোর্ট ভাড়া নিতে থাকে।

উক্ত ডিও লেটারটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এনএসআই এর নিকট অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের ছায়াতদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ধৃত আসামীরাও জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কৃতকর্মের বিষয়টি স্বীকার করে।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ / বিএইচ