অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গত ২৪ এপ্রিল দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেন।
মিজানকে তলবের চিঠি দুদক থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর পাঠানো হয়। এতে মিজানুর রহমানকে যথাসময়ে দুদকে হাজির হওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
নামে-বেনামে ডিআইজি মিজানের শতকোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে দুদকের কাছে। সেই অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনি ডিআইজি মিজানের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদের তথ্য চেয়ে এনবিআর, বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে চিঠি পাঠান। সেসব দফতর থেকে তথ্য আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়া হয়।
জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধানে ডিআইজি মিজানের চাকরিজীবনে যাবতীয় আয়-ব্যয়, এনবিআরে দেয়া সম্পদের তথ্য, নারীঘটিত বিষয়ে অর্থ খরচের পেছনে টাকার উৎস, বিদেশে পরিবার-পরিজনের জন্য পাঠানো অর্থসহ পুরো তথ্য বের করে আনার চেষ্টা করছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। চাকরিজীবনে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা উপায়ে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
তার নামে-বেনামে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। একাধিক ব্যাংক হিসাবে রয়েছে বিপুল অর্থ ও ফিক্সড ডিপোজিট। এমনকি দেশের বাইরে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ডিআইজি মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ বছরের জানুয়ারিতে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।























