০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভুয়া দলিলে জমি জবরদখলের অভিযোগ: নওগাঁয় চার সহোদরের জামিন বাতিল, গ্রেপ্তার ১; পলাতক ৩

নওগাঁয় ভুয়া দলিল প্রস্তুত করে জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার সহোদর ভাইয়ের জামিন বাতিল করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে আসামিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলার চার আসামির মধ্যে একজনকে আদালতের পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৮-এ বিচারাধীন সিআর মামলা নং-৭৬৬/২০২৫ (নওগাঁ) মামলায় আসামিরা চারজনই আপন সহোদর ভাই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার করে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। পরে ওই ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে জমির প্রকৃত মালিককে তার নিজস্ব জমি থেকে উচ্ছেদ করে জবরদখল করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অন্যতম আসামি মতিউর রহমান সোনার, পিতা মোকসেদ সোনার, গ্রাম—চক্রামচন্দ্র, নওগাঁ সদর, নওগাঁ। আদালতের পরোয়ানামূলে গত ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে নওগাঁ থানা থেকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামি মতিউর রহমান সোনারের আপন সহোদর ভাই এবং তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

আদালতের নথি সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিম্ন আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রিভিশন আবেদন করলে আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। রিভিশন মামলায় বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, আসামিরা ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত এবং তারা জামিনে মুক্ত থাকলে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।

মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, আসামিদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(ক)/৪(২)/১৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে ভুয়া দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার করে অন্যের জমি দখল এবং জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জবরদখলের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

রিভিশন মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি দলিলের বৈধতা নিয়ে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট দলিলটি ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই দলিলকে ভিত্তি করে জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি জবরদখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, ভুয়া দলিল প্রস্তুত করে অন্যের জমি নিজের দাবি করা এবং প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি জবরদখল করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ও ভূমির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শুনানি শেষে আদালত মনে করেন, নিম্ন আদালত কর্তৃক আসামিদের জামিন মঞ্জুরের আদেশটি আইনসংগত ও ন্যায়সংগত হয়নি। ফলে রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের জামিন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ দিনের মধ্যে আসামিদের সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে মামলার আসামি মতিউর রহমান সোনারকে গত ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামি আপন সহোদর ভাই হওয়া সত্ত্বেও তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালতের এ আদেশের ফলে মামলাটিতে নতুন করে আইনগত অগ্রগতি হয়েছে। তবে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল প্রস্তুত, প্রকৃত জমির মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণিত হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নিপীড়ক নয়, জনগণের পুলিশ হতে চাই : সিএমপি কমিশনার

ভুয়া দলিলে জমি জবরদখলের অভিযোগ: নওগাঁয় চার সহোদরের জামিন বাতিল, গ্রেপ্তার ১; পলাতক ৩

প্রকাশিত : ০২:২৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নওগাঁয় ভুয়া দলিল প্রস্তুত করে জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার সহোদর ভাইয়ের জামিন বাতিল করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে আসামিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলার চার আসামির মধ্যে একজনকে আদালতের পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৮-এ বিচারাধীন সিআর মামলা নং-৭৬৬/২০২৫ (নওগাঁ) মামলায় আসামিরা চারজনই আপন সহোদর ভাই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার করে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। পরে ওই ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে জমির প্রকৃত মালিককে তার নিজস্ব জমি থেকে উচ্ছেদ করে জবরদখল করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অন্যতম আসামি মতিউর রহমান সোনার, পিতা মোকসেদ সোনার, গ্রাম—চক্রামচন্দ্র, নওগাঁ সদর, নওগাঁ। আদালতের পরোয়ানামূলে গত ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে নওগাঁ থানা থেকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামি মতিউর রহমান সোনারের আপন সহোদর ভাই এবং তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

আদালতের নথি সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিম্ন আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রিভিশন আবেদন করলে আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। রিভিশন মামলায় বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, আসামিরা ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত এবং তারা জামিনে মুক্ত থাকলে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।

মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, আসামিদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(ক)/৪(২)/১৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে ভুয়া দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার করে অন্যের জমি দখল এবং জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জবরদখলের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

রিভিশন মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি দলিলের বৈধতা নিয়ে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট দলিলটি ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই দলিলকে ভিত্তি করে জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি জবরদখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, ভুয়া দলিল প্রস্তুত করে অন্যের জমি নিজের দাবি করা এবং প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি জবরদখল করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ও ভূমির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শুনানি শেষে আদালত মনে করেন, নিম্ন আদালত কর্তৃক আসামিদের জামিন মঞ্জুরের আদেশটি আইনসংগত ও ন্যায়সংগত হয়নি। ফলে রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের জামিন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ দিনের মধ্যে আসামিদের সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে মামলার আসামি মতিউর রহমান সোনারকে গত ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামি আপন সহোদর ভাই হওয়া সত্ত্বেও তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালতের এ আদেশের ফলে মামলাটিতে নতুন করে আইনগত অগ্রগতি হয়েছে। তবে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল প্রস্তুত, প্রকৃত জমির মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণিত হবে।

ডিএস./