০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রংপুরে ছয়তলা ভবন থেকে ইট পড়ে রিকশাচালক নিহত

 

রংপুর নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার কাজীবাড়ি রোডে নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন থেকে ইট পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক রিকশাচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই)বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নির্মাণকাজে চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমেরিকা প্রবাসী রবিউল ইসলামের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। এ সময় রাস্তা দিয়ে একটি খালি রিকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন এক রিকশাচালক। হঠাৎ ভবনের ওপর থেকে কয়েকটি ইট নিচে পড়ে তার মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আহত রিকশাচালককে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভবনের প্রতিবেশী সাগর মিয়া বলেন,“চলন্ত রাস্তার পাশেই ছয়তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু সেখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।এর আগেও ভবনের একটি দেয়াল ভেঙে পড়েছিল। তখন আমরা সতর্ক করেছিলাম।কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। নিজেদের ক্ষমতার জোরে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যখন ইট পড়ে মানুষটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন, তখন আমরা বাড়ির পাশেই বসেছিলাম। কিন্তু ভবনের ভেতর থেকে কেউ বের হয়ে আসেনি। অনেক ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এখনও গেট বন্ধ রয়েছে। পরে আমরাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবন মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়কের পাশে নির্মাণকাজ চললেও ভবনটিতে কোনো সুরক্ষা জাল (সেফটি নেট), ব্যারিকেড কিংবা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রতিনিয়ত পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তারা বলেন, দায়িত্বশীলদের নজরদারির অভাবে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির বলেন, “ঘটনায় একজন রিকশাচালকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও বলেন,“প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও তদন্তে যদি কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, ঘটনাটি নগরজুড়ে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহল বলছে,ব্যস্ত সড়কের পাশে নির্মাণকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তারা নগর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো নির্মাণকাজ চালাতে না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ নিহত রিকশাচালকের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহবায়ক মনির- সদস্য সচিব পুষ্পেন

রংপুরে ছয়তলা ভবন থেকে ইট পড়ে রিকশাচালক নিহত

প্রকাশিত : ০৩:৫৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

 

রংপুর নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার কাজীবাড়ি রোডে নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন থেকে ইট পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক রিকশাচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই)বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নির্মাণকাজে চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমেরিকা প্রবাসী রবিউল ইসলামের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। এ সময় রাস্তা দিয়ে একটি খালি রিকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন এক রিকশাচালক। হঠাৎ ভবনের ওপর থেকে কয়েকটি ইট নিচে পড়ে তার মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আহত রিকশাচালককে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভবনের প্রতিবেশী সাগর মিয়া বলেন,“চলন্ত রাস্তার পাশেই ছয়তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু সেখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।এর আগেও ভবনের একটি দেয়াল ভেঙে পড়েছিল। তখন আমরা সতর্ক করেছিলাম।কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। নিজেদের ক্ষমতার জোরে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যখন ইট পড়ে মানুষটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন, তখন আমরা বাড়ির পাশেই বসেছিলাম। কিন্তু ভবনের ভেতর থেকে কেউ বের হয়ে আসেনি। অনেক ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এখনও গেট বন্ধ রয়েছে। পরে আমরাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবন মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়কের পাশে নির্মাণকাজ চললেও ভবনটিতে কোনো সুরক্ষা জাল (সেফটি নেট), ব্যারিকেড কিংবা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রতিনিয়ত পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তারা বলেন, দায়িত্বশীলদের নজরদারির অভাবে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির বলেন, “ঘটনায় একজন রিকশাচালকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও বলেন,“প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও তদন্তে যদি কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, ঘটনাটি নগরজুড়ে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহল বলছে,ব্যস্ত সড়কের পাশে নির্মাণকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তারা নগর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো নির্মাণকাজ চালাতে না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ নিহত রিকশাচালকের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডিএস./