০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

কাস্টমস হাউসে লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে এসে আটক ২৩

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সিপাহী পদে লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ১০ থেকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিন্নজনকে দিয়ে কৌশলে তারা লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতি করিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) ১৮ জন ও বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে পাঁচজনকে পাহাড়তলী থানার পুলিশ গ্রেপ্তার দেখায়। এর আগে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পাহাড়তলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রোজিনা খাতুন বুধবার দুপুরে বলেন, “২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তার ২৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিএমপির পাহাড়তলী জোনের সহকারি কমিশনার মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘কাস্টমস হাউসের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মুলত মৌখিক পরীক্ষায় এ জালিয়াতি ধরা পড়ে। তাই তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।’

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, মূলত ২০১৪ ও ২০১৭ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নানান জটিলতায় পরীক্ষা সম্পন্ন করা যাচ্ছিল না। দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা হওয়ায় চাকরীর প্রার্থীদের আবেদনের ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার অনেক পরিবর্তন এসেছে।
ফলে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র মূল প্রার্থীর বদলে অন্যজনকে দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের হাতের লেখা মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার খাতার সঙ্গে সাদৃশ্য না পাওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে।

কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে, ৯৮টি সিপাহী পদের বিপরীতে তিন হাজার ৩৪৪ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ ৩৫০ জন প্রার্থী সোম, মঙ্গল ও বুধবার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়টি মৌখিক পরীক্ষার সময় ধরা পড়লে, ২৩ জনকে আটক করা হয় বলে জানান নিয়োগ পরীক্ষায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা দিতে আসা সাতজনকে আটক করা চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রথমিকভাবে আটককৃত ১৮ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় তাদের হাতের লেখায় গড়মিল পরিলক্ষিত হয়। একইসঙ্গে লিখিত পরীক্ষার খাতায় উত্তর দেওয়া কোন প্রশ্নের জবাবও দিতে পরেননি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে যে ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে কৌশলে লিখিত পরীক্ষায় অন্য জনকে নিজের বদলে পরীক্ষায় বসিয়ে দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার তারেক হাসান বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় নিয়োগ কমিটি জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

কাস্টমস হাউসে লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে এসে আটক ২৩

প্রকাশিত : ০৭:২৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সিপাহী পদে লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ১০ থেকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিন্নজনকে দিয়ে কৌশলে তারা লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতি করিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) ১৮ জন ও বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে পাঁচজনকে পাহাড়তলী থানার পুলিশ গ্রেপ্তার দেখায়। এর আগে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পাহাড়তলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রোজিনা খাতুন বুধবার দুপুরে বলেন, “২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তার ২৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিএমপির পাহাড়তলী জোনের সহকারি কমিশনার মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘কাস্টমস হাউসের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মুলত মৌখিক পরীক্ষায় এ জালিয়াতি ধরা পড়ে। তাই তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।’

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, মূলত ২০১৪ ও ২০১৭ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নানান জটিলতায় পরীক্ষা সম্পন্ন করা যাচ্ছিল না। দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা হওয়ায় চাকরীর প্রার্থীদের আবেদনের ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার অনেক পরিবর্তন এসেছে।
ফলে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র মূল প্রার্থীর বদলে অন্যজনকে দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের হাতের লেখা মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার খাতার সঙ্গে সাদৃশ্য না পাওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে।

কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে, ৯৮টি সিপাহী পদের বিপরীতে তিন হাজার ৩৪৪ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ ৩৫০ জন প্রার্থী সোম, মঙ্গল ও বুধবার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়টি মৌখিক পরীক্ষার সময় ধরা পড়লে, ২৩ জনকে আটক করা হয় বলে জানান নিয়োগ পরীক্ষায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা দিতে আসা সাতজনকে আটক করা চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রথমিকভাবে আটককৃত ১৮ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় তাদের হাতের লেখায় গড়মিল পরিলক্ষিত হয়। একইসঙ্গে লিখিত পরীক্ষার খাতায় উত্তর দেওয়া কোন প্রশ্নের জবাবও দিতে পরেননি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে যে ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে কৌশলে লিখিত পরীক্ষায় অন্য জনকে নিজের বদলে পরীক্ষায় বসিয়ে দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার তারেক হাসান বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় নিয়োগ কমিটি জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh