উপকূলবাসীর মধ্যে কাকড়া চাষে আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। উপকূলবাসীর নদী ও সংলগ্ন খালসমূহে চিংড়ি পোনা সংগ্রহকারীদের জালে কাকড়ার পোনা ধরা পড়ে। তাছাড়া জোয়ারের পানিতে কাকড়ার পোনা চিংড়ির ঘেরে প্রবেশ করে সেখানে বড় হয়। ফলে চিংড়ির সাথে বাড়তি সম্পদ হিসেবে কাঁকড়াও পাওয়া য়ায়। রফতানি বাণিজ্যে স্থান করে নেয়ার কারণে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় কাকড়া চাষ শুরু হয়েছে। কাঁকড়া রফতানি বাড়ায় বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় রূপও নিয়েছে।
স্থানীয় কাকড়া চাষীদের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন প্রজাতির কাকড়ার মধ্যে উপকূলবাসীর অঞ্চলের মাড ক্রাব বা শীলা কাকড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও বেশি মূল্য, কম সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ ইত্যাদি কারণে উপক‚লীয় চাষীদের কাছে কাঁকড়া চাষ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে কাঁকড়ার চাহিদা কম থাকলেও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জীবন্ত কাকড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্তমানে রফতানি হচ্ছে। অন্যদিকে অপরিপক্ক ও ছোট কাকড়া ধরার উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে আস্তে আস্তে কাকড়ার প্রজনন বৃদ্ধি থুবড়ে পড়ার শঙ্কাও থেকে যায়। তাই কাকড়া চাষকে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল রাখতে এবং চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে হলে চিংড়ির ন্যায় হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী বলে মনে করেন স্থানীয় কাঁকড়া চাষীরা।

রাঙ্গাবালীর কাকড়া চাষী সবুজ দাস বলেন, ‘ ৪-৫ বছর আগে থেকেই ছোট ছোট ঘেরে কাকড়া চাষ করে আসছি। বিভিন্ন স্থানের জেলেদের কাছ থেকে ছোট সাইজ এবং অপরিপক্ক কাকড়া কিনে চাষ করে বাজারে বিক্রির উপযুক্ত করতে হয়। আমরা স্থানীয় পাইকারদের কাছে কাঁকড়ার সাইজ অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি করে থাকি। অল্প পুজি থাকার কারনে বেশি কাকড়া কিনে চাষ করা সম্ভব হয় না। সরকারীভাবে আমাদের সাহায্য সহযোগিতা ও পরামর্শ দিলে আরো কাকড়া চাষী বাড়বে বলে আমি মনেকরি। কারন কাকড়া চাষে ঝুকি কম লাভ বেশি।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, ‘ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাকড়া চাষ করতে দেখা যায়। কিন্তু সরকারী ভাবে কাকড়া চাষীদের কোন সহযোগীতা কিংবা পরামর্শ না থাকলেও বিভিন্ন এনজিও তাদের পরামর্শ এবং আর্থীক সহযোগিতা দিয়ে থাকে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান, মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বর্তমানে কাকড়া চাষের চেয়ে ফ্যাটেনিং করে বাজারজাতকরণ বেশি লাভজনক। সাধারণত অপরিপক্ক স্ত্রী কাকড়া (অপরিপক্ক গোনাড এবং ওজন ১৭০ গ্রামের নিচে) এবং অপুষ্ট পুরুষ কাকড়া (কম মাংস এবং ওজন ৩৫০ গ্রামের নিচে) বিদেশে রফতানি হয় না। এগুলো স্থানীয় বাজারে খুব কম দামে বিক্রি হয়। এ জাতীয় কাঁকড়া উপযুক্ত পরিবেশে ২-৪ সপ্তাহ লালন-পালন করে গোনাড পরিপক্ক বা মাংস পরিপুষ্ট করাকে ফ্যাটেনিং বলা হয়। কাকড়া একে অপরকে খেয়ে ফেলতে পারে এ সমস্যা এড়াতে নিয়মিত অতিরিক্ত খাদ্যের যোগান রাখা জরুরী।
খোলস যত তাড়াতাড়ি শক্ত হবে ততই বিক্রয় উপযোগী হবে, সে কারণে পানির গুণাগুণ উপযুক্ত মাত্রায় রাখা অন্যদিকে খামারে নরম কাকড়াগুলোর লুকানোর জায়গা রাখাও জরুরী। বাজারজাত করার আগে কাকড়াকে আলোর বিপরীতে ধরে দেখতে হবে যে, কাকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করে কিনা। যদি কাকড়ার ভেতর দিয়ে আলো অতিক্রম করতে না পারে তাহলে বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। বিপরীতে গোনাড উপযুক্ত না হলে কাকড়ার দুই পাশের পায়ের গোড়ার দিক দিয়ে আলো অতিক্রম করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও মূল্য বাড়ায় কাকড়া চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কাকড়া চাষের তেমন পরিশ্রম নেই, উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম। এ খাত থেকে রফতানি আয়ের পরিমাণ বছরে প্রায় শত কোটি টাকা।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব





















