০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে নিত্যপন্যের দাম উর্দ্ধগতি: ক্রেতারা দিশেহারা

শেরপুরে নিত্য পন্যের দাম উর্দ্ধগতির কারনে ক্রেতারা দিশেহারা। সামনে রমজান মাস, সেকারনে সাধারণ মানুষ রমজান মাসের বাজার নিয়ে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাজারে দাম বাড়ার কারণে। বাজারে চালের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে তবে আসন্ন রোজার ইফতারসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দাম গত ৭ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খুচরা দোকানদাররা বলছেন, পাইকারি বাজারে মালের দাম বেশি অথচ পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছে আড়তেই মালের দাম বেশি তাই তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। ইফতারের অন্যতম খাবার খেজুর, খেজুরের দাম গত রমজানের চেয়ে এবারের রমজানে বেড়েছে দ্বিগুন। এছাড়া আটা, ময়দা, চিনি, তেল, চিনিসহ অন্যান্য খাদ্য পন্যের দাম বেড়েই চলছে লাগামহীন ভাবে।

শেরপুর জেলা শহরের অন্যতম নয়ানী বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের পন্য গত ৭ থেকে ১৫ দিন আগের বাজার দর থেকে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ১০ টাকা। এর মধ্যে মোটা চাল গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ৪৯ নং ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, ২৮ নং ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, নাজির সাইল ৬৬ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। আর চিকন চাল তুলশীমালা বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, ময়দা ৬৬ টাকা থেকে ৭০ টাকা, মুড়ি হাফ কেজির প্যাকেট ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল খোলা ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা আর প্যাকেট জাত ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, পামওয়েল খোলা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা আর সুপার কোয়ালিটি ১৩৫ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা লিটার, সরিষার তেল বেড়েছে ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, ফাঁটা মশুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা আর দিল্লী সুপার ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ইফতারর অন্যতম খাদ্য খেজুরের দাম এবার খোলা এবং প্যাকেটজাত উভয়ের দাম গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে।

খেসারির ডাল ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা, বেসন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনি ১১০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা কেজিতে বেড়েছে। কাঁচা তরিতরকারির মধ্যে আলু, পেয়াজ, রশুন, আদা, কাঁচা মরিচ, লেবু, শসা, বেগুন এর দাম ৪/৫ টাকা করে কেজিতে বেশি ।

পণ্য সামগ্রির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে নয়ানী বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ছালাম মিয়া বলেন, আমরা পাইকারী দোকান থেকেই বেশী দরে পণ্য কিনে আনছি, সেখানে দাম বাড়ালে আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের কেনার উপর নির্ভর করে বিক্রি করতে হয়।

পৌর শহরের নায়ানী বাজারে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, বাজারের দাম যেভাবে বাড়ছে, আমাদের বেতন তো আর প্রতি মাসে বাড়ে না, এখন আমাদের সংসার চালানোই দায়।

আরেক ক্রেতা আলমাস মিয়া বলেন, আমরা দিনমজুর মানুষ, সারাদিন যা ইনকাম করি তা নিয়ে বাজার করতে আসি। বাজারের দাম বাড়ার কারণে আমরা এখন ভালোমন্দ বাজার করতে পারিনা।

বাজার করতে আসা রফিক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতি মাসেই বাবা আমার খরচের টাকা বাড়িয়ে দিলেও মাসের শেষে ওই টাকাও কম পড়ে যায় শুধু মাত্র কাঁচা বাজার করতেই।

তবে, জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং বিভাগ জানায়, তারা নিত্য পন্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যাচ্ছে। এছাড়া রমজান মাসকে সামনে রেখে কোন অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য আমাদের টিম সব সময় নজর রাখছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

শেরপুরে নিত্যপন্যের দাম উর্দ্ধগতি: ক্রেতারা দিশেহারা

প্রকাশিত : ০৩:২২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩

শেরপুরে নিত্য পন্যের দাম উর্দ্ধগতির কারনে ক্রেতারা দিশেহারা। সামনে রমজান মাস, সেকারনে সাধারণ মানুষ রমজান মাসের বাজার নিয়ে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাজারে দাম বাড়ার কারণে। বাজারে চালের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে তবে আসন্ন রোজার ইফতারসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দাম গত ৭ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খুচরা দোকানদাররা বলছেন, পাইকারি বাজারে মালের দাম বেশি অথচ পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছে আড়তেই মালের দাম বেশি তাই তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। ইফতারের অন্যতম খাবার খেজুর, খেজুরের দাম গত রমজানের চেয়ে এবারের রমজানে বেড়েছে দ্বিগুন। এছাড়া আটা, ময়দা, চিনি, তেল, চিনিসহ অন্যান্য খাদ্য পন্যের দাম বেড়েই চলছে লাগামহীন ভাবে।

শেরপুর জেলা শহরের অন্যতম নয়ানী বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের পন্য গত ৭ থেকে ১৫ দিন আগের বাজার দর থেকে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ১০ টাকা। এর মধ্যে মোটা চাল গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ৪৯ নং ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, ২৮ নং ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, নাজির সাইল ৬৬ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। আর চিকন চাল তুলশীমালা বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, ময়দা ৬৬ টাকা থেকে ৭০ টাকা, মুড়ি হাফ কেজির প্যাকেট ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল খোলা ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা আর প্যাকেট জাত ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, পামওয়েল খোলা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা আর সুপার কোয়ালিটি ১৩৫ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা লিটার, সরিষার তেল বেড়েছে ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, ফাঁটা মশুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা আর দিল্লী সুপার ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ইফতারর অন্যতম খাদ্য খেজুরের দাম এবার খোলা এবং প্যাকেটজাত উভয়ের দাম গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে।

খেসারির ডাল ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা, বেসন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনি ১১০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা কেজিতে বেড়েছে। কাঁচা তরিতরকারির মধ্যে আলু, পেয়াজ, রশুন, আদা, কাঁচা মরিচ, লেবু, শসা, বেগুন এর দাম ৪/৫ টাকা করে কেজিতে বেশি ।

পণ্য সামগ্রির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে নয়ানী বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ছালাম মিয়া বলেন, আমরা পাইকারী দোকান থেকেই বেশী দরে পণ্য কিনে আনছি, সেখানে দাম বাড়ালে আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের কেনার উপর নির্ভর করে বিক্রি করতে হয়।

পৌর শহরের নায়ানী বাজারে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, বাজারের দাম যেভাবে বাড়ছে, আমাদের বেতন তো আর প্রতি মাসে বাড়ে না, এখন আমাদের সংসার চালানোই দায়।

আরেক ক্রেতা আলমাস মিয়া বলেন, আমরা দিনমজুর মানুষ, সারাদিন যা ইনকাম করি তা নিয়ে বাজার করতে আসি। বাজারের দাম বাড়ার কারণে আমরা এখন ভালোমন্দ বাজার করতে পারিনা।

বাজার করতে আসা রফিক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতি মাসেই বাবা আমার খরচের টাকা বাড়িয়ে দিলেও মাসের শেষে ওই টাকাও কম পড়ে যায় শুধু মাত্র কাঁচা বাজার করতেই।

তবে, জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং বিভাগ জানায়, তারা নিত্য পন্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যাচ্ছে। এছাড়া রমজান মাসকে সামনে রেখে কোন অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য আমাদের টিম সব সময় নজর রাখছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব