পাঁচ মণ ওজনের একটি ‘মাছকে’ পিটিয়ে হত্যা করেছে তিস্তাপাড়ের এক কৃষক। আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল শৈলমারীতে মাছটি আটক করা হয়। এটা অনেকটা দেখতে ‘ডলফিনের’ মতো। তবে স্থানীয় মৎস্য অফিস প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এটি ‘শুশুক’ হতে পারে।
জানা গেছে, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শ্রীবারদি(কৈমারী) গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলাম তিস্তা নদীর এপারে কালীগঞ্জের শৈলমারীর চরে গত কয়েকদিন থেকে নিজের ক্ষেতের ভুট্টা তুলছিলেন। এই অবস্থায় আজ সোমবার সকাল ছয়টার দিকে তিনি তিস্তা নদীর একটি শাখায় হঠাৎ দেখতে পান কম পানিতে একসাথে দুটি ‘শুশুক’ যাচ্ছে। তাৎক্ষণিক রশিদুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে ফেরদৌস একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে সেটিকে উপুর্যপরি পেটাতে থাকেন। প্রায় আধা ঘন্টা পেটানোর পর সেটিকে সেখানেই বেঁধে রাখেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে সেটিকে তীরে টেনে তোলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিস্তায় এর আগে এ ধরনের কোনো মাছ বা প্রাণী দেখা যায়নি।
রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘আটককৃত মাছটির ওজন প্রায় ৫ মণ। আর দৈর্ঘ্যে আট ফুট ছয় ইঞ্চি।’ এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়াদুল মোফাছছালিন বলেন, ‘ছবি দেখে মনে হচ্ছে এটি ডলফিন নয়, এটি বিরল প্রজাতির শুশুক হতে পারে, যা মাছ নয়। শুশুক ধরা বা মারা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ।’
এদিকে স্থানীয়দের ভাষায় ‘বিশাল আকৃতির মাছ’ ধরা পড়ার খবরে আজ সকাল থেকে ওই চরাঞ্চলে শত শত মানুষ জড়ো হতে থাকেন। তিনটি শাখা নদী পেরিয়ে অন্যান্য এলাকার অনেক লোকজনও সেখানে পৌঁছেছেন সেটি দেখতে। তবে শুশুকটি উদ্ধারে সোমবার বিকেল পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে জানা গেছে।





















