কুরবানীর ঈদে হাজার হাজার গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট, দুম্বা ইত্যাদি পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। এসব পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের খানসামার কামাররা। উপজেলার কামারশালাগুলো এখন লোহার হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর। পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে কাজ দা, বটি, চাকু, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো নানা রকমের যন্ত্র।
প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানায় এই উপজেলার কামাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্পকর্ম ।
সারা বছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় কামারদের কর্মব্যস্ততা। ভোর থেকে শুরু করে গভীররাত অবধি চলছে তাদের রকমারি কর্মযজ্ঞ।
কামাররা জানায়, দা আকৃতি ও লোহাভেদে ২০০ থেকে ৫০০টাকা, ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, চাকু প্রতিটি সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পুরানো দা, বটি, ছুড়ি শান দিতে বা লবন-পানি দিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত করোনার প্রভাবে এবং লকডাউনের বিধি নিষেধে অনিশ্চিত বাজার নিয়ে শংকার মধ্য দিয়েই কাজ করছে বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী জাত পেশার কারিগর কর্মকাররা।
পাকেরহাট এলাকার রঞ্জন জানান, বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায় প্রতিবছর।
উপজেলার কাচিনিয়া বাজার এলাকার সনাতন বলেন, স্বাভাবিকভাবে কোরবানি ঈদ এলে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এ সময় সকাল ৯ টা থেকে রাত ১২টা-১ টা পর্যন্ত একটানা কাজ করতে হয়। ক্রেতাদেরও কমতি থাকে না।
খানসামা বাজার এলাকার কামার হাবিল উদ্দিন বলেন, পূর্বপুরুষ সূত্রে অনেক বছর ধরে এই কাজ করছি আসছি। ঈদকে সামনে রেখে পাইকারী দোকানদার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালই থাকে।























